ভারতে প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারাবন্দি শিক্ষাবিদ শারজিল ইমামের সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির কারাগার থেকে দ্য কুইন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সি ইমাম বলেন, ১৪০ কোটি মানুষের দেশে প্রায় ২১ কোটি মুসলমানের কার্যত কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নেই। তিনি সংবিধানের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এগুলো মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
আইআইটি মুম্বাই থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ইমাম পরে জেএনইউতে মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন। ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী শাহিনবাগ আন্দোলনের তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। উমর খালিদসহ প্রায় ১২ জন মুসলিম শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীকেও দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইনজ্ঞ মোহাম্মদ জিশান আহমদ ধর্মনিরপেক্ষতা ও হিন্দুত্ববাদকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন এবং মুসলমানদের অভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে দেখার ঝুঁকির কথা বলেন। অধ্যাপক ইরফান আহমদ ইমামের কিছু প্রশ্নকে যৌক্তিক মনে করলেও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমার বিষয়টি তুলে ধরেন। ইমাম ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।