সুনামগঞ্জে পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর দুদিন ধরে রোদ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা ভেজা ধান শুকাতে ব্যস্ত থাকলেও এরই মধ্যে অনেক ধান পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে প্রতি বছরের মতো এবার হাওরে নেই কোলাহল বা প্রাণচাঞ্চল্য। কেউ বুকসমান, কেউ হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন, অনেকে ক্লান্ত ও হতাশ।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ জমি পানির নিচে ডুবে গেছে এবং শুকাতে না পারায় ধান পচে গন্ধ বের হচ্ছে। কেউ কেউ সরকারের আর্থিক সহায়তার আশায় আছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২,০৪৭ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেজা ধান শুকাতে মিল মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পানি কিছুটা কমলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাঁধে চাপ বাড়তে পারে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।