তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে পাবনার প্রান্তিক পোলট্রি খামারিরা ক্রমবর্ধমান লোকসানে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় হিটস্ট্রোকে মুরগি মারা যাচ্ছে এবং ডিমের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে বলে জানিয়েছেন তারা। খামারিদের ভাষ্য, জেলায় দিন-রাত মিলিয়ে ছয় থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, আলো-বাতাস, খাদ্য ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে; কেউ কম দামে আগেভাগে মুরগি বিক্রি করছেন, কেউ খামার বন্ধ করছেন।
২০০০ সালের পর পাবনায় পোলট্রি খাত দ্রুত বিস্তৃত হলেও ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বৃদ্ধিতে লাভজনকতা কমেছে। খামারিদের অভিযোগ, সাত হাজারের বেশি প্রান্তিক খামারি ব্যবসা গুটিয়েছেন। বর্তমানে জেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৩,০৪৩টি খামার আছে, পাঁচ বছর আগে যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। ২,৪০০ টাকার এক বস্তা ফিড এখন ৩,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পোলট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জেনারেটর চালাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা গ্যাস সংকটকে উৎপাদন কমার কারণ বলেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ স্যালাইন ও বিটেইন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে এবং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ওষুধে ভর্তুকির পরিকল্পনা ও সুপারিশের কথা জানিয়েছে।