মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধারণ করে, যা লক্ষ লক্ষ বছরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল। এই অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি ‘সুপারজায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত। এখানকার তেল উৎপাদন উত্তর সাগর বা রাশিয়ার সেরা তেলক্ষেত্রগুলোর তুলনায় দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। এই বিপুল সম্পদ যেমন আশীর্বাদ, তেমনি আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি অ্যারাবিয়ান ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষস্থলে অবস্থিত, যা ভাঁজ ও ফাটলযুক্ত শিলাস্তর তৈরি করেছে। এসব কাঠামো হাইড্রোকার্বন উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য আদর্শ। জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াস যুগে গঠিত চুনাপাথরসমৃদ্ধ শিলাস্তরগুলো তেল ও গ্যাসের উৎকৃষ্ট উৎস। সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেলক্ষেত্র এবং সাউথ পার্স–নর্থ ডোম গ্যাসক্ষেত্র এর বড় উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন চললেও এই অঞ্চলে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেল ও ৯.৫ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্তোলন সম্ভব হতে পারে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল তাদের আসন্ন নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে, যা আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১৫ এপ্রিল রাতে বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে নির্বাচনি প্রচারণা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাধারণ আসনের সাতটি ও আঞ্চলিক আসনের সাতটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন জেলা বার সমিতি নির্বাচন স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছিল। এসব অনুরোধ বিবেচনা করে ২ এপ্রিল নির্ধারিত ১৯ মে’র ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর আগে ২ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিসার্চ, অ্যাডভোকেসি, পলিসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইনস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে। রোসাসের মতে, এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, বর্ণবৈষম্য ও দখলদারি নীতি, পাশাপাশি লেবাননে হামলা ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষভাবে ইতালি সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইসরাইল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিতে আহ্বান জানান এবং বলেন, কেবল বক্তব্য নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা বন্ধে এখন বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স ও স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ছিল প্রায় পঞ্চাশ বছর পর দুই বৈরী দেশের প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। যদিও আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। প্রতিবেদনটি বলছে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে। ভারতীয় মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে প্রচার করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। পাকিস্তানের সাফল্যের প্রসঙ্গ উঠলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের দালাল বলে মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলের প্রতি ভারতের প্রকাশ্য সমর্থন ও সুযোগসন্ধানী পররাষ্ট্রনীতি দেশটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে। যদিও ইসলামাবাদ বৈঠক প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, পাকিস্তানের অব্যাহত মধ্যস্থতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখতে পারে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় পাকিস্তানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংলাপ বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে সৌদি যুবরাজ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেন। এই বৈঠক সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের যৌথ আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।
তরুণ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সংগঠন সম্প্রসারণে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একাধিক পরিচিত মুখ যোগ দিতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ), এবি পার্টি ও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এনসিপি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তুলে সরকারকে চাপ দিতে এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, একাডেমিশিয়ান, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিগগিরই দলে যোগ দিতে পারেন। বিএনপির ক্ষুব্ধ কিছু নেতা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। এনসিপি নেতারা মনে করেন, জুলাই শক্তিগুলোর ঐক্যই গণতন্ত্র ও সংস্কার রক্ষার একমাত্র পথ। চলতি এপ্রিল মাসে এনসিপির সাধারণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, কমিটি সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলটি সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে বিরোধী ঐক্য কর্মসূচিতেও অংশ নিতে চায়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে ক্যাটারপিলার ডি-৯ বুলডোজার বিক্রি বন্ধে মার্কিন সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটকে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে বেসামরিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে ৪০ জন সিনেটর বিক্রির বিরোধিতা করেন। তাহরির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির নির্বাহী পরিচালক মাই এল-সাদানি বলেন, এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে, এল-সাদানি উল্লেখ করেন যে গত বছরের তুলনায় সমর্থনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তখন এই সংখ্যা ছিল ২৭। ওয়াশিংটনভিত্তিক তার সংস্থা সিনেটরদের এই উদ্যোগে সমর্থন দিতে আহ্বান জানিয়েছিল। এছাড়া, ইসরাইলের কাছে ১,০০০ পাউন্ডের বোমা বিক্রি ঠেকানোর প্রস্তাবে ৩৬ জন সিনেটর সমর্থন দেন। এল-সাদানির মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার ও তাদের প্রতিনিধিদের অবস্থানের পরিবর্তনের প্রতিফলন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়—রেজায়ি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে ইরান তাদের জাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি হরমুজ প্রণালীর পুলিশ হতে চান? তিনি আরও বলেন, মার্কিন জাহাজগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম আঘাতেই ডুবে যেতে পারে। এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ জারি করেছে, আর ইরানও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। রেজায়ি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রধান ছিলেন এবং তিনি এখনো দেশটির প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের দেশে নেওয়ার রাশিয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে রাশিয়া ইরানের ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রস্তুত ছিল। তিনি এটিকে একটি ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ জানায়, গত বছরের জুন মাসে প্রথম এই প্রস্তাব দেয় রাশিয়া, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রয়টার্সের তথ্যমতে, রাশিয়া এই সপ্তাহে আবারও প্রস্তাবটি দিয়েছে। পেসকভ আরও জানান, প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উদ্যোগটি পুনরায় বিবেচনা করতে প্রস্তুত আছেন যদি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আগ্রহ দেখায়। এই ঘটনাটি ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ একটি প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। ১০ এপ্রিল পাকিস্তানে প্রথম দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনার আগে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, বিদেশি ব্যাংকে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো আলোচনা শুরু করা যাবে না। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করতে রাজি হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তা অস্বীকার করে জানায়, সম্পদগুলো এখনও অবরুদ্ধ রয়েছে। ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়, যার বেশিরভাগই তেল বিক্রির আয় থেকে এসেছে। এই সম্পদ চীন, ভারত, ইরাক, জাপান, কাতার, লুক্সেমবার্গ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তেহরান অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার মুক্তির দাবি জানিয়েছে, যা আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অর্থ মুক্ত হলে ইরানের অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে, মুদ্রার ওঠানামা কমবে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হ্রাস পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ইরানের একটি কার্গো জাহাজকে অবরোধ ভেঙে যাওয়া থেকে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে তারা। এটি চলমান সামুদ্রিক অবরোধের মধ্যে দশম এমন ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অভিযানে ইউএসএস স্প্রুয়ান্স নামের একটি এজিস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার অংশ নেয়। ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটি বান্দার আব্বাস থেকে যাত্রা করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করছিল বলে জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার শুরু হওয়া অবরোধের পর থেকে মোট দশটি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং কোনো জাহাজই অবরোধ ভাঙতে পারেনি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবরোধটি এখন তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদনে অবরোধের উদ্দেশ্য বা ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর আর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, সেটির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রে একই ধরনের ছাড় গত সপ্তাহেই শেষ হয়েছে এবং ইরানের ক্ষেত্রেও নতুন করে আর কোনো সময়সীমা বাড়ানো হবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগে জাহাজে তোলা ইরানি ও রুশ তেল সাময়িকভাবে খালাস ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মতে, এই সাময়িক ছাড়ের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। বিবিসি সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নির্ভর করবে দেশটির ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর দৃঢ় সংগ্রামের ওপর। তিনি আরও বলেন, ইরান এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’—যার মধ্যে হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি ও ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া অন্তর্ভুক্ত—যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির উভয় ক্ষেত্রেই এক সত্তা হিসেবে কাজ করে। গালিবাফ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরাইলকেন্দ্রিক নীতি থেকে সরে আসা। এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন লেবাননকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও সূত্রে চুক্তির অবস্থা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মিয়ানমারে অবৈধভাবে সিমেন্ট পাচারের সময় একটি ফিশিং বোট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে সারিকাইত গাছতলী ঘাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬৬০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত সিমেন্টের বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সিমেন্ট নেওয়া হচ্ছিল। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পাচারে ব্যবহৃত ফিশিং বোটটি জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত সিমেন্ট ও বোটের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথ ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবস্থানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করে, উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জেবেইল এলাকায় একটি ইসরাইলি সামরিক বুলডোজার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যেখানে বর্তমানে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। হিজবুল্লাহ আরও জানায়, মায়স আল-জাবাল শহরের কেন্দ্রস্থলে ইসরাইলের দুটি ট্যাংকের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। বিন্ত জেবেইল এলাকায় ইসরাইলি সেনা ও সামরিক যানবাহনের ওপর রকেট ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব হামলার বিষয়ে ইসরাইল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ঘটনাগুলো ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটছে, যেখানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।