আমার দেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতেমা রহমান বীথি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে টাঙ্গাইলের রাজপথে সামনে থেকে সক্রিয় থাকার মূল প্রেরণা ছিল বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। ২০১৮ সাল থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বীথি বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবিতে দমনপীড়ন দেখে নীরব থাকা অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের হুমকি-হামলা, পুলিশের ব্যারিকেড ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কার মধ্যেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও গুলি চালানোর সময় তিনি প্রায় ৫০ নারী শিক্ষার্থীকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আশ্রয় দেন এবং পরে নিরাপদে বাসায় ফেরার ব্যবস্থা করেন। আহত পুরুষ সহযোদ্ধাদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি সেখানে আহত নারী ও পুরুষদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয় বলে তিনি জানান।
বীথির মতে, আন্দোলনে নারীদের নেতৃত্ব, সংগঠন, আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। তিনি অনলাইনে সাইবার বুলিং ও মানসিক হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন। নতুন বাংলাদেশের জন্য তিনি আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও সুযোগের সমতার দাবি জানান এবং নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।