ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে শোক দিবসের ঘোষণা দেন এবং হাদির মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। তার হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের উত্তর ছাদেক নগর এলাকায় জাতীয় পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাড়িতে শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি গাড়িতে এসে বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে বাড়ির আসবাবপত্র, মূল্যবান সামগ্রী ও গ্যারেজে থাকা আনিসুল ইসলামের চাচা আকবর হায়দার চৌধুরীর ব্যক্তিগত গাড়ি পুড়ে যায়। আকবর হায়দার চৌধুরী জানান, তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন এবং আগুন লাগার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনাটির কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয়রা নিরাপত্তা জোরদার ও জরুরি সেবার দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি সেনা সদস্যের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে লাশবাহী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামরিক মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণ করা হয়। নিহতরা ১৩ ডিসেম্বর কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় শহীদ হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আরও নয়জন শান্তিরক্ষী আহত হন, তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কর্পোরাল মাসুদ রানা ও পাঁচজন সৈনিক রয়েছেন, যাদের মরদেহ নিজ নিজ জেলায় দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এই হামলা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ, ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতারবাড়ি স্টেশনের সদস্যরা শুক্রবার রাত ১টার দিকে অভিযান চালিয়ে পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি ফিশিং বোটসহ আটজন পাচারকারীকে আটক করে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক শনিবার সকালে জানান, প্রায় দুই লাখ পঁচিশ হাজার টাকার সিমেন্ট অবৈধভাবে রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জব্দকৃত বোট ও মালামাল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে অবৈধ বাণিজ্য কার্যক্রম দমন করা যায়।
জার্নাল *মোবাইল ডিএনএ*-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মেরু ভালুকের ডিএনএ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ১৭টি মেরু ভালুকের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, তাদের ডিএনএতে ‘জাম্পিং জিন’ বা চলমান জিনের সক্রিয়তা বেড়েছে। এই জিনগুলো অন্যান্য জিনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা যায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ-পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের ভালুকদের জাম্পিং জিনের কার্যকারিতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মেটাবলিজম, তাপমাত্রা সহনশীলতা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবর্তন আনছে। গবেষণার প্রধান ড. অ্যালিস গডেন বলেন, এটি মেরু ভালুকদের উষ্ণ পরিবেশে অভিযোজনের জিনগত ইঙ্গিত হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন বিলুপ্তির ঝুঁকি দূর করে না। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানো ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি রোধ করাই মেরু ভালুক সংরক্ষণের একমাত্র কার্যকর উপায়।
মার্কিন সাময়িকী *১৯৪৫*-এ প্রকাশিত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রেন্ট ইস্টউডের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি দেশের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। দেশগুলো হলো—চীন, রাশিয়া, ইরান, ভেনেজুয়েলা ও উত্তর কোরিয়া। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইস্টউডের বিশ্লেষণে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত হামলা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযান এবং ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা যেকোনো সময় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিস্থিতি সীমিত সংঘর্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় জোর দিচ্ছে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একাধিক ফ্রন্টে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার র্যাব-১৪ জানায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) ও মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)। র্যাব জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবে হত্যার কারণ বা ভুক্তভোগীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও অভিযুক্ত শনাক্ত হতে পারে।
গাজা সিটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হওয়া একটি স্কুলের দ্বিতীয় তলায় এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করছেন। গাজা গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, অক্টোবরে মার্কিন-মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৫০০ বারেরও বেশি লঙ্ঘন করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করে তারা গুলি চালায়। এদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কাতার, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র গাজা শাসনে সহায়তার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি, শান্তি বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের দৈনিক *আমার দেশ*-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ড. খান জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি ও বিদেশি শক্তির যৌথ ভূমিকা রয়েছে। লেখকের মতে, হাদি ছিলেন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কারক, যিনি দীর্ঘ ৫৪ বছরের দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, চারটি পক্ষ—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল, ভারত, বিএনপি এবং কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব—হাদির হত্যার সরাসরি বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। ড. জহিরুলের অভিযোগ, হাসিনার ঘনিষ্ঠরা হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং ভারত খুনিদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়। বিএনপি ও কিছু টকশো ব্যক্তিত্বকে তিনি অভিযুক্ত করেছেন হত্যার অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য। নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, হাদির মৃত্যুর বিচার না হলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটকে আরও গভীর করবে। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্র কি এই হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি নীরবতা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে বন্ধ্যা করে দেবে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যু শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রস্থান নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নৈতিক স্তম্ভের পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ছিলেন এমন এক কণ্ঠ, যিনি ভয় ও নীরবতার বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণে বিশ্বাসী ছিলেন। জুলাই ৩৬ আন্দোলনের অন্যতম মুখ হাদি ১৯৭১ সালের অসমাপ্ত অঙ্গীকারকে নতুন প্রজন্মের বিবেক হিসেবে ধারণ করেছিলেন। তিনি সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ, ইতিহাস বিকৃতি ও মতপ্রকাশের দমননীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। গণতন্ত্রকে তিনি দেখতেন মানুষের দৈনন্দিন মর্যাদা হিসেবে—যেখানে ভোট, মত ও স্বাধীনতা ভয়ের ঊর্ধ্বে থাকে। তার মৃত্যু তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নৈতিক প্রশ্ন রেখে গেছে—তারা কি আবার নীরবতা মেনে নেবে, নাকি হাদির সাহসকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার জীবন ও সংগ্রাম স্মরণ করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই প্রতিদিনের সাহস ও সততার মধ্যেই বেঁচে থাকে।
জার্মানির ফ্রাই ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক ও গবেষকের লেখা এক প্রবন্ধে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। লেখক হাদিকে কেবল একজন নিহত কর্মী হিসেবে নয়, বরং এক নৈতিক প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যার মৃত্যু রাষ্ট্রের ভণ্ডামি ও সমাজের নীরবতার মুখোশ উন্মোচন করেছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, হাদি ছিলেন এমন এক তরুণ, যিনি সত্য বলার সাহস দেখিয়েছিলেন, আর সেই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। লেখক গ্রিক পুরাণ, গ্রামশি ও এডওয়ার্ড সাঈদের ভাবনা টেনে এনে দেখিয়েছেন, কীভাবে ক্ষমতা স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রান্তিক কণ্ঠকে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দেয়। তিনি নাগরিক সমাজের নীরবতাকে নৈতিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং আহ্বান জানিয়েছেন—এই শোককে যেন প্রতিবাদ ও নৈতিক পুনর্গঠনে রূপান্তর করা হয়। প্রবন্ধটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল এক তরুণের মৃত্যু নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবেক ও ন্যায়বোধের সংকটের প্রতিফলন।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওডেসা বন্দরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার টেলিগ্রামে জানান, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং বন্দরের পার্কিং লটে থাকা ট্রাকগুলোতে আগুন ধরে যায়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান বন্দরশহর, যেখান থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ওডেসা ও এর বন্দরগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অঞ্চলে বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এই হামলা ইউক্রেনের রপ্তানি অবকাঠামো ও কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। তিনি গত ৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন মূলত শাশুড়ি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও পারিবারিক দেখভালের জন্য। ঢাকায় অবস্থানকালে ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, গত এক মাসে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। জুবাইদা রহমানের এই প্রস্থান বিএনপির অভ্যন্তরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। তার লন্ডনে অবস্থানের মেয়াদ বা পরবর্তী সফর সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির লাশ শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন হাদি। মাথায় গুলি লাগায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায় এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা ও উপজেলা শহরজুড়ে ছাত্র-জনতা সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-ডেমরা মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফেনী, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলায় হাজারো মানুষ মিছিল, দোয়া মাহফিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি, ছাত্রঐক্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। নাটোর, দিনাজপুর ও নোয়াখালীতে মসজিদে মসজিদে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখনও পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের প্রতিফলন। তদন্তে অগ্রগতি না হলে আরও আন্দোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।