সরকারের পর্যাপ্ত মজুতের দাবির মধ্যেও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সার বিতরণ নিয়ে সংকট ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। বোরো মৌসুমের আগে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারের ঘাটতি হবে না বলে সরকার জানিয়েছে। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে ভোর থেকে হাজারো কৃষক লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো সার পাননি বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ডিলার ৫৬০ বস্তা সার বিতরণ করলেও চাহিদা ছিল প্রায় ৫ হাজার বস্তা। সার না পাওয়ার অভিযোগে ২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে মহাসড়ক অবরোধও হয়।
প্রতিবেদনে বারবার ডিলার নিয়োগ নীতির পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগকে সংকটের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের পরিবর্তিত নীতিতে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন ডিলার ও প্রত্যেকের অধীনে দুজন খুচরা বিক্রেতার ব্যবস্থা করা হয়। কৃষিবিদ ড. মনিরুজ্জামান এ নীতিকে ভুল বলে একচেটিয়া ব্যবসার আশঙ্কা করেন। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম এবং পুরোনো নীতিতে বণ্টনের কারণেও সংকট হচ্ছে।
নীতিমালা-২০২৬-এর অস্পষ্টতা দূর না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বিএফএ। অনিয়ম দমনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা, মামলা এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা ডিলারশিপ স্থগিত করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও অনিয়ম বন্ধ করাই নীতির উদ্দেশ্য। সরকার পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছে এবং নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগির সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে।