ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন ব্যবস্থা চালু করেছে। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে আইন ভঙ্গের প্রমাণ সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মালিক ও চালকদের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা ও জরিমানা পরিশোধ না করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই তথ্য ৩ মে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও নাগরিক সেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন যান, অবৈধ পার্কিং ও অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা কোনো অননুমোদিত আর্থিক লেনদেন না করেন এবং প্রতারণার চেষ্টা হলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করেন। ডিএমপি সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন উন্নত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে, যা লাল বাতি অমান্য, উল্টো পথে চলা, অবৈধ পার্কিং ও লেন ব্লক করার মতো অপরাধ শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা করছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কর কমিশনার, গবেষক ও লেখক কাজী ইমদাদুল হককে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিকভাবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দেন। দেশের রাজস্ব প্রশাসন ও সাহিত্য অঙ্গনে সুপরিচিত কাজী ইমদাদুল হক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিসিএস (কর) ক্যাডারের ৭ম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ট্যাক্সেস আপিলেট ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এনবিআরের কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক করনীতি ও দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে এম.এসসি-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনকারী কাজী ইমদাদুল হক সাহিত্যচর্চা ও টেলিভিশনে আয়কর বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘কালো টাকা’ আলোচিত একটি প্রকাশনা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার ঘোষণা করেছে যে মে মাসে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত থাকবে। সংস্থাটি জানায়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ৩ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে এপ্রিল মাসে দুই দফায় এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয় এবং ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, মে মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম সামান্য ২ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। গত মাসেও অটোগ্যাসের দাম দুইবার সমন্বয় করা হয়েছিল। ২ এপ্রিল ও ১৯ এপ্রিলের সমন্বয়ের পর দাম দাঁড়ায় প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা। মে মাসের এই সামান্য বৃদ্ধি এলপিজি বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৬ সালের ৩ মে ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা শিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে নতুন কৌশলের আহ্বান জানান। ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সুশাসন ও কর্মসংস্থান’ বিষয়ক সেশনে তারা রাজস্ব অটোমেশন, বড় প্রকল্পে দুর্নীতি দমন এবং জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, বিডিজবস-এর সিইও ফাহিম মাসরুর ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদসহ বক্তারা অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব এবং শিক্ষিত যুবকদের উচ্চ বেকারত্বের বিষয় তুলে ধরেন। তারা বলেন, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদের কারণে বিনিয়োগ কমে গেছে, ফলে উদ্যোক্তা তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা ও রাজস্ব সংস্কারের অভাব অর্থনীতিকে স্থবির করেছে। তারা কর ব্যবস্থার অটোমেশন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান।
জাপানের ইওয়াতে অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল টানা ১১ দিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দমকল ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভাতে কাজ করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম দাবানল। প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর পার্বত্য বনভূমি পুড়ে যায়, যা সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় পাঁচ গুণ। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত আটটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন সামান্য আহত হয়েছেন। আগুনের কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওৎসুচি শহরের মেয়র কোজো হিরানো জানান, আকাশপথ ও স্থলপথে ব্যাপক প্রচেষ্টা এবং ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, কিছু এলাকায় এখনও ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে পারে। কিয়োদো নিউজ একে গত তিন দশকের দ্বিতীয় বৃহত্তম দাবানল হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শীতকাল ক্রমেই শুষ্ক হয়ে ওঠায় দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরও বড় দাবানলের আশঙ্কা তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই। পূর্ব মাদারবাড়ী, পশ্চিম মাদারবাড়ী ও পাঠানটুলী ওয়ার্ডে চলমান মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়; নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি জানান, গুলজারখাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুইস গেট নির্মাণকাজ চলছে। অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এলাকা ও আশপাশে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। মেয়র জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চলমান খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১১০টি ফ্লাইটে মোট ৪৩ হাজার ৭৭৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে হজ অফিস। পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সাতজন হজযাত্রী স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মধ্যে পাঁচজন মক্কায় এবং দুজন মদিনায় মারা যান। বুলেটিনে আরও বলা হয়, সৌদি মেডিকেল টিম ৯ হাজার ১৭৫ জন হজযাত্রীকে সরাসরি চিকিৎসা দিয়েছে এবং আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ৯ হাজার ৭৩০ জন স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাসের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৩৪ হাজার ৫৪৩ জন হজযাত্রী ধাপে ধাপে সৌদি আরবে যাবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। রোববার (৩ মে) এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নের কারণ ব্যাখ্যা করেছে। বার্তায় বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জানমালের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ভালভ বন্ধ করে লিকেজ মেরামতের কাজ চলছে। এর ফলে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিথ্যা দাবি পুনরাবৃত্তি না করে ইউরোপের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা করা। শনিবার রাতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় আরাগচি এই মন্তব্য করেন। আলোচনায় দুই কূটনীতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের নিরাপত্তা, আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেন। আরাগচি যুদ্ধবিরতি ও চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং ইউরোপের উচিত এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়া।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। আল জাজিরা উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তেহরান মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যদিও সেই সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। আইআরজিসির মতে, চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপ থেকেও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দুটি কঠিন বিকল্পের মুখে—একটি অসম্ভব সামরিক অভিযান শুরু করা অথবা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে একটি অপ্রত্যাশিত চুক্তি করা। এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।
ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলায় ১২তম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দি দিয়েছেন কনস্টেবল নাহিদ মিয়া। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত ছিলেন। ২০ জুলাই তিনি শুনেছিলেন, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাকির কাজলা এলাকায় গুলি করে একজনকে হত্যা করেছেন। ৮-১০ দিন পর ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে গুলি চালানো ব্যক্তি ছিলেন জাকির হোসাইন এবং নিহত ব্যক্তি ছিলেন তায়িম ভূঁইয়া। নাহিদ বলেন, ভিডিওতে জিন্স, ডোরাকাটা টি-শার্ট, ঘড়ি ও হেলমেট পরা অবস্থায় জাকিরকে খুব কাছ থেকে গুলি করতে দেখা যায়। তিনি জাকিরকে সহকর্মী হিসেবে চিনতে পারেন। মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জন পলাতক। গ্রেপ্তার দুই আসামি—সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহদাত আলী—কে আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জুলাই বিপ্লবের সময় যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ২৬০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক বেশি মজুরি দিয়েও ধান কাটাতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ ধান কাটার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কৃষকদের দিশেহারা করে তুলেছে। গোয়ারী এলাকার কৃষক ফয়েজ জানান, তার ২১ শতক জমির ধান প্রায় তলিয়ে গেছে এবং ধান কাটাতে ৫ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। কৃষক মোস্তুফা জানান, দেড় একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, মাত্র ৭–৮ দিন পর ধান পাকা শেষ হতো। তিনি জানান, দেড় একর জমিতে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং এখন সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান জানান, এ বছর ভালুকায় ১৮ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ১৭৪ হেক্টর জমির ধান ঘরে তোলা হয়েছে এবং ২৬০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
একটি ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহর থেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীকে আজ আশকেলন শহরের আদালতে হাজির করা হবে। ৫০টিরও বেশি নৌযানের এই বহর ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল গাজায় ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে, আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী বৃহস্পতিবার গ্রিসের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরটি আটক করে। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১৭৫ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক দুই কর্মী হলেন স্পেনের সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের থিয়াগো অ্যাভিলো। মানবাধিকার সংগঠন আদালাহর আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি সমন্বয়ক মিরিয়াম আজেম জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত তাদের আদালতে হাজির করা হয়নি। ঘটনাটি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আযহায় দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতি যেমন উট ও দুম্বা ৫ হাজার ৬৫৫টি। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি, ফলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু। গত বছর মোট প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি এবং জবাইকৃত পশু ছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি, ফলে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১০ হাজারটি। তিনি বলেন, এসব তথ্য প্রমাণ করে দেশে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই এবং আমদানির প্রয়োজনও নেই। সরকারের ধারাবাহিক নীতি সহায়তা ও খামারিদের উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন আত্মনির্ভরশীল, যা খামারিদের ন্যায্য মূল্য ও অর্থনীতির শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানায়, কোনো শক্তিই ইরানি জনগণের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাতি কখনোই তাদের শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না এবং শত্রুর হামলা থেকে দেশকে রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয়। সরকারের পক্ষে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশের কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি জানায়, এই সমাবেশগুলো ইরানি জনগণের অন্তর্দৃষ্টি ও সচেতনতার প্রতিফলন, যা শত্রুকে চেনা, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নিজেদের কর্তব্য অনুধাবনে সহায়তা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনতার ঐক্য সশস্ত্র বাহিনীর জন্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানির মতো। প্রেস টিভি সূত্রে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে আইআরজিসি বর্তমান সংবেদনশীল ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য ও দৃঢ়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।