পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ধামইরহাট উপজেলার ৫৩টি কেন্দ্রের সবকটিতে তিনি পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৮০৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৭৩ ভোট। একই উপজেলায় এবি পার্টির প্রার্থী মতিবুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১১৮ ভোট। অন্যদিকে পত্নীতলা উপজেলার ৭১টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে সামসুজ্জোহা খান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪২১ ভোট এবং দাড়িপাল্লা প্রতীকে এনামুল হক পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৪২ ভোট। পত্নীতলায় সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও ধামইরহাটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সার্বিকভাবে এগিয়ে যান জামায়াত প্রার্থী। পোস্টাল ব্যালটের ভোট যোগ করার পর আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রশান্ত চক্রবর্তী বিজয়োৎসব না করে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় ১৭৩টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীকে ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট পান। ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ব্যারিস্টার আরমান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ মীর কাসেম আলীর পুত্র এবং তিনি আওয়ামী শাসনামলে প্রায় আট বছর গুম ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ফলাফল জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য আসনে জয়ের ধারার অংশ হিসেবে এসেছে, যার মধ্যে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৬ আসনের জয়ও অন্তর্ভুক্ত। একই প্রতিবেদনে জামায়াত নির্বাচনের ফল নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল রংপুর-৩ (সদর আংশিক সিটি কর্পোরেশন) আসনে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু ৮৪,৫৭৮ ভোট পেয়ে পিছিয়ে পড়েন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ৪৩,৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যায়, রংপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই ফলাফল জামায়াতের জন্য রংপুর অঞ্চলে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংবাদটি রংপুর ব্যুরো থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ফলাফলটি অনানুষ্ঠানিক, এবং চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা তখনও প্রকাশিত হয়নি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি জোটের প্রার্থী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ৯৪ হাজার ২৩১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের মো. মহসিন পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬৫ ভোট। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই ফলাফল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিএনপি জোটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য আসন যেমন পাবনা-৫, পটুয়াখালী-৪, মেহেরপুর-১ ও গাইবান্ধা-৫ থেকেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ের খবর পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে সাকির এই জয় বিএনপি জোটের প্রতি স্থানীয় ভোটারদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. কেরামত আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিয়াঁ পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৭১৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৫৭। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৫৯টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই ফলাফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য জয় এসেছে, যেখানে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি স্থানীয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৪টির ফলাফলে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট, ফলে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৬৭০। কারচুপির অভিযোগে প্রশাসন তিনটি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করেছে। স্থগিত কেন্দ্রগুলো হলো গুণবতী উচ্চ বিদ্যালয়, আলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পোস্টাল ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৭ হাজার ৩১৬ ভোট এবং ধানের শীষ পেয়েছে ১ হাজার ২২৯ ভোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যা ভোটারদের মতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। চৌদ্দগ্রাম আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন, এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ১১০, নারী ২ লাখ ৩ হাজার ৯৭৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। সব কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী প্রতিটি আসনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনে জামায়াতের ইজ্জত উল্লাহ ২ লাখ ২০ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে ২৫ হাজার ৬২৬ ভোটে জয়ী হন। সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট পেয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি–কালিগঞ্জ) আসনে মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে প্রায় ৩৯ হাজার ভোটে জয়ী হন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে গাজী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে ২১ হাজার ৩৮ ভোটে বিজয়ী হন। ফলাফল অনুযায়ী সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
ভোলা-২ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ১৩৮টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। হাফিজ ইব্রাহিম পেয়েছেন ১১৯২৪৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯১৮৬০ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩৬৬৮। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ফলাফল সম্পূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঘোষণা করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৬ আসনের ফলাফলও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল ভোলা-২ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে এবং দলটির সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের ধারাকে আরও জোরদার করেছে।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক এনাম বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সব কেন্দ্রে এগিয়ে থেকে এনামুল হক এনামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। এনামুল হক এনাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ২০ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়, তবে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, পটিয়ার মানুষ একজন নির্যাতিত ও মজলুম নেতাকে নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি পটিয়াবাসীর জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং বিএনপি প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়েছেন, যেখানে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (দেয়ালঘড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ২৫১। ফলাফল এসেছে আসনের ১২৮টি কেন্দ্রের সবগুলো থেকে। সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ২৫৩ জন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রার্থী এই আসনে বিজয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। লুনার এই জয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এই ফলাফল সিলেট-২ আসনে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের ১৫৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি মোট ১,৬৭,৩৪৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সালাউদ্দিন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৮,৭৯০ ভোট। এই বেসরকারি ফলাফলে মঈনুল ইসলাম খান ৮৮,৫৫৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও স্থানীয়ভাবে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের অন্যান্য আসনেও বিএনপি ও তাদের মিত্র প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যার মধ্যে পাবনা-৫, পটুয়াখালী, মেহেরপুর-১ ও গাইবান্ধা-৫ আসন অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী জেলার চারটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন। নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পান ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। নীলফামারী-২ (সদর) আসনে আলফারুক আব্দুল লতিফ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোটে জয়ী হন, বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোটে জয়ী হন, বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পান ৮৯ হাজার ১০২ ভোট। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোটে নির্বাচিত হন, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পান ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট। এই ফলাফলে নীলফামারীর চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে জেলা পর্যায়ে ঘোষণা করা হয়েছে।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ড. মো. জালাল উদ্দিন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ছাতা প্রতীকে ৫৪ হাজার ৭৩৩ ভোট পান। ফলে ড. জালাল উদ্দিন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৫০ ভোটে বিজয়ী হন। চাঁদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৭ জন, এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭২০ জন। ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৪৯.৯০ শতাংশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। একই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অন্যান্য আসনেও বিএনপি ও তাদের মিত্র প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরছে।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) সংসদীয় আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আবদুল বারি সরদার বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১,১৮,২০৮ ভোট পেয়েছেন, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডিএম জিয়া পেয়েছেন ১,০৯,৭৫৯ ভোট। ফলে ডা. সরদার ৮,৪৪৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং গণনা শেষে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে। দেশের অন্যান্য আসনের মতো এখানেও বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু নোয়াখালী-৩ আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান এই ফলাফল নিশ্চিত করেন। ১৬৬টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বরকত উল্লাহ বুলু পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন, যিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮২৪ ভোট। ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফল নোয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তাদের প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বেসরকারি গণনায়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।