একটি মতামতধর্মী লেখায় ‘তিস্তা থেকে পদ্মা’কে বাংলাদেশের কৃষি, পানিব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটিতে বলা হয়েছে, নদীর পানি কমে যাওয়া, জলাবদ্ধতা, খরা, লবণাক্ততা, কৃষিজমি হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে করপোরেট নিয়ন্ত্রণের কারণে কৃষকেরা বহুমুখী সংকটে রয়েছেন। প্রস্তাবিত ধারণায় নদীকে উন্নয়নের কেন্দ্রে রেখে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন, বণ্টন ও কৃষকের মালিকানাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লেখকের মতে, বীজ, সার, কীটনাশক, খাদ্যবাজার, শস্য সংগ্রহ ও পানিব্যবস্থাপনায় করপোরেট প্রভাব বাড়ায় কৃষকের নির্ভরশীলতা, ঋণ, অনিশ্চয়তা ও বাজার বৈষম্য বাড়ছে। চীন, ভিয়েতনাম, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক এবং ভারতের কিছু অঞ্চলে কৃষি সমবায়ের ভূমিকার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ভারতের আমূল মডেলকে ক্ষুদ্র খামারি ও দুগ্ধ উৎপাদকদের সংগঠিত করার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটিতে তিস্তা অববাহিকায় পানি সংরক্ষণ, পদ্মা অঞ্চলে ব্যারাজ ও সেচ, ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং হাওর ও চলন বিলে পরিকল্পিত জলাভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কৃষক সমবায় যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। জলবায়ু অভিযোজনের অংশ হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন এবং এর অভিজ্ঞতা অন্য নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।