ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা এ বিষয়ে ইসিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, এটি কি কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টা কিনা। তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও অনিয়মের প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য মোবাইল ফোন প্রয়োজন। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাতও নিষেধাজ্ঞাটিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। ১১ দলীয় জোটের নেতারা বিকেলে ইসিতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানিসংকটে কিউবা এক মাসের জন্য বিমানের জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপের এক এয়ারলাইনের কর্মকর্তা রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কিউবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে দেশটিতে যাতায়াতকারী বিমানগুলো আর জেট ফুয়েল সংগ্রহ করতে পারবে না। ফলে দূরপাল্লার ফ্লাইটগুলোকে অন্য দেশে থেমে জ্বালানি নিতে হবে। এয়ার ফ্রান্স ইতিমধ্যে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কিউবা চরম সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ভেনেজুয়েলা কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়। জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় কিউবা সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চার দিনের কর্মসপ্তাহ, প্রাদেশিক পরিবহন সীমিতকরণ, কিছু পর্যটন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির শর্ত শিথিল করা। তেলের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেছেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে কোনো চাপের মধ্যে নয়।
ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের নির্বাচনি জনসমাবেশে যোগ দিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াত আমির সেখানে উপস্থিত হন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, উন্নয়ন ভাবনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। এছাড়া ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসলামপন্থী ও মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি সমন্বয় ও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন। এই নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনার পর সোমবার জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার প্রয়োজনে আবারও লড়াই করে রক্ষা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিনটি গণতন্ত্রের উৎসব হওয়া উচিত, যেখানে ভোটাররা গর্বভরে ভোট দিতে ও উদ্যাপন করতে পারবেন। ভোটের আগে ইসির এই নিষেধাজ্ঞা ও জামায়াত আমিরের বক্তব্য নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ১৬–১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। রোববার সন্ধ্যায় পেকুয়ার সাকুরপাড় স্টেশনে এক গণমিছিল শেষে পথসভায় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করবে এবং দেশে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য আর কাউকে রক্ত দিতে হবে না। তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সোমবার বিকাল ২টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে ধানের শীষের সমর্থনে শেষ নির্বাচনি জনসভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, সারা দেশের মতো এখানেও ধানের শীষ রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ী হবে। সভায় সাবেক সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মৌসুমের এই সময়ে অস্বাভাবিক প্রবল বৃষ্টিপাতে কলম্বিয়ায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা রোববার নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা আইডিয়াম জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা থেকে দ্রুতগতিতে নেমে আসা একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূলে আঘাত হানায় গত মাসে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় বৃষ্টিপাত প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নারিনো প্রদেশে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়, যখন টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝিরি ফুলে উঠে ভূমিধসে কয়েকটি বাড়ি কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডি জানিয়েছিল, চরম আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কলম্বিয়ায় শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টি ও খরার তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হোয়াইট হাউসে সফর করবেন। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বুধবার দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য, তাইওয়ান, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া ও ইরান ইস্যু নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যেতে পারেন এবং তার পরেই শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর হতে পারে। তিনি জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথন ছিল ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপে কঠোর অবস্থান নিলেও গত বসন্তে উভয় দেশ একটি সামগ্রিক সমঝোতায় পৌঁছায়। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, শি জিনপিং আশা প্রকাশ করেছেন যে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রিতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেছেন, ভারত এখন বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে। রোববার ইসলামাবাদে এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং সাম্প্রতিক এক সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি প্রকাশের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। জারদারি বলেন, বিশ্বনেতা, বিভিন্ন সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো সহানুভূতি ও সমর্থন পাকিস্তানের জনগণ এবং সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সাহস ও শক্তির উৎস হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব বার্তা প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসবাদ ও এর পেছনের সহিংস মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই একটি বৈশ্বিক সংগ্রাম। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, একা কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোকে সরাসরি অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। জারদারি সতর্ক করে বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে—যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সীমান্তের বাইরে আশ্রয় বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়, তখন এর পরিণতি নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের বহন করতে হয়।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি অভিযোগ করেছেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব দেশ পাকিস্তানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সরাসরি অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, সন্ত্রাসবাদ এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জারদারি। তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে জাতীয় সীমানার বাইরে অবস্থান, সহায়তা বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়, তখন এর পরিণতি বিশ্বজুড়ে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের বহন করতে হয়। জারদারি আরও বলেন, কিছু প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোকে অনুমতি দিয়ে অপরাধের অংশীদার হয়ে উঠেছে, আবার কেউ কেউ তাদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তিনি আফগান তালেবান প্রশাসনেরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কাবুল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার সুযোগ করে দিয়েছে।
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়াদ স্টারমার রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও শীর্ষ উপদেষ্টা মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন–সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করে, যেখানে লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য উঠে আসে। এতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পর লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের দায় স্বীকার করে মরগান ম্যাকসুইনি নিজেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দল, দেশ ও রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং তিনি এর সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং সরকার জানায়, ম্যান্ডেলসনের নিয়োগসংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। সংবেদনশীল নথিগুলো দুই দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি নিরাপত্তা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউরোপের কোনো অংশে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই, তবে হামলার শিকার হলে সামরিকভাবে প্রতিশোধ নিতে তারা প্রস্তুত। সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন বলে তাস জানিয়েছে। ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়ার ইউরোপে আক্রমণ করার কোনো কারণ নেই, তবে ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে পূর্ণাঙ্গ সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, মস্কো পশ্চিমাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তবে পশ্চিমারা ইউক্রেনের হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া কখনো ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায়নি, তবে ইউরোপ যদি যুদ্ধ শুরু করে, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ল্যাভরভ ও পুতিনের এই বক্তব্য রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে যে তারা সংঘাত চায় না, তবে আক্রমণ হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনাভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি দেশের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে, ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে দলটি ১৯৪টি আসন পেতে পারে। পিপলস পার্টি ১১৬টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নির্বাচনে জয়ের পর আনুতিন বলেছেন, এই সাফল্য দেশের জনগণের। আনুতিনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাস পর ভেঙে যাওয়ায় গত ডিসেম্বরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে না, তবু আনুতিনের ক্ষমতায় থাকা এখন প্রায় নিশ্চিত। পিপলস পার্টির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত জানিয়েছেন, আনুতিন সরকার গঠন করলে তারা বিরোধী দলে কাজ করতে প্রস্তুত। থাইল্যান্ডের নির্বাচনের ফল প্রায়ই অপ্রত্যাশিত হয়ে থাকে, এবং এবারের ফলাফলও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যা আনুতিনের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, জানুয়ারি ২৯ তারিখে প্রতি আউন্স $৫,৬০০ ছুঁয়ে রবিবারে সামান্য কমে $৫,০০০ এর নিচে নেমেছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে এর ওজন (ট্রয় আউন্সে) ও বিশুদ্ধতা (ক্যারেটে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে এক ট্রয় আউন্সের ওজন ৩১.১০৩৫ গ্রাম। বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয় লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের স্পট মার্কেটে। স্থানীয় দামে মুদ্রা বিনিময় হার, বিক্রেতার প্রিমিয়াম ও করের প্রভাব পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে স্বর্ণে ৩ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়, কিন্তু যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো কর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ মজুদ সবচেয়ে বেশি, ৮,১৩৩ টন; এরপর জার্মানির ৩,৩৫০ টন ও ইতালির ২,৪৫১ টন। গত দশ বছরে স্বর্ণের দাম চারগুণ বেড়েছে—২০১৬ সালে প্রতি আউন্স $১,২৫০ থেকে বর্তমানে প্রায় $৫,০০০—যা বাজারের অস্থির সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এর গুরুত্বকে পুনরায় প্রমাণ করে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশকে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ উভয় দেশ ওমানে মধ্যস্থ আলোচনার পর আগামী সপ্তাহে নতুন এক দফা পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ওই পরোক্ষ আলোচনাকে একটি অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরানের অবস্থান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে নির্ধারিত অধিকারের ওপর ভিত্তি করে। তেহরান সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং শুধুমাত্র পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান বেসামরিক ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না, এমনকি সামরিক হামলার হুমকি থাকলেও। তিনি জানান, ওমানের মুসকাটে যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়াকেও আলোচনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। ইরানের সেনাপ্রধান সতর্ক করেছেন, দেশটিতে হামলা হলে পুরো অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে, যদিও তেহরান যুদ্ধ চায় না। এই বার্তাগুলো ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে এসেছে। এদিকে, অর্থনৈতিক সংকট ও সহিংসতার অভিযোগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যার অভিযোগ তুলেছে, তবে কর্তৃপক্ষ বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করে এবং চিকিৎসাকর্মীদের ব্যাপক গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি মিডিয়া মোগল ও চীনের সমালোচক জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সোমবার আদালত সংক্ষিপ্ত রায়ে জানায়, লাইয়ের গুরুতর অপরাধমূলক আচরণ বিবেচনা করে এই সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি ২০২০ সাল থেকে কারাগারে আছেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা জানতে চাইলে তার আইনজীবী রবার্ট প্যাং কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। জিমি লাই ২০১৯ সালে হংকংজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভের অন্যতম নেতা ছিলেন। সেই বিক্ষোভের পর বেইজিং শহরের স্থিতিশীলতার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএল) প্রণয়ন করে। তবে সমালোচকদের মতে, এই আইন ভিন্নমত দমন করেছে এবং লাইয়ের মতো বহু আন্দোলনকারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে এই আইনে জিমি লাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই রায় হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ ও গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের ওপর এর প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।