দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিরিয়ার আল-ইয়ারুবিয়াহ সীমান্ত দিয়ে ইরাকের অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি পুনরায় শুরু হয়েছে। মোট ৭০টি তেলের ট্যাঙ্কার সিরিয়ার ভূখণ্ড অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বানিয়াস শোধনাগারের দিকে যাচ্ছে বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে। সীমান্ত কর্মকর্তা ফেরাস রুস্তম বলেন, এই পথ পুনরায় চালু করা ইরাক ও সিরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সরবরাহ আরও কার্যকর হবে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে উঠবে। ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইরাক বিকল্প রপ্তানি রুট হিসেবে এই পথ বেছে নিয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হলে রাবিয়া নামে পরিচিত এই সীমান্ত পথটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০১৪ সালে আইএস দখল করে নেয়। পরে ইরাকি কুর্দি বাহিনী এলাকা পুনর্দখল করলে পথটি আবার সচল হয়।
ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগে ভর্তি শিশুদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে হাম ছড়াচ্ছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪৬৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে, এর মধ্যে ১৭ জন মারা গেছে। মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ১৫২ শতাংশের বেশি। ছয় থেকে নয় মাস বয়সি শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড ও আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি নেই, ফলে অনেক অভিভাবক বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। সময়মতো টিকা না নেওয়া ও অপুষ্টি সংক্রমণকে প্রাণঘাতী করে তুলছে। অভিভাবকরা শিশুদের অবিরাম কান্না, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগার বর্ণনা দিয়েছেন এবং আইসিইউ সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১,০৯৬ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে চারজনের মৃত্যু সন্দেহজনক। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ৪৯ জন নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি খুব শিগগিরই ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তবে তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান তাদের কাছে একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, কিন্তু তিনি মনে করেন এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে মানবতা ও বিশ্বের ক্ষতির জন্য ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। ইরানের নতুন প্রস্তাবে কী রয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এএফপি সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর দুই দেশের চলমান উত্তেজনা নিরসনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবের বিস্তারিত অনুপস্থিতি এবং ট্রাম্পের নেতিবাচক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের আট বিভাগের অধস্তন আদালত তদারকির জন্য ১৩ জন বিচারপতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক ১৩টি ‘মনিটরিং কমিটি ফর সাব-অর্ডিনেট কোর্টস’ পুনর্গঠন করেছেন। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব কমিটির সাচিবিক সহায়তার জন্য ১৩ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তথ্যমতে, নতুন কমিটিতে বরিশালে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন, রাজশাহী-২ এ বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি, ঢাকা-১ এ বিচারপতি জেবিএম হাসান, খুলনা-১ এ বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া, খুলনা-২ এ বিচারপতি মো. জাফর আহমেদ, ময়মনসিংহে বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং ঢাকা-২ এ বিচারপতি ফাতেমা নজীব দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যান্য বিভাগে দায়িত্ব পেয়েছেন বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান, শশাঙ্ক শেখর সরকার, আহমেদ সোহেল, সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, কেএম হাফিজুল আলম ও মো. আতাবুল্লাহ। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আটজন বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ১৩ জনকে যুক্ত করা হয় এবং গত বছরের এপ্রিলে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আত্মীয় ও আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তি ডা. জোনায়েদ শফি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৬টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে, যার মধ্যে দুদক দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে। চট্টগ্রাম আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং বিএফআইইউ তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. জোনায়েদ এখন বিএনপিপন্থি পরিচয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং বিএনপি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করে অসুস্থতার অজুহাতে জামিন নেওয়ার পরিকল্পনা তার রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যাংক ও পুঁজিবাজার থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডা. জোনায়েদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই চাপে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘জ্বালানির ফাঁদে বন্দি অর্থনীতি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তারা বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী ডলার সংকট ও আমদানিনির্ভরতা উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি সাময়িক ধাক্কা নাকি অর্থনীতি ধীরে ধীরে একটি এনার্জি ট্র্যাপে আটকে পড়ছে। আলোচনায় সাবেক জ্বালানি সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খান, সাবেক উপাচার্য সাত্তার মণ্ডল, ট্রেড সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হকসহ শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বলেন, সরবরাহ সীমাবদ্ধতা, আতঙ্কজনিত ক্রয় আচরণ এবং সীমিত মজুত ক্ষমতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। খান নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরেন, মণ্ডল কৃষিতে ডিজেলের বাড়তি চাহিদার কথা বলেন, আর হক তেলের দাম বৃদ্ধিতে জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আলোচকরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রসার ও গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের পরামর্শ দেন। পিপিআরসি চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান সতর্ক করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ এপ্রিল ২০২৬ শেষ হয়েছে ২৫ কার্যদিবসের আলোচনার মধ্য দিয়ে। ১২ মার্চ শুরু হওয়া অধিবেশনটি সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের ৯১টি অধ্যাদেশসহ মোট ৯৪টি বিল পাস হয়। পুরো অধিবেশন জুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও ‘একাত্তর কার্ড’ ইস্যু। সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য আক্রমণ করেন। বিরোধী দল চার দফা ওয়াকআউট করে, যার মধ্যে ছিল জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা না ডাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রহিতকরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অধিবেশনটিকে প্রাণবন্ত হলেও বিভাজনমূলক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের বয়ানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, যেমন অতীতে আওয়ামী লীগ করেছিল। তারা আরও বলেন, এবার স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও সংসদে তুলনামূলক ভারসাম্য দেখা গেলেও পুরোনো মতাদর্শিক বিভাজন আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইন প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা কম ছিল এবং জুলাই সনদ ও সংস্কার অধ্যাদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
২০০৯ সালের পিলখানার বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বিডিআর হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী নজরুল ইসলাম মল্লিক। ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনার পর নজরুল প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়ে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের মার্চে তাকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায় এবং পরে তার লাশ বাগেরহাটের বলেশ্বর নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নজরুলের স্ত্রী মুন্নী আক্তার স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেন। নজরুল হত্যাসহ শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার চলছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নজরুলের লাশ শনাক্ত করা হয় এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, তৎকালীন র্যাব গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান নজরুলকে হত্যা করেছেন। এই মামলা এখনো চলমান এবং ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ-সংক্রান্ত গুম ও হত্যার তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শেষে আলোচনায় এসেছে কোচবিহারের সাবেক ছিটমহলবাসীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন। ২০১৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমা চুক্তির মাধ্যমে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের পর নাগরিকত্ব পাওয়া এই মানুষরা একসময় নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ছিলেন। পোয়াতুরকুঠি ও মশালডাঙ্গার মতো গ্রামগুলোতে এখন বিদ্যুৎ, রাস্তা ও স্কুল এসেছে, তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিশ্রুত অনেক সুবিধা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। গ্রামবাসীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে জমির দলিল না পাওয়া, কর্মসংস্থানের অভাব এবং রাজনৈতিক বিভাজনের হতাশা। একসময় নাগরিকত্বের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করা মানুষরা এখন তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামপন্থি দলে বিভক্ত। কেউ কেউ বলছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এই বিভাজন তৈরি হয়েছে, আবার অনেকে মনে করেন ঐক্য হারানোর ফলে দাবিগুলো আদায় কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, তবু সাবেক ছিটমহলবাসীদের প্রত্যাশিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের গল্প এখন অগ্রগতি ও হতাশার মিশ্র প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত প্রশাসনিক সংস্কার প্রস্তাব কার্যত থেমে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত অবসরপ্রাপ্ত আমলা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ঔপনিবেশিক ও সামন্তবাদী মানসিকতা ভেঙে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে কমিশনটি নিয়োগ, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধানে মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক সংস্কারের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখন প্যাকেটবন্দি অবস্থায় আছে এবং কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব ও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাতন্ত্রের চরিত্র বদলায়নি। ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানি আগের মতোই চলছে। দেশের আট বিভাগে শতাধিক সেবাগ্রহীতার সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে, ভূমি, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ বেড়েছে। সাবেক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া রাজনৈতিক প্রশাসন সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সরকার বলছে, তারা দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুয়ীদ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
ইউরোপীয় ফুটবলের ২০২৫–২৬ মৌসুম শেষের পথে, আর শীর্ষ লিগগুলোর শিরোপা লড়াই এখন প্রায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। জার্মান বুন্দেসলিগায় ইতোমধ্যে শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। স্পেনের লা লিগায় ৩৩ রাউন্ড শেষে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা, আর রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৪। গতকাল বার্সেলোনা খেলেছে ওসাসুনার বিপক্ষে, আজ রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ এসপানিওল। বার্সেলোনা জিতলে এবং রিয়াল হারলে বা ড্র করলে নিশ্চিত হবে কাতালানদের ২৯তম লা লিগা শিরোপা। ইতালির সিরি’এতেও উত্তেজনা তুঙ্গে। ৩৪ ম্যাচ শেষে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইন্টার মিলান, দ্বিতীয় স্থানে নাপোলি ৬৯ এবং তৃতীয় স্থানে এসি মিলান ৬৭ পয়েন্টে। লিগে বাকি মাত্র চার ম্যাচ, ফলে পার্মার বিপক্ষে জয় পেলেই ইন্টার নিশ্চিত করবে তাদের ২১তম শিরোপা। মে মাসের এই শেষ ধাপে ইউরোপীয় ফুটবলে শিরোপা দৌড় এখন চরম উত্তেজনায়, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বদলে যেতে পারে পুরো মৌসুমের ভাগ্য।
গাজা সিটির ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার স্তূপের মাঝে সারিবদ্ধ নতুন বিলাসবহুল ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ দেখা যাচ্ছে। কাচের দেয়াল, দামি আসবাব ও ঝলমলে আলোয় সাজানো এসব স্থাপনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলপন্থি অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করছে, দাবি করছে গাজায় জীবন স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং কোনো গণহত্যা হয়নি। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা, যেখানে সাধারণ মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকার লড়াই করছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, যুদ্ধের আগে সাধারণ মানুষ ক্যাফেতে যেতেও পারত, কিন্তু এখন তা অসম্ভব। এসব নতুন স্থাপনা মূলত যুদ্ধের মুনাফাখোরদের তৈরি, যারা চোরাচালান, লুটপাট ও পণ্য মজুত করে ধনী হয়েছে। অন্যদিকে, গাজার বিশাল জনগোষ্ঠী তাঁবুতে বসবাস করছে, বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে দিন কাটাচ্ছে। খাদ্য ও যাতায়াতের খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিলাসবহুল ক্যাফেগুলো কোনো স্বাভাবিকতার প্রতীক নয়, বরং গাজার সমাজে গভীর বৈষম্য ও চলমান অস্বাভাবিকতার প্রতিফলন।
ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে ‘জিম্মি’। শনিবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প একজন স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নন, বরং নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রে তার সমর্থকদের প্রভাবে কাজ করছেন। কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, কিন্তু তা থেকে বের হতে পারছিলেন না এবং নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ৮ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইল লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা শুরু করে, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কার্লসনের মতে, ইসরাইলের উদ্দেশ্য ছিল আলোচনার পথ বন্ধ করে ইরানকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। ট্রাম্পের প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা না করার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দাসত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। টাকার কার্লসন দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৪ সালে ট্রাম্পের ওপর হামলাকে তিনি ‘ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ’ বলেছিলেন।
একসময় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ হিসেবে পরিচিত আরাল সাগর, যা কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত ছিল, এখন তার আগের আয়তনের এক-দশমাংশেরও কমে নেমে এসেছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও মৎস্যসম্পদের প্রধান উৎস এই সাগর এখন পরিত্যক্ত বন্দর ও মরিচাপড়া জাহাজে ভরা এক লবণাক্ত মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একে বিংশ শতাব্দীর ভয়াবহতম পরিবেশগত বিপর্যয়গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই সংকটের সূচনা ১৯৬০-এর দশকে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিকল্পনায় আমু দরিয়া ও সির দরিয়া নদীর পানি তুলা চাষে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে সাগরে পানির প্রবাহ কমে গিয়ে দ্রুত শুকিয়ে যায়। উন্মুক্ত তলদেশ এখন ‘আরালকুম মরুভূমি’ নামে পরিচিত, যা বিশ্বের নবীনতম মরুভূমিগুলোর একটি। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় মধ্য এশিয়ার নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হয়ে যৌথ জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যতে ক্ষতি রোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কঠোর নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছেন ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (এসএনএপি)-এর অংশগ্রহণকারী সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ কমেছে। নতুন বিধি অনুসারে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী শারীরিকভাবে সক্ষম এবং ১৪ বছরের নিচে সন্তান নেই—এমন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। আগে এই শর্ত ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত প্রযোজ্য ছিল এবং ১৮ বছরের নিচে সন্তান থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ছাড় দেওয়া হতো। এছাড়া, নতুন নিয়মে কিছু বৈধভাবে বসবাসরত অ-নাগরিককেও সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানায়, গত অর্থবছরে গড়ে প্রতি মাসে ৪ কোটি ২১ লাখ মানুষ এসএনএপি সুবিধা পেয়েছেন, যার ব্যয় ছিল প্রায় ১০১.৭ বিলিয়ন ডলার। গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর ও ব্যয় আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮৫ লাখে, যা ছয় মাসে ৮ শতাংশেরও বেশি হ্রাস নির্দেশ করে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।