ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. লায়লা নেহমে সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ বছর আগের প্রস্তরযুগীয় মানব উপস্থিতি থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত বিস্তৃত মানব ইতিহাসের নিদর্শন অনুসন্ধানে ভূমিকা রেখেছেন। ফরাসি ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষক হিসেবে তিনি ২০০২ সাল থেকে সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আলউলার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্পে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয়গুলোর একটি প্রাচীন নাবাতীয় সভ্যতা।
হেগরা, যা মাদায়েন সালেহ নামেও পরিচিত, সেখানে তাঁর গবেষণায় প্রাচীন স্থাপত্য, সমাধি, শিলালিপি ও বাণিজ্যপথের নিদর্শন গুরুত্ব পেয়েছে। কয়েকটি বিশাল সমাধির খননে মানবকঙ্কাল, কাপড় এবং চামড়ার কাফনের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও কম আর্দ্রতার কারণে কিছু কঙ্কাল ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল। বিভিন্ন ভাষা ও লিপির শিলালিপি এবং প্রাণী, মানুষ ও উটের শিলাচিত্রও অতীতের সমাজ ও সংস্কৃতি বোঝার উপাদান দিচ্ছে।
একটি ক্ষুদ্র রঙিন বস্ত্রখণ্ডের রাসায়নিক, রঞ্জক ও প্রোটিন বিশ্লেষণ আলউলার সঙ্গে প্রাচীন ধূপের বাণিজ্যপথ ও রেশমপথের সম্ভাব্য সংযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে নেহমে প্রাচীন কাফেলাপথ খুঁজতে মরুভূমিতে অভিযান পরিচালনা করছেন, যার মধ্যে হেগরা থেকে তাইমা পর্যন্ত উটের পিঠে যাত্রাও রয়েছে। তাঁর গবেষণা বই ও প্যারিস-বেইজিংয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীতেও উপস্থাপিত হয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।