প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম লিখেছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বহু নদী আজ শুকিয়ে গেছে, ফলে অনেক সেতুর নিচে নদীর পরিবর্তে দেখা যায় বালু ও আগাছা। তিনি এই ভয়াবহ পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে ১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধকে উল্লেখ করেছেন। গঙ্গার প্রবাহ কমে যাওয়ায় পদ্মা, গড়াই, মধুমতী, কপোতাক্ষসহ অসংখ্য নদী প্রাণশক্তি হারিয়েছে এবং একসময় জীবনের উৎস থাকা এসব নদী এখন মৃতপ্রায়।
নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও জীববৈচিত্র্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে কৃষিজমি ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। নদীকেন্দ্রিক জীবিকা হারিয়ে অনেকে শহরমুখী হচ্ছেন, ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থাও বিলুপ্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ বহুবার ভারতের কাছে ন্যায্য পানির হিস্যা চাইলেও শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত হয়নি।
লেখক মনে করেন, কেবল ফারাক্কা নয়, বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যর্থতাও সংকটকে গভীর করেছে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের কেন্দ্রে একই দল ক্ষমতায় থাকায় এখন বাংলাদেশের নতুন বিএনপি সরকারের উচিত কূটনৈতিকভাবে টেকসই পানি বণ্টনের সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।