চীন ৫ মার্চ জাতীয় গণকংগ্রেসে ১৪১ পৃষ্ঠার ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও শিল্পখাতে আধিপত্য বিস্তারের উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) অর্থনীতির কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোয়ান্টাম যোগাযোগ, পারমাণবিক ফিউশন ও ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস গবেষণায় অগ্রগতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা মেয়াদে এআই সংশ্লিষ্ট শিল্পের মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে।
বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরা এই পরিকল্পনাকে সাধারণ অর্থনৈতিক নীতিমালা নয়, বরং একটি জাতীয় প্রযুক্তিগত গতিশীলতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ২০২২ সালের ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে মূলত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে, চীন সেখানে এআই, রোবটিক্স ও বিরল খনিজসহ বিস্তৃত খাতে বিনিয়োগ করছে।
পরিকল্পনায় বিরল খনিজ প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব বাড়াচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ভবিষ্যতের শক্তির ভারসাম্য যুদ্ধক্ষেত্রের আগেই নির্ধারণ করতে পারে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।