২০২৬ সালের শুরু থেকে ভারতজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বেড়ে চলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালা উগ্র হিন্দুদের হাতে নিহত হন, অন্যদিকে অনেকে পুলিশের হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে অন্তত ২৩টি মসজিদ, মাদরাসা ও দরগাহ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। এসব ধ্বংসযজ্ঞের আগে কোনো আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর দমননীতি আরও তীব্র হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের বহু ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তি, অবৈধ উচ্ছেদ ও প্রকাশ্যে প্রহার চালাচ্ছে। মার্কিন মানবাধিকার দূত স্টিফেন জে. র্যাপ সতর্ক করেছেন, আসাম ও উত্তর প্রদেশে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
এই প্রতিবেদনগুলো ভারতের প্রায় ২৫ কোটি মুসলিমের জন্য ক্রমবর্ধমান ভয়, বাস্তুচ্যুতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।