আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, অনলাইন গিগ ওয়ার্ক সরবরাহে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। আনুমানিক ১০–১২ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত আপওয়ার্ক, ফাইভার ও ফ্রিল্যান্সার প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। এই খাত শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, বেকারত্ব কমাচ্ছে এবং বছরে প্রায় ১–১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছে।
তবে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ফলে দক্ষতার মান, পেশাদারিত্ব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ গিগ কর্মী এখনো কম দক্ষতার কাজের ওপর নির্ভরশীল, যা দ্রুত এআই টুল যেমন চ্যাটজিপিটি, ক্যানভা এআই ও গুগল অটোএমএল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ভাষাগত দুর্বলতা, সময়ানুবর্তিতার অভাব ও চুক্তি জ্ঞানের ঘাটতি বিদেশি ক্লায়েন্টদের আস্থা কমাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সামাজিক সুরক্ষা বা স্বাস্থ্যবীমা কাঠামো বাংলাদেশে নেই, ফলে আইটিইউসি একে ‘ডিজিটাল সুইটশপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, টিকে থাকতে তরুণদের মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন ও ডেটা সায়েন্সের মতো উচ্চমূল্যের দক্ষতা অর্জন জরুরি। পাশাপাশি স্থিতিশীল ইন্টারনেট, নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে ও নীতিগত সংস্কার ছাড়া গিগ ইকোনমির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।