বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি বন্ধে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট মনিটরিং কার্যক্রমকে একই কাঠামোয় আনা হবে। রাজধানীর বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও এমএফএস প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে আলোচনা করেন। বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে সাবস্ক্রাইবার ডাটা ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম (এসডিভিপি) তৈরি করছে যাতে জুয়া ও আর্থিক প্রতারণা শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি জুয়া শনাক্তে ক্রলিং ইঞ্জিন তৈরির কাজ চলছে। বিদেশে অবস্থানরত চক্রগুলো আইপি ও ভিপিএন ব্যবহার করে অবৈধ সাইট পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সিম, এনআইডি ও এমএফএস ডেটা একীভূত করা গেলে অনলাইন প্রতারণার ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান সম্ভব। সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এই সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছে। দলটির নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শাপলা কলি’। মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এটি সবার দল—যারা নতুন করে রাজনীতি করতে চান এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, তারা এনসিপিতে যোগ দিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের পর এনসিপি আজ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলে পরিণত হলো। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি নিবন্ধনের কাজ শুরু করে এবং জুনে সব কাগজপত্র জমা দেয়। নির্বাচন কমিশনের বিলম্ব সত্ত্বেও দলটি নিবন্ধন পেতে সক্ষম হয়েছে। নাহিদ ইসলাম আরও জানান, এনসিপি সারা দেশে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রতিটি আসনে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জনগণের পাশে থেকে এনসিপি সংস্কার, বিচার ও পরিবর্তনের রাজনীতি করছে। শাপলা কলি মার্কায় আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি আপনার-আমার সবার দল। আসুন, আমরা সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ি।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্টাকির লুইসভিলের মুহাম্মদ আলী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি ইউপিএস কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিস্ফোরিত হয়, এতে অন্তত তিনজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানান, উদ্ধার অভিযান চলার কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ১৯৯১ সালে নির্মিত ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-১১ মডেলের বিমানটি হোনোলুলুর পথে ছিল যখন বিকেল ৫:১৫-এ বাম ডানায় আগুন ধরে যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি সামান্য উড়ে পুনরায় মাটিতে আছড়ে পড়ে বিশাল অগ্নিগোলকে বিস্ফোরিত হয়। রানওয়ের পাশে থাকা একটি ভবনের ছাদ আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। লুইসভিলের মেয়র ক্রেইগ গ্রিনবার্গ জানান, বিমানের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধারকাজে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের উত্তরাংশ থেকে ওহাইও নদী পর্যন্ত এলাকায় "শেল্টার ইন প্লেস" নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউপিএস হাবটি আপাতত কার্যক্রম স্থগিত করেছে। কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীদের ঘরে থাকার এবং জরুরি রাস্তা খালি রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েককে আপাতত বাংলাদেশে আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ ও আইজিপি বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানা যায়, একটি প্রতিষ্ঠান ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ড. নায়েককে ঢাকায় আনতে চেয়েছিল, এমনকি ঢাকার বাইরেও তাঁর সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে, তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বিশাল জনসমাগমের আশঙ্কা থাকায় এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত তাঁর সফর স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলার পর ভারত সরকার জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ আনে। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার চারটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আর্থিক শর্ত পূরণের ভিত্তিতে স্বীকৃত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে মাসিক বেতন আদেশ (এমপিও) সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মীর তায়েফা সিদ্দিকা স্বাক্ষরিত নির্দেশনা ৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নীতিমালার আওতায় স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাসহ সকল শর্ত পূরণকারী মাদ্রাসাগুলো প্রথম পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের বিস্তারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হবে। পরবর্তী পর্যায়ে অন্যান্য মাদ্রাসাগুলো ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিতে হবে এবং এমপিওভুক্তির পর অনুদান সুবিধা বাতিল করতে হবে। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের চলমান জাতীয়করণ দাবির আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনুদানবিহীন মাদ্রাসার শিক্ষকরা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিদেশি নাগরিকদের গণহারে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে কানাডা সরকার, মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের ভিসা আবেদন জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সিবিসি নিউজের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) এবং কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে একটি কর্মদল গঠন করেছে। এর লক্ষ্য হলো ভুয়া ভ্রমণ ভিসা আবেদন শনাক্ত ও বাতিলের ক্ষমতা জোরদার করা। নথিতে বাংলাদেশ ও ভারতকে ‘নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জিং দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে অভিবাসনমন্ত্রী লেনা দিয়াব কেবল মহামারি বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কোনো দেশের নাম বলেননি। বিল সি–১২ নামে এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই ৩০টির বেশি সুশীল সমাজের সংগঠনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতা সরকারকে ‘গণবহিষ্কারের অস্ত্র’ তৈরি করার সুযোগ দেবে। আইনজীবীরাও সন্দেহ করছেন, আবেদন জট কমাতে এটি ব্যবহার করা হতে পারে কি না। আইআরসিসি জানিয়েছে, সীমান্তে ভিড় ও অবৈধ পারাপার ঠেকাতে তারা ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিয়েছে, যার ফলে অবৈধভাবে মার্কিন সীমান্ত অতিক্রমের হার ৯৭% কমেছে এবং ভিসা বাতিলের হার বেড়েছে ২৫%।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান দলটির মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী। এর একদিন আগে, সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি ২৩৭টি আসনে তাদের প্রাথমিক প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে খালেদা জিয়ার নাম ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ ও বগুড়া-৭ আসনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএনপির তালিকা ঘোষণার পরদিনই এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি হয়তো খালেদা জিয়ার প্রতি রাজনৈতিক সম্মান বা কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে।
চিকিৎসা শিক্ষায় শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) জারি করা দুটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়—বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়—এবং ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন (সিএমই) ও ১৯টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা মূল বেতনের ৭০ শতাংশ হারে “নন-প্র্যাকটিসিং” প্রণোদনা ভাতা পাবেন। এই সুবিধা ১০টি বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য—অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি ও এনেস্থেসিওলজি। শেষ দুটি বেসিক সাবজেক্ট না হলেও নন-প্র্যাকটিসিং হওয়ায় সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, প্রণোদনা ভাতা পেতে শিক্ষকদের নন-প্র্যাকটিসিং ঘোষণা দিতে হবে। কোনো শিক্ষক প্র্যাকটিসে যুক্ত থাকলে তিনি এই ভাতা পাবেন না। আগামী ২০২৫–২০২৬ অর্থবছর থেকে এই ভাতা কার্যকর হবে এবং আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে মানতে হবে। এ পদক্ষেপ চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ শিক্ষক ধরে রাখতে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ জাতীয় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের কাছে লিখিত ১০ দফা দাবিপত্র জমা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা’ প্রদানের দাবি জানিয়েছে। এতে শিক্ষকদের সরকারি সমকক্ষ পদের তুলনায় ১০০ শতাংশ বেশি বেতন প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। সাদা দলের নেতারা জানান, স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। তাই এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বেতন-ভাতা, গবেষণা অনুদান, প্রশাসনিক দায়িত্বের অতিরিক্ত ভাতা, সুপার গ্রেডে পদোন্নতি, গবেষণার জন্য ২০ লাখ টাকাসহ একাধিক সুবিধা দাবি করা হয়। এছাড়া আবাসন ও যানবাহনের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ এবং পেশাগত আয়ে কর অব্যাহতির দাবিও তোলা হয়। অধ্যাপক ড. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল দাবিগুলো উপস্থাপন করলে কমিশনের চেয়ারম্যান ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার রাতে বিএনপির মিডিয়া সেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার যোগদানের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানায়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক। স্নিগ্ধের বিএনপিতে যোগদানকে প্রতীকী ও আবেগঘন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তার ভাই মীর মুগ্ধের আত্মত্যাগ এখনো জাতির রাজনৈতিক স্মৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। এই যোগদান বিএনপির তৃণমূল ও আবেগিক সংযোগকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে তিনি বলেন, “ওমরের উচিত দেশে ফিরে যাওয়া।” পোস্টটির সঙ্গে তিনি একটি ভিডিও যুক্ত করেন, যেখানে ওমরকে জনসভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়, তবে এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে ডানপন্থী প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘুরছে। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর গৃহযুদ্ধের সময় শরণার্থী হিসেবে কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০০০ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও জাতিগত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এর আগে তিনি সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মজা করে বলেন, “আপনি কি ইলহান ওমরকে ফিরিয়ে নিতে চান?”— যা তখনও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। ওমর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এসব মন্তব্যে উদ্বিগ্ন নন; নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তোলা “অদ্ভুত” এবং “অর্থহীন”। তিনি বলেন, “আমি আর সেই ছোট্ট ভীত শিশু নই, আমি এখন একজন আইনপ্রণেতা এবং মা।” ট্রাম্পের পুনরাবৃত্ত মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন ও জাতিগত সংবেদনশীলতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
এক ঐতিহাসিক রায়ে হাইকোর্ট বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও জাতীয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই শুধু অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে ডিপিই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটি অবৈধ ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ১৭ জুলাই জারি করা সেই স্মারককে চ্যালেঞ্জ করে কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালকসহ ৪২ জন শিক্ষক ও অভিভাবক রিট আবেদন করেন। ২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিকভাবে স্থগিতাদেশ দিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে, পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে রায় দেন। এতে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রচলিত সমান সুযোগের বিধান আবার কার্যকর হলো। ডিপিই-এর আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা।
গেছেন। তার পরিবার জানায়, তিনি নিউমোনিয়া ও হৃদ্যন্ত্র–রক্তনালিজনিত জটিলতায় মারা যান। দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে চেনি নিকসন প্রশাসন থেকে শুরু করে জর্জ ডব্লিউ. বুশ সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। চেনি ছিলেন নব্যরক্ষণশীল পররাষ্ট্রনীতির প্রধান প্রবক্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আগাম সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন। ১৯৯১ সালের গালফ যুদ্ধে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৯/১১ হামলার পর তিনি “ওয়ার অন টেরর”–এর অন্যতম কৌশলবিদ হিসেবে আফগানিস্তান ও ইরাক আক্রমণের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বিতর্কিত ‘ওয়ান পারসেন্ট ডকট্রিন’ প্রণয়ন করেন, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকির সামান্য আশঙ্কাতেও আগাম হামলার যুক্তি দেওয়া হয়। বন্দিদের ওপর নির্যাতনমূলক জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতিরও তিনি সমর্থক ছিলেন। ডিক চেনি আধুনিক মার্কিন রাজনীতির এক বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় থাকবেন।
আমজনতার দলের সদস্য-সচিব তারেক রহমান তার দল সরকারিভাবে নিবন্ধন না পায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় তিনি সেখানে অবস্থান নেন এবং ফেসবুকে এ তথ্য জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে ইসি ‘ডেসটিনি’ নামে অন্য এক গোষ্ঠীকে নিবন্ধন দিয়েছে, যা তার দাবি অনুযায়ী ৪৩ লাখ গ্রাহকের অর্থ লুটের ঘটনায় নিবন্ধিত হওয়া গোষ্ঠী; একই সঙ্গে ইসি আগে জাতীয় লীগকে নিবন্ধনের অনুমোদনের ঘোষণা করেছিল যা পরে লিক পরে স্থগিত করা হয়। তিনি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় গঠিত পক্ষপাতের তীব্র নিন্দা জানান, জাতীয় লীগের নাম প্রস্তাবকারী ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করেন এবং জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তিনি মৃত্যু বরন করে পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন। বছরে বছরের রাজনীতির পরও দল নিবন্ধিত না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলছেন এটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে উপেক্ষা করা হচ্ছে; ইসির কাছে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ব্যবস্থা চেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থা বা শাটডাউন ৩৫তম দিনে পৌঁছেছে, যার ফলে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, শাটডাউনের কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি জনবল ঘাটতিতে ভুগছে এবং নিউইয়র্ক অঞ্চলে অনুপস্থিতির হার ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭০০টির বেশি ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছে এবং ২ হাজার ২৮২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শিকাগো, ডালাস, ডেনভার ও নিউয়ার্কসহ বড় শহরের বিমানবন্দরগুলোতেও সোমবার হাজারো ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এফএএ জানায়, প্রায় ১৩ হাজার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ১ অক্টোবর থেকে বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। তাদের অনুপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট বিলম্ব অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে বাতিলও হতে পারে। বর্তমানে ৬ লাখ ৭০ হাজার ফেডারেল কর্মী বাধ্যতামূলক ছুটিতে এবং আরও ৭ লাখ ৩০ হাজার কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন—যা এই সংকটের ব্যাপকতা নির্দেশ করছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।