ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই পরাজিত হয়েছেন। বরিশাল সদর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতীকে পান ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৯ জন, যার মধ্যে ৪৮ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. মাহামুদুন্নবী ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং ফয়জুল করীম ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। সহকারী রিটার্নিং অফিসার রুমানা আফরোজ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯ জন এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ভোট কাস্ট হয়। দুটি আসনে পরাজয়ের পর ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভোটার ক্ষোভকে পরাজয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।
ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (ধানের শীষ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) প্রার্থী মু. নিজামুল হক নাইম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। একই দিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সারা দেশে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ভোলা-৩ আসনের পাশাপাশি মাদারীপুর, সিলেট-৪, নওগাঁ ও পাবনা-৫ আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এই ফলাফল বিএনপির জন্য একাধিক আসনে শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করছে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রতিফলিত করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে জামালপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। ফলে বাবুল ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। জামালপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৪ জন এবং মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এটি বেসরকারি ফলাফল বলে জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরবর্তীতে দেওয়া হবে।
বিএনপি সমর্থিত বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে এক লাখ ৪ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের (চরমোনাই) প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯১ ভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। একই দিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সারা দেশে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ভোলা-১ আসনে পার্থর এই বড় ব্যবধানের জয় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়ন পেয়েছেন ১,৯০,০০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তফা কামাল (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮২,৩১৮ ভোট। দেশব্যাপী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ভোলা-৪ আসনের পাশাপাশি নওগাঁর পাঁচটি আসনে বিএনপি, একটি আসনে জামায়াত এবং পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। এই ফলাফল বিএনপির জন্য একাধিক অঞ্চলে শক্তিশালী উপস্থিতি নির্দেশ করে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৮১,০৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সমর্থিত জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪,৫৩৩ ভোট। ১,৯৯৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন বিএনপির আবুল হোসেন খান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৬,৫৫৪ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৩টি। একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৬০,০৫৫ জন, মহিলা ভোটার ১,৫৫,৫৩৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। এই বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হয়েছে, যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত অন্যান্য আসনেও দলের সাফল্যের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণ সম্পন্ন হলেও শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব আসনে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকায় কমিশন বৃহস্পতিবার তিনটি পৃথক চিঠি জারি করে জানায় যে মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে না। ইসির চিঠি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর এবং শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী আপিল বিভাগের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন। তবে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এই স্থগিতাদেশ আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে কার্যকর থাকবে এবং চূড়ান্ত ফলাফল আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৩টার দিকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এ ফলাফল ঘোষণা করেন। শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাসউদ ৯০ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম ৪৬৮০ ভোট, তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩৭১৪ ভোটসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী অল্পসংখ্যক ভোট পান। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন, মোট ভোট পড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫১। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সামান্য কিছু ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোটের ব্যবধানে মাসউদের এই জয় ১১ দলীয় জোটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আজহারুল ইসলাম পান ৬৭ হাজার ৭৮৫ ভোট। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯ জন এবং ১১৭টি কেন্দ্রে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তারা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেন। বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় অপু বলেন, এই বিজয় শরীয়তপুর-৩ আসনের সকল মানুষের, এবং তিনি জনগণের আস্থা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। নির্বাচন চলাকালে কেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নারী-পুরুষ ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন এবং কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১২৯টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪১৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রাসেল সরদার মেহেদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৪০ ভোট। গৌরনদী উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৪ হাজার ৩০৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৫৬ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ৫৪৮ জন। বেসরকারি ফলাফলে স্বপনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় তার সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন। তবে প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কুড়িগ্রাম-১ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মোজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান জয়লাভ করেছেন। তাঁরা সবাই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। প্রতিটি আসনের ভোটকেন্দ্র ও মোট ভোটের হিসাব অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম-১ এ ২৩১ কেন্দ্র ও ৫,৬৩,৯৭৮ ভোট, কুড়িগ্রাম-২ এ ২০৫ কেন্দ্র ও ৬,০৪,৭৩৬ ভোট, কুড়িগ্রাম-৩ এ ১৪০ কেন্দ্র ও ৩,৬৮,৪৭০ ভোট এবং কুড়িগ্রাম-৪ এ ১৩০ কেন্দ্র ও ৩,৬২,৭৩৫ ভোট গণনা করা হয়। সব আসনেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা সর্বাধিক ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। এই ফলাফল কুড়িগ্রাম জেলায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে জোটের শক্ত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১২৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মাহামুদুন্নবী দাড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফজলুল করিম হাতপাখা প্রতীকে ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন। ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিজয় উদযাপন করেন। এই ফলাফল এখনো বেসরকারি, চূড়ান্ত ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আসবে।
গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই জেলায় দলের প্রথম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮,৮৬৭ ভোট পেয়ে গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়াকে পরাজিত করেন। গোপালগঞ্জ-২ আসনে কে এম বাবর ৪০,০৪৮ ভোট পেয়ে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জুকে হারান। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এস এম জিলানী ৬০,১৬৬ ভোট পেয়ে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিককে পরাজিত করেন। ফলাফল ঘোষণার আগে কে এম বাবরের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিল নিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে নির্বাচনের আগে দেয়া অঙ্গীকারসমূহ তিনি বাস্তবায়ন করবেন এবং গোপালগঞ্জের শান্তি ও উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর এই প্রথম গোপালগঞ্জে বিএনপি এমন ব্যাপক সাফল্য অর্জন করল, যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১২৬টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া (ব্যারিস্টার ফুয়াদ) ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট। বাবুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসমা উল হুসনা এ ফলাফল ঘোষণা করেন। নদী বেষ্টিত দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১০ হাজার ৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৪৬ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৫৩ হাজার ২৪৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন। বেসরকারিভাবে এ তথ্য জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৩ আসনে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে দলীয় ঐক্য নিয়ে সন্দেহ ছিল। তবে জয়নাল আবেদীনের বিজয়ের পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১২০। পঞ্চগড়-১ আসনের মোট ১৫৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফলে উত্তরাঞ্চলের এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা পান। একই নির্বাচনে অন্যান্য আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ের খবর পাওয়া গেছে, যা দলটির জন্য ইতিবাচক ফলাফল নির্দেশ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।