মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধারণ করে, যা লক্ষ লক্ষ বছরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল। এই অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি ‘সুপারজায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত। এখানকার তেল উৎপাদন উত্তর সাগর বা রাশিয়ার সেরা তেলক্ষেত্রগুলোর তুলনায় দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। এই বিপুল সম্পদ যেমন আশীর্বাদ, তেমনি আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি অ্যারাবিয়ান ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষস্থলে অবস্থিত, যা ভাঁজ ও ফাটলযুক্ত শিলাস্তর তৈরি করেছে। এসব কাঠামো হাইড্রোকার্বন উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য আদর্শ। জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াস যুগে গঠিত চুনাপাথরসমৃদ্ধ শিলাস্তরগুলো তেল ও গ্যাসের উৎকৃষ্ট উৎস। সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেলক্ষেত্র এবং সাউথ পার্স–নর্থ ডোম গ্যাসক্ষেত্র এর বড় উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন চললেও এই অঞ্চলে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেল ও ৯.৫ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্তোলন সম্ভব হতে পারে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।