মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর শ্রীলঙ্কা আবারও জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে এবং জ্বালানির দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ করায়, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের পথ, শ্রীলঙ্কার জ্বালানি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশটি তার জ্বালানির ৬০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। সরকার ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় ব্যবহৃত কিউআর-ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা পুনরায় চালু করেছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বুধবার সরকারি অফিস ও স্কুল বন্ধ রাখার নীতি গ্রহণ করেছে।
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির অংশ নিজেই বহন করছে, যার ফলে মাসে ৬৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। বাসভাড়া ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং এলপিজি গ্যাসের দাম ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির আলোচনা চলছে, তবে পরিবহন জাহাজ না থাকায় ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ অব্যাহত থাকলে খাদ্যের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং সার সরবরাহ ব্যাহত হয়ে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রাষ্ট্রপতি অনুরা দিসানায়েকের সরকার নতুন সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পুরনো স্থাপনা সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সংকট কতদিন স্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত।