আবু আলি হাসান ইবনুল হাইসামের বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকার তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়, যেখানে তাঁকে আধুনিক অপটিকসের জনক বলা হয়েছে। ৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বসরায় জন্ম নেওয়া ইবনুল হাইসাম গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও প্রকৌশলে পরিচিতি লাভ করেন। নীলনদের বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে ফাতেমী খলিফা আলহাকেমের আমন্ত্রণে কায়রো যাওয়ার পর তিনি প্রায় ১০ বছর গৃহবন্দি ছিলেন, যা ১০২১ সালে খলিফার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এই বন্দিদশায় তিনি সাত খণ্ডের কিতাবুল মানাজির বা Book of Optics রচনা করেন। গ্রন্থটিতে আলো, দৃষ্টি, প্রতিফলন ও প্রতিসরণের পরীক্ষাভিত্তিক এবং সুসংবদ্ধ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তিনি চোখ থেকে আলোকরশ্মি বেরিয়ে বস্তু দৃশ্যমান হয়—এ ধারণা নাকচ করেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, স্বপ্রভ বস্তু থেকে আলো অন্য বস্তুর ওপর পড়ে, সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে চোখে প্রবেশ করে বলেই মানুষ দেখতে পায়।
লেখায় অন্ধকার ঘরের ক্ষুদ্র ছিদ্র ব্যবহার করে আলোর সরলরৈখিক গতি প্রদর্শন, প্রতিফলন নিয়ে গবেষণা এবং কর্নিয়া, আইরিস, পিউপিল, লেন্স ও অপটিক নার্ভের বর্ণনাকে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতকে গ্রন্থটি ল্যাটিনে অনূদিত হয়। ইউনেস্কো ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক আলোকবর্ষ হিসেবে কিতাবুল মানাজির রচনার এক হাজার বছর পূর্তি উদ্যাপন করে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।