রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গত পাঁচ বছরে যৌন হয়রানি, একাডেমিক অনিয়ম, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে চার শিক্ষক এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের এক উপ-প্রধান চিকিৎসককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির দায়ে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্টে এক শিক্ষার্থীকে চেম্বারে ডেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও উচ্চতর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্তে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি পেনশনসহ সরকারি সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছিল।
২০২২ সালে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি, ছুটি এবং ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মে হাবিবা জেসমিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই বছর স্বাক্ষর জাল করে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার অভিযোগে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক সালমা খাতুনকে বরখাস্ত করা হয়। ২০২৪ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপ-প্রধান চিকিৎসক ডা. রাজু আহমেদও চাকরিচ্যুত হন। উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।