‘বিএনপি-জামায়াতকে ভারত কেন এক বন্ধনীতে রাখছে’, প্রশ্ন মির্জার শিরোনামে সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘এই সময়’। সংবাদে আরও বলা হয়েছে, ‘৩০টি আসন না দেওয়ায় পিআর নিয়ে বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে জামায়াত।’ এ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওই নিউজটা ফেক নিউজ। ওরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে এই মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক নেতা এরকম অবান্তর কথা বলতে পারেন না। এটা উদ্দেশ্যমূলক। কলকাতার ‘এই সময়’কে আমি এই ধরনের কোনো কথা বলিনি। ফখরুল জানান, ‘এই সময়’ পত্রিকাটির সঙ্গে কথা বললেও সাক্ষাৎকার দেননি। জামায়াতে ইসলামীর ৩০টি আসন চাওয়ার বিষয়ে কোনো কথাও তিনি বলেননি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না-জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যাপারে তো আমরা আগেই বলেছি।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ যেন এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়ে সে জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পূর্ণ সমর্থন প্রয়োজন। সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. নগোজি অকোনজো-ইওয়েলার সঙ্গে বৈঠকে ইউনূস আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে অর্থবহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান। ড. অকোনজো-ইওয়েলা বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে অবশ্যই সংস্কার করতে হবে। আমি আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ চাই। এখানে আমি আপনার নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি।’ সংরক্ষণবাদ ও বিশ্বায়ন থেকে পশ্চাদপসরণের শঙ্কা বাড়লেও বৈশ্বিক বাণিজ্য এখনো স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে ড. অকোনজো-ইওয়েলা বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাণিজ্য এখনো ডব্লিউটিওর নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। অধ্যাপক ইউনূসও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হলে সংস্থাটিকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে। এ বিষয়ে দলটির নেত্রী তাসনিম জারা বলেন, ওনারা ভেবেছিল ডিম ছুঁড়ে, গালি দিয়ে আমাদের ছোট করবে। কিন্তু গালি কখনো সত্যকে ঢাকতে পারে না। ভদ্রতা হারানো মানে পরাজয় মেনে নেওয়া। তিনি লেখেন, ‘ওনারা অপমানের রাজনীতি করুক। আমরা মর্যাদার রাজনীতি গড়ব। মর্যাদা মানে শুধু নেতাদের সম্মান দেওয়া নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সম্মান নিশ্চিত করা। যেমন— একজন নাগরিক ঘুস না দিয়েও সরকারি অফিসে সম্মান পাবেন। একজন রোগী হাসপাতালে ভিআইপি না হয়েও সেবা পাবেন। রাজনীতিবিদরা প্রভু না হয়ে সেবক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। একজন নারী রাস্তায়, বাসে, বা অনলাইনে হেনস্তার শিকার হবেন না। একজন ছাত্র মিছিলে গেলে গুলি খাবেন না। একজন নাগরিক মন্ত্রী-এমপিদের সমালোচনা করতে পারবেন কোন ভয় ছাড়া। আমাদের মর্যাদার রাজনীতি মানে হলো: বাংলাদেশে আর কাউকে ভয় দেখিয়ে, ঘুস খাইয়ে, অপমান করে চুপ করানো যাবে না।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমগুলো দেখে মনে হচ্ছে, তারা বাংলাদেশে ভোট বাধাদানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি আস্তে আস্তে নিচ্ছে। নেওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ তাদের ভোটের বাইরে রাখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে না দিলে তাদের ভোট জাতীয় পার্টি পাবে। এটি ভুল ধারণা। যদি দেশে একতরফা একটা ভোট হয়, আওয়ামী লীগ সেই ভোটটাকে দমন করবে। সে ভোটটাকে বাধা দেবে, আরেকটা দলকে ভোট দিয়ে কাস্টিং কেন বাড়াবে? পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশে অতীতে যত একতরফা ভোট হয়েছে, যারা ভোটে অংশ নেয়নি বা যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা ভোটদানে বিরত ছিল। তার ভোটকে বাধাদান করেছে। জাতীয় পার্টিকে এখনই অত শক্তিশালী মনে করি না। জাতীয় পার্টির নিজের সংগঠন গোছাতে হবে। আমাদের শক্তি বাড়াতে হবে, ভোট বাড়াতে হবে।
বিএনপি নেত্রী বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের জনগণের ভোটাধিকার নষ্ট হবে। পিআর সিস্টেম কি আমিই বুঝি না, দেশের জনগণ কীভাবে বুঝবে! তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও বিএনপি এখনও দেশের মানুষদের ভোটাধিকারের জন্য, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। সংবিধান সংরক্ষণের জন্য লড়াই চলছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পরেও তা বানচাল করার অপচেষ্টা করছে ৭১ এর পরাজিতরা। তারা অতীত আদর্শ ভুলতে পারছে না, তাই নির্বাচন বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি তা হতে দেবে না। বিদেশের মাটিতে যারা চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে তারা দেশকে কলঙ্কিত করছে।
নিউইয়র্কে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির জবাব ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপি। প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে বিমানবন্দরে ডিম নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকেও গালমন্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের উচ্ছৃংখল সমর্থকরা গতরাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার পর পাল্টা স্লোগান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ উত্তাল করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে ফেরার পর ম্যানহাটনের হোটেলের নিচে অবস্থিত এলাকায়ও তীব্র বিক্ষোভ গড়ে ওঠে। চোখের সামনে বিরোধীদের বিক্ষোভ দেখেই পাল্টা স্লোগান দিতে হোটেলের নিচে নেমে আসেন আখতার হোসেন ও তার সহকর্মীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন তাসনিম জারাসহ আরও কিছু নেতা-কর্মী। তারা একসঙ্গে শ্লোগান দেন— ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই শেখ হাসিনার বিচার চাই’, ‘ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর, ফ্যাসিজম নো মোর’।
আখতার হোসেনের ওপর নিউইয়র্কে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। দলটি বলছে, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক নেতাদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় ঠেলে দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার সফরের সহযাত্রীরা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ও নিরাপত্তায় থাকার কথা। কিন্তু নিউইয়র্কের মতো জায়গায় যে ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তা আমাদের শঙ্কিত করে। এ ধরনের উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সফরেই যদি রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা এভাবে বিঘ্নিত হয়, তাহলে এই সরকারের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নির্বাচনে নেতাদের নিরাপত্তা কেমন হবে, তা ভাবতেও আমরা শিউরে উঠছি। দলের মুখপাত্র আতাউর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তিনটি দল থেকে রাজনৈতিক নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনের আগেই আগামী নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন। রাষ্ট্রীয় খরচে তিনটি দলকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করার এ প্রচেষ্টা আগামী নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করবে। আরও বলেন, আখতার হোসেনসহ রাজনীতিবিদদের ওপর হামলাকারীদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কেন তাদেরকে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হলো, কার অবহেলায় এমন ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার আর দৃশ্যমান বিচার পাশের দেশ ভারত চায় না। এটি হলে ভারত বাংলাদেশকে আর গোলামের জিঞ্জিরে আবদ্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার হওয়ার আগেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে যারা হতাহত হয়েছে, যারা পঙ্গু হয়েছে, চোখ হারাল, তাদের ভাষা বর্তমান সরকার বোঝে না। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়ার আগেই নির্বাচনকে মুখ্য বানানো হয়েছে। এ নিয়ে কথা বললেই ক্ষমতায় যাওয়ার লোভীরা বলে নির্বাচনকে পেছনে ঠেলে দিতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিআর পদ্ধতির দাবি তুলেছিল। পীর বলেন, দেশের মানুষের সঠিক গণতন্ত্র আদায়ে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এ পদ্ধতি যারা বোঝে না, সেই দল দেশ চালানোর যোগ্যতাও রাখে না। বিএনপির দেশে ২০ শতাংশও ভোট না থাকায় তারা পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে বিমানের জ্বালানি পরিবহণে দেশের প্রথম বিমানবন্দর হিসেবে চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেট ফুয়েল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জেট এ-১ পাইপলাইনটি নির্মাণ করেছে। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ করা প্রথম বিমানবন্দর এটি। প্রকল্পটি বিমানে আধুনিক, পরিবেশ বান্ধব ও দক্ষ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, পরিবহণ খরচ কমবে এবং বিমান জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কর্মদক্ষতা বাড়বে। পদ্মা অয়েল সূত্র জানায়, ‘জেট এ-১ পাইপলাইন ফ্রম মেইন ইন্সটলেশন (এমআই) টু শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নামক ১৭০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল। তবে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন লেখেন, ‘রাজনীতিতে আসার পর থেকে আমরা নারীরা হেন কোনো গালি নাই শুনি নাই। হেন কোনো সাইবার বুলিং নাই যার মধ্যে দিয়ে যায় নাই। ম বর্গীয়, খ বর্গীয়সহ সব ধরনের গালাগালি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। কিন্তু আজকে নিউইয়র্কে জারাকে যে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা হলো, আখতারের ওপর হামলা করা হলো, তাও বাংলাদেশ সরকারের সফরসঙ্গী হিসেবে এর চেয়ে নিন্দনীয় কিছু হতে পারে না।’ তিনি লেখেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। কেন এরা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। কেন তারা একমাত্র নারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। শেইম! অন্তর্বর্তী সরকারের এদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। জারার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। মুখে নারী নারী করে ফেনা তুলে ফেলে, অথচ সঙ্গে করে নিয়ে তাকে আক্রমণের মুখে ফেলে রেখে চলে গেছে।’ এ হামলার দায় সরকারকে নিতে হবে। এই নেত্রী বলেন, ‘আখতার শুধু এনসিপির নেতা না, আখতার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন্ত প্রতীক। যার অবদানে সরকার হইসেন তাকেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ! ধিক্কার জানাই। এনসিপি এর জবাব নিয়ে ছাড়বে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, বিগত ১৫ বছর যারা দেশে স্বৈরাশাসন চালিয়েছে, তারাই নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তাদের থেকে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন বয়ান তৈরি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ১/১১ এর মতো মাইনাসের রাজনীতি করতে চাওয়াদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়াকে যেমন দেশ থেকে তাড়ানো সম্ভব হয়নি, তেমনি বিএনপিকে মাইনাস করাও সম্ভব হবে না। আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রহরীর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের হেনস্তার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা শেখ হাসিনার শাসনামলে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধি দলকে প্রথমে ভিভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করানো হয় এবং একটি গাড়িতে তোলা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিতভাবে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় কারণে প্রতিনিধি দলকে বিকল্প পথে বের হতে হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। রাজনৈতিক নেতাদের ভিভিআইপি প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন। আরো বলা হয়, হেনস্তার ঘটনার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। এরইমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর জবাব দেয়া হবে।
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। প্রেস উইং বলছে, প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেটকিন এবং চিলির সাবেক রাষ্ট্রপতি মিশেল ব্যাচেলেটের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে, উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা।
‘বিএনপি-জামায়াতকে ভারত কেন এক বন্ধনীতে রাখছে’, প্রশ্ন মির্জার- এমন শিরোনামে সম্প্রতি মির্জা ফখরুলের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘এই সময়’। তবে শিরোনামে উল্লেখিত বক্তব্যটি দেননি বলে দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, মির্জা ফখরুল বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভাষ্য মেনে বিএনপি ও জামায়াতকে একই বন্ধনীতে ফেলেছে ভারত। আওয়ামী লীগ এই অপপ্রচারটা ভারতকে বিশ্বাস করিয়েছে। তারা শুধুই নির্বাচনী শরিক। তারা ধর্মীয় রাজনীতি করে, আমরা করি না। আসলে ভারত আওয়ামী লীগের চশমা দিয়ে বাংলাদেশকে দেখেই ভুলটা করেছে। আরও বলেছেন, জামায়াত আর বিএনপির রাজনীতি তো এক নয়। আমরা অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী একটি গণতান্ত্রিক দল। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধান রক্ষায় আজও আমরা স্বাধীনতা-বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই করছি। বামেরা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। এদিকে, প্রতিবেদনটিতে ‘৩০টি আসন না দেয়ায় পিআর নিয়ে বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে জামায়াত’— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যকে অসত্য ও প্রতিহিংসাপরায়ণ দাবি করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।