বিবিসি বাংলার ২৪ জুন ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, ঋণ পুনঃতফসিল ও দেউলিয়াত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকার ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘ডিস্ট্রেসড লোন’। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ শতাংশেরও বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অডিটে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির অভাব এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি সতর্ক করেন, যখন ১০০ টাকার মধ্যে ৩০–৩৫ টাকা অনাদায়ী হয়ে যায়, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিপদের মুখে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ এখনো খেলাপি নয়, তবে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, আর পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা নতুন শর্তে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পেতে পারে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকের তারল্য ও নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।