টানা ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকাগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭.৫ মিলিমিটার এবং তার আগের দিনে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন দাবি করেছে, খাল ও নালা পরিষ্কার রাখার কারণে পানি দ্রুত নেমে গেছে, তবে পূর্ব নাসিরাবাদে দেয়াল ধসে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পতেঙ্গা এলাকায় সড়ক ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। জেলা প্রশাসন ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ার কথা জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে অভিযান চলছে এবং স্কুল-মসজিদকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরের আর্দ্র বাতাসের কারণে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকবে, তবে ১১ জুলাইয়ের পর বৃষ্টিপাত ধীরে কমবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।