ভারতের সরকারি থিংক-ট্যাংক নীতি আয়োগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করলেও ভারত এখনো ওষুধ তৈরির কাঁচামালের জন্য চীনের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওষুধ তৈরির মূল উপাদান বা কেএসএম ও এপিআই-এর ৬৫ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে আসে, আর অ্যান্টিবায়োটিক ও জ্বর কমানোর ওষুধের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা ৮৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বাণিজ্য বিরোধের মতো কোনো ঘটনায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ভারতের ওষুধ খাত ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনটি ভারতের “বিশ্বের ফার্মেসি” খেতাবের সঙ্গে বাস্তব অর্থনৈতিক দুর্বলতার বৈপরীত্য তুলে ধরে। বিশ্ব টিকা বাজারে ভারতের সরবরাহ ৬০ শতাংশ হলেও অর্থমূল্যের দিক থেকে এর অংশ মাত্র ০.৬ শতাংশ। নীতি আয়োগ জানায়, গবেষণা ও উন্নয়নে কম বিনিয়োগ, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চীনা আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, গবেষণা ও উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, কার্যকর পেটেন্ট ব্যবস্থা এবং বাস্তবসম্মত পরিবেশ নীতি ছাড়া “মেড ইন ইন্ডিয়া” কার্যত “মেড ইন চায়না”-র ওপর নির্ভরশীলই থাকবে।