আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জামে প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের জন্য চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পশ্চিমা দেশগুলোর কৌশলগত ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৭০ শতাংশ রেয়ার আর্থ খনন এবং প্রায় ৯০ শতাংশ পৃথকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২০১০ সালে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে জাপানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় চীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এসব খনিজ উন্নত অস্ত্র, স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ও বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইনে ব্যবহৃত হয়। মাটিতে কম ঘনত্বে থাকায় এগুলোর উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয়বহুল, জটিল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর; এ কারণেই পশ্চিমা দেশগুলো একসময় উৎপাদন কমিয়েছিল।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মজুত গঠনে ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ ৫৪ অংশীদারকে নিয়ে একটি জোটও গঠন করেছে। ইউরোপ ২০২৫ সালের ক্রিটিক্যাল র’ ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্টের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পুনর্ব্যবহার, খনি বর্জ্য থেকে উপাদান সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও মিত্রদের সঙ্গে অংশীদারত্বকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।