জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষকদের কম বেতন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলনের মূল অভিযোগ অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, অনুপস্থিত শিক্ষকের বদলি না দেওয়া এবং স্কুলভবনের দুরবস্থা। শনিবার দেশজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যার মধ্যে প্যারিসে ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার। শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারি কর্মচারীরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
২০২৭ সালের বাজেটের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ৫৪ বিলিয়ন ইউরোর ব্যয় সংকোচন ও করব্যবস্থার পদক্ষেপ আন্দোলনকে বড় অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সংকটে রূপ দিয়েছে। প্রস্তাবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্থগিতের বিষয়ও রয়েছে। ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষকের বার্ষিক মোট বেতন ৪১ হাজার ৯৬৮ ইউরো, যেখানে জার্মানিতে তা ৬৯ হাজার ৪৫৩ ইউরো। লুকাস শানসেলের হিসাবে, ২০১৭ সালের পর শিক্ষার্থীপ্রতি উচ্চশিক্ষা, জীবনযাপন ও গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ ২০ শতাংশ কমেছে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ পুলিশ মোতায়েন ও কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করেছেন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি প্রথমবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সোমবার মার্সেই সফরে তিনি যৌক্তিক দাবিগুলো মোকাবিলায় সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা পারকুরসুপে পরিবর্তনের কথাও ভাবছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁন লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।