দিল্লির কেন্দ্রীয় রেসকোর্স এলাকায় একটি ছোট মসজিদের আশপাশে বসবাসকারী কয়েকশ পরিবারকে ৭ অক্টোবর উচ্ছেদ করা হয়। সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ এবং সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানায় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছের এই বসতির ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হলেও মসজিদ ও পাশের একটি হিন্দু মন্দির অক্ষত রাখা হয়েছে। প্রায় ৭১৭টি পরিবারকে দিল্লি থেকে ৩১ মাইল দূরের সাভদা ঘেভরা কলোনিতে স্থানান্তর করা হয়।
বাসিন্দারা দিল্লি হাইকোর্টে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আবেদন করে বলেছিলেন, দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে কর্মস্থল, সন্তানদের স্কুল এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের জীবন ব্যাহত হবে। আদালত গত আগস্টে তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে রায় দেয়। এলাকাটির বহু বাসিন্দা আশপাশের ধনী পরিবারে গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মালি হিসেবে কাজ করতেন। নগরবিষয়ক গবেষক মুক্তা নায়েকের মতে, পুনর্বাসনে কর্মসংস্থান ও সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হলে জীবিকা ও আয় কমে যায়।
উচ্ছেদের দিন মসজিদ ও মন্দিরের পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মসজিদে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর সরকার আদালতকে জানায়, ওয়াক্ফ বোর্ডের আপত্তি বিবেচনায় চার সপ্তাহ মসজিদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। পরবর্তী শুনানির দিন ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানান্তরিত বাসিন্দারা কাজ, শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় নতুন সংকটের কথা জানিয়েছেন।