যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক মানব ভ্রূণের ডিএনএ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদনা করতে সক্ষম হয়েছেন, যা জিন সম্পাদনা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিসিস্ট ডিটার এগলির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ‘বেস এডিটিং’ নামের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ক্রিসপার পদ্ধতির তুলনায় কম ক্ষতিকর বলে দাবি করা হচ্ছে। গবেষকরা হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত পিসিএসকে৯ এবং হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত এইচবিজি জিন সফলভাবে সম্পাদনা করেছেন। গবেষণাটি এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি এবং বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আইভিএফ পদ্ধতিতে তৈরি ভ্রূণের জিনগত ত্রুটি সংশোধনে সহায়ক হতে পারে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুদের উচ্চতা, বুদ্ধিমত্তা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা আধুনিক যুগের ইউজেনিক্স বিতর্ককে পুনরুজ্জীবিত করছে। গবেষণার পরবর্তী ধাপে অর্থায়ন করছে নিউক্লিয়াস জিনোমিক্স, যা অতীতে ভ্রূণের বৈশিষ্ট্য পূর্বাভাস দেওয়ার দাবিতে সমালোচিত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর নিরাপত্তা ও নৈতিক দিক নিয়ে সমাজব্যাপী আলোচনা জরুরি।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।