Web Analytics

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে শতবর্ষী কাঠের নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলার নির্মাণশিল্প এখনো টিকে আছে। কারিগররা বহু পুরোনো হাতে-কলমে নির্মাণপদ্ধতি বজায় রেখে, অনেক ক্ষেত্রে নকশা বা ব্লু-প্রিন্ট ছাড়াই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাঠের কাঠামো তৈরি করেন। পরে ট্রলারে আধুনিক ইঞ্জিন, প্রপেলার, জেনারেটর, জিপিএস ও ওয়্যারলেসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়।

কালুরঘাট, চরপাথরঘাটা ও ইছানগর এলাকায় এই ঐতিহ্যবাহী নির্মাণঘাট গড়ে উঠেছে। চরপাথরঘাটা ও চাক্তাইয়ে বড় ট্রলারের গোল কাঠ সাইজ করার স’মিল রয়েছে। নোনা পানি ও ঢেউ সহ্য করার জন্য গর্জন, শাল, সেগুন ও ওকানসহ শক্ত কাঠ ব্যবহার করেন কারিগররা; এসব কাঠ স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকেও আসে।

মাঝারি থেকে বড় একটি সমুদ্রগামী কাঠের ফিশিং বোট প্রস্তুত করতে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা লাগে। সাধারণত ট্রলারগুলো ৫৬ থেকে ৬৫ ফুট লম্বা, ২০ থেকে ২৫ জন জেলে বহন করতে পারে এবং ১৫ থেকে ২৫ দিন গভীর সমুদ্রে থাকতে সক্ষম। নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে নতুন নির্মাণ বাড়ে, আর ইলিশ মৌসুমে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বেশি হয়।

22 Oct 26 1NOJOR.COM

কর্ণফুলীতে প্রাচীন কাঠের ট্রলার নির্মাণকৌশলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক সরঞ্জাম

নিউজ সোর্স

আধুনিকতার ছোঁয়া পেলেও বদলায়নি নির্মাণকৌশল

মধ্যযুগে চট্টগ্রামে তৈরি কাঠের জাহাজ ও নৌকা একসময় সুদূর তুরস্ক, মিসর এবং জার্মানিতে রপ্তানি হতো। উনিশ শতকের শেষদিকে লোহার জাহাজের আধিপত্য বাড়ায় হারিয়ে যায় এ শিল্পটি। তবে কর্ণফুলী নদীর তীরে মাছ ধরার জন্য কাঠের জাহাজ তৈরির শতবর্ষী এ ঐতিহ্য আজও টিকে আছে

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।