দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে ভারত। কোয়াড, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, ব্রিকস ও আইটুইউটুর মতো জোটে সক্রিয় থেকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ভারতের এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য ছিল প্রবাসীদের নিরাপত্তা, প্রতিবেশী অঞ্চলে সন্ত্রাস দমন এবং তেল-গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু ইরান সংকটের কারণে বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইরানের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ভারতীয় গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পেয়েছে, আর ২২টি জাহাজ এখনো আটকা রয়েছে।
জাহাজগুলো মুক্ত করতে ভারতকে ইরানের তিনটি জব্দ জাহাজ ফেরত দিতে বা চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাতে হতে পারে। তবে এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভারতের জন্য নতুন কূটনৈতিক দ্বিধা তৈরি করেছে।