সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার প্রায় ছয় দশকের পুরোনো সদস্যপদ শেষ করে ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে। আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ওপেকের উৎপাদন কোটা থেকে মুক্ত হয়ে তার তেল উৎপাদনক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলার পর আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ এসেছে।
এই সিদ্ধান্ত ওপেকের বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারে। সৌদি আরব যেখানে উচ্চ তেলের দামের ওপর বাজেট নির্ভর করে, সেখানে আমিরাত উৎপাদন বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং কম দামের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যা রিয়াদের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সিদ্ধান্তের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি জেদ্দায় উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠকের সময় ঘোষণা করা হয়।
এই বিভেদ আঞ্চলিক জোট ও সহযোগিতায় নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। মিসর ও জর্ডানের মতো দেশগুলো সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে অবস্থান নির্ধারণে চাপের মুখে পড়তে পারে, যা উপসাগরীয় রাজনীতিতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা করবে।