মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোববার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে তিনটি বহির্গামী ও সাতটি আগমনী ফ্লাইট ছিল। তবে বাতিল তালিকায় থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৫ ফ্লাইটটি বিকেল ৪টায় ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে একই কারণে আরও ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। দুবাই, শারজাহ ও দোহাগামী কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিলের মধ্যে ছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকতে পারে, যা আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একই ঘটনায় আরও পাঁচজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন সামান্য শারীরিক ও মানসিক আঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে এবং ধীরে ধীরে তাদের দায়িত্বে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সেন্টাল কমান্ড জানিয়েছে, বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া প্রচেষ্টা চলমান আছে, যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল। নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের পরিচয় ও অতিরিক্ত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না; নিকটাত্মীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনাটি ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর আঞ্চলিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রণতরীটিকে আঘাত করা হয়েছে এবং সতর্ক করে বলা হয়, স্থল ও সমুদ্র সন্ত্রাসী আগ্রাসীদের কবরস্থানে পরিণত হবে। এই দাবি আসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত জানুয়ারির শেষ দিক থেকে আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছে। তবে মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র রণতরীটিতে আঘাত করেনি এবং এর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, রণতরীটি স্বাভাবিকভাবে তার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী দাবি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানে সামরিক হামলা এবং পরবর্তী সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তার নির্দেশ করে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং শান্তি বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার নিন্দা জানান। ডা. রহমান ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং স্থায়ী শান্তির প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পাল্টা হামলাকে অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে উল্লেখ করেন এবং অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বে অস্থিরতা গভীর করবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন। তৃতীয় দিনের জেরায় ইকবাল করিম একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল থাকাকালে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং সে সময় তিনি বিদেশে ছিলেন। গুমের ঘটনায় পদক্ষেপ না নেওয়া, সরকারি সুবিধা গ্রহণ ও সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল না এবং কোনো অনিয়মের প্রস্তাব দেননি। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণ শোক ও বেদনার এই সময়ে ইরানের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং খামেনির শাহাদাতের ঘটনায় আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে। শাহবাজ শরীফ আরও জানান, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার ইরানের প্রতি সংহতি জানায় এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানায়। এই অবস্থান পাকিস্তানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে, যেখানে তারা তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইসরাইলি-মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে। ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির বরাতে জেরুজালেম পোস্ট ১ মার্চ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব তেহরানের নার্নাকে আহমেদিনেজাদের বাসভবনে হামলায় তিনি ও তার কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি এবং ইরান সরকারও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে আহমেদিনেজাদ আরদাবিল প্রদেশের গভর্নর ও তেহরানের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না থাকায় ঘটনাটির সত্যতা ও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাগুলো এমন সময়ে হয়েছে যখন ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করছিল। সর্বশেষ আলোচনা ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একই বিবৃতিতে বলেন, খামেনির পথ চলবে, যা নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও নীতির ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়। এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, দেশটি আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। রোববার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আরাগচি ব্যাখ্যা করেন, সংবিধান অনুযায়ী এই ট্রানজিশন কাউন্সিলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই তিন সদস্যের কাউন্সিল নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে এবং তারা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সবকিছুই সংবিধান ও আইনের আওতায় শৃঙ্খলাভাবে চলছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তথ্যের উৎস হিসেবে খালিজ টাইমসের উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগের আক্রমণের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তেহরানে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, ইরান কোম শহরের ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জামকারান মসজিদের গম্বুজের উপরে একটি লাল পতাকা উত্তোলন করেছে। শনিবার উত্তোলিত এই পতাকাটি ইরানি গণমাধ্যমের ভাষায় প্রতিশোধ ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেস টিভি জানিয়েছে, লাল পতাকাটি ইসলামী বিপ্লবের নেতার রক্তপাতের প্রতিশোধের প্রতীক। মসজিদের কর্মকর্তা ও ধর্মগুরুরা খামেনির প্রতিকৃতি বহন করে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০২০ সালে কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর একই মসজিদে প্রথমবারের মতো লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পতাকা উত্তোলন খামেনির সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের প্রতিফলন ঘটায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা সাধারণত তেলের দাম বাড়ায়, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ এশিয়ায় এবং বাকি অংশ ইউরোপে যায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হামলা অব্যাহত থাকবে। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে থাকবে এবং সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিন শাহাদাত ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি, যা ইরানের নেতৃত্বের আদর্শের প্রতিফলন। তিনি জানান, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ চলমান প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকবে। এই হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ট্যাংকারে হামলার দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়ার অভিযোগ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নতুন হামলার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে কুয়েত আক্রান্ত হয়েছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহত সবাই বিদেশি নাগরিক এবং তাদের আল-আদান হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য জাবের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, বাকিদের আল-আদান হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেখানে পাঁচজনের জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. আবদুল্লাহ আল-সানাদ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বুকে, মাথায় ও পেটে আঘাত, হাড় ভাঙা এবং গুরুতর জখম রয়েছে। অনুমোদিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসারে সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং দ্রুত সাড়া ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
বাহরাইন, ইরাক, জর্দান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধাবস্থা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাধারণ জনগণের কল্যাণ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, দ্রুতই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বিবৃতিতে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ থাকলেও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর আগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়, যাতে বহু প্রাণহানি ঘটে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।