চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে অভিহিত করেন। গুও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও পরিকল্পিতভাবে অবরোধ আরোপ কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে এবং ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন এই পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। চীনের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগ এবং একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতাকে প্রতিফলিত করে। চীন আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, এই ঘটনার পর কোনো তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন জুলাই সনদে সই করার জন্য আহ্বান জানান, তখন বিএনপিই প্রথম সাড়া দিয়ে সনদে সই করে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও লাইন বাস্তবায়ন করা হবে। বক্তব্যে তারেক রহমান আরও বলেন, বিরোধী দলের ওপর বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত ভর করেছে, যেমন অতীতে বিরোধীরা সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও জনসম্পৃক্ততা ছিল বর্ণাঢ্য।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় সহায়তার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। আনাদোলু এজেন্সির ১৪ এপ্রিলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রমাণ রয়েছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরান অভিযোগ করে, এসব দেশ আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করে আগ্রাসীদের সামরিক সুবিধা দিয়েছে এবং অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এই পদক্ষেপ বেআইনি। ইরান জানায়, এই কর্মকাণ্ডের ফলে যে বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার ওই পাঁচটি দেশকে নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে অংশ নেবে এমন দেশগুলো যারা একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক মিশনে অবদান রাখতে আগ্রহী। বৈঠকটি যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কীভাবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালী পারাপারে সহায়তা করা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাহাজগুলোকে এসকর্ট দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের সিদ্ধান্ত ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে রিয়াদ আশঙ্কা করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পাল্টা জবাব দেয় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রাখে। এর জবাবে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করেন, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়। সৌদি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান লোহিত সাগরের বাব আল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা সৌদি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যদিও দুই পক্ষের মধ্যে শিগগিরই আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভেরোনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মেলোনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই জলপথ সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ ইতালির সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারকে জোরদার করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত এবং বিরোধ সমাধানে কূটনৈতিক পথই তাদের পছন্দনীয়। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক কথোপকথনে তিনি এই মন্তব্য করেন। পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হুমকি, চাপ বা সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের নিজেদের সমস্যাই আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি মেনে চলতে উৎসাহিত করা। এই বক্তব্য ইরানের কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানকে তুলে ধরে।
কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কোনো পক্ষের দ্বারা হুমকির মুখে পড়তে পারে না এবং এটি পুনরায় চালু করতে কোনো শর্ত আরোপ করা উচিত নয়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দিতে এবং এর বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে তারা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। আল-আনসারি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব এবং কোনো পক্ষই এর স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, এই সংকটের সমাধান আঞ্চলিকভাবে হওয়া উচিত, যেখানে উপকূলীয় দেশগুলো এবং যেসব দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল, তাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি জানান, পাকিস্তানে নতুন দফা আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কাতার এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। কাতার শুরু থেকেই স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে, যা যুদ্ধবিরতিকে শক্তিশালী করবে এবং সবার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিরল কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইসরাইলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের পক্ষে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ অংশ নিচ্ছেন। আলোচনায় লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ইসাওও উপস্থিত থাকবেন। এই বৈঠকের আগে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়, যা কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই আগ্রাসনে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং দশ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অগ্রসর হচ্ছে এবং বৈরুতেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে না, অন্যদিকে হিজবুল্লাহও লেবাননের সরাসরি আলোচনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ডলি বেগম কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, যা প্রথম কোনো বাংলাদেশির এই অর্জন। তিনি অন্টারিও প্রদেশের টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল সিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি সম্প্রদায়ের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এবং ন্যায়পরায়ণ কানাডা গঠনে অবদান রাখবেন। লিবারেল পার্টিও তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, ডলি দীর্ঘদিন ধরে গণমানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন এবং এখন থেকে পার্লামেন্টে দলের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডলি বেগমের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান-সম্পৃক্ত চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জাহাজ ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরও এসব জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচল অব্যাহত রেখেছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্যে জানা যায়, ‘ক্রিস্টিয়ান্না’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার ইরানের বান্দার ইমাম খোমেইনি বন্দর থেকে সোমবার প্রণালীটি অতিক্রম করে। আরেকটি জাহাজ ‘রিচ স্ট্যারি’, যা ইরান-সম্পর্কিত বাণিজ্যের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পূর্বদিকে যাত্রা করে প্রণালী পার হয়। ‘মুরলিকিশান’ নামের আরেকটি ট্যাংকার, যা একইভাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে, চীনের লানশান থেকে পশ্চিমমুখী হয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে এবং সর্বশেষ এটি ইরানের কেশম দ্বীপের পূর্বে অবস্থান করছিল। চতুর্থ ট্যাংকার ‘এলপিস’ মঙ্গলবার ইরানের বুশেহর বন্দর থেকে পূর্বমুখী হয়ে প্রণালীটি পার হয়, তবে এর গন্তব্য অজানা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন করতে ভুয়া লোকেশন তথ্য বা ‘স্পুফিং’ ব্যবহার করে থাকতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, সোমবার জিএমটি সময় ১৪:০০ থেকে ইরানের বন্দরগামী ও বহির্গামী সব নৌযানে অবরোধ আরোপ করা হবে, তবে ইরান-বহির্ভূত বন্দরের জন্য প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতাকে শতভাগে উন্নীত করার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। অতীতে বিভিন্ন সরকার শিক্ষকদের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে এবং শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সরকারের চলমান উদ্যোগে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সতর্ক করেছেন যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও কাঁচামাল বাজারে অস্থিরতা এখন অনিবার্য এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। লি জে মিউং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও কাঁচামাল সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা এবং উচ্চ তেলের দাম অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্রুত বিকল্প সরবরাহ পথ তৈরির পাশাপাশি শিল্প খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খলা গড়ে তোলা, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি শিল্প পুনর্গঠন এবং প্লাস্টিক-পরবর্তী অর্থনীতিতে রূপান্তরকে জাতীয় কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেছেন, ক্যানবেরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে এবং এ বিষয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন, যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন আছে কি না। মার্লেস বলেন, অস্ট্রেলিয়া হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে গভীরভাবে আগ্রহী। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে তবেই অস্ট্রেলিয়া প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় অবদান রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ে কী ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই মন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার সতর্ক অবস্থানকে নির্দেশ করে, যেখানে তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে সমর্থন করলেও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের ৪৬তম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের জন্য এখনো চুক্তিতে আসার সুযোগ রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান এই নৌ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে নেওয়া মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিবাদে তেহরানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে পারে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যেও নতুন আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।