নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে ১১ সদস্যের জোট সর্বসম্মতভাবে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, ফিলিস্তিন ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ইরান যুদ্ধ প্রশ্নে সদস্যদের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার নাম উল্লেখ করে নিন্দা করা হয়নি, আবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলারও সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি। এর বদলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘোষণায় বেসামরিক অবকাঠামো এবং আইএইএর সুরক্ষার আওতাধীন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও কোনো পক্ষের নাম না নিয়ে সংলাপ, পরামর্শ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া একতরফা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনাও করেছে জোটটি।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে ব্রিকস তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। জোটটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনমিতিক কাঠামো বদলের বিরোধিতা করেছে। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ, অবাধ মানবিক সহায়তা, ইউএনআরডব্লিউএকে সমর্থন ও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের সীমানাভিত্তিক, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথাও বলা হয়েছে।