২০২৬ সালের ৬ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই বন্যার পেছনে শুধু অতিবৃষ্টি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পাহাড় কাটা, অবৈধ ইটভাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নই মূল কারণ। প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, সাতকানিয়ার এওচিয়া এলাকার পাহাড় কেটে মাটি পাচার করা হচ্ছে পাশের বাঁশখালীর অবৈধ ইটভাটায়। মামলা হলেও প্রভাবশালী মালিকরা আইনের ফাঁক গলে রেহাই পাচ্ছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর জনবল ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে। চট্টগ্রামে বৈধ ইটভাটার সংখ্যা ১২০ হলেও অনুমোদনহীন ভাটার সংখ্যা তিন শতাধিক। কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন অভিযান চালানো হলেও জনসচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পাহাড় কাটা ও জমি ভরাট অব্যাহত থাকলে আকস্মিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে। দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকলে কৃত্রিম বাঁধের মতো কাজ করে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।