২০২৬ সালের ২১ মে প্রকাশিত ‘আমার দেশ’ পত্রিকার এক মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোরবানির পশুর চামড়াশিল্প বহু বছর ধরে একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে, বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং তৃণমূল সংগ্রাহকদের বঞ্চিত করে পুরো খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। একসময় কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া গরুর চামড়া এখন অনেক জায়গায় কয়েকশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও কোথাও আবার চামড়া ফেলে দিতে হচ্ছে, যা জাতীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, কওমি মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ তাদের প্রধান অর্থনৈতিক সহায়তা আসে কোরবানির চামড়া বিক্রি থেকে। বছরের পর বছর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহ সীমিত বা বন্ধ করেছে। সরকার নির্ধারিত দামও বাস্তবে সিন্ডিকেটের সুবিধা নিশ্চিত করেছে, ফলে সংগ্রাহকরা লোকসানে পড়েছেন আর মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপুল মুনাফা করেছে।
লেখক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাস্তবসম্মত দাম নির্ধারণ, সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং মাদরাসা ও এতিমখানার জন্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরির। তিনি মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও এতিম শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে।