প্রবন্ধটিতে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী, গবেষক ও লেখক মুস্তাফা জামান আব্বাসীর জীবন ও অবদান তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৩৭ সালে কোচবিহারের বলরামপুরে জন্ম নেওয়া আব্বাসী তাঁর পিতা আব্বাসউদ্দীন আহমদের কাছ থেকে সংগীতের উত্তরাধিকার লাভ করেন এবং ঢাকায় বেড়ে ওঠেন এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলার সমাজ ও লোকজ ঐতিহ্যের গভীরতা অনুধাবন করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর গবেষণা ও সংগীতচর্চায় প্রতিফলিত হয়।
তিনি লালন সাঁইজির আদি সুর সংরক্ষণ, লোকসংগীতকে গণমাধ্যমে জনপ্রিয় করা এবং গ্রামীণ শিল্পীদের জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তাঁর উপস্থাপিত অনুষ্ঠানগুলো লোকসংগীতকে নাগরিক জীবনের অংশে পরিণত করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলার সংগীতকে পরিচিত করেন এবং ইউনেস্কোর অধীনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটি অব মিউজিকের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংগীতের পাশাপাশি ইসলামি সংগীত, সুফিবাদ ও সাহিত্যচর্চায়ও তাঁর অবদান অনন্য। ষাটেরও বেশি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে তিনি বাংলার লোকজ ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও পরিবেশচেতনার লিখিত দলিল তৈরি করেছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।