জাহেদুল ইসলাম বাঁধনের লেখায় ফেব্রুয়ারি মাসকে বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবময়, শোকময় ও প্রেরণাদায়ক মাস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায় এবং আবুল বরকত, আবদুল জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলে বাংলা ভাষা ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে, যা বর্তমানে প্রায় ১৮৮টি দেশে পালিত হয়।
লেখাটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর ভাষা সংকটের সূচনা এবং পূর্ববাংলার মানুষের প্রতিবাদের ইতিহাস তুলে ধরে। ফেব্রুয়ারি মাসকে এখানে স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক গৌরবের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়েও লেখক আলোচনা করেছেন। একুশের চেতনা থেকে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান, নাটক ও গল্প, যা আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐক্য ও ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রেরণা জোগায়।