বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি এবং স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের কোনো রূপরেখা নেই। এর আগের দিন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। গোলাম পরওয়ার জানান, বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, কর কাঠামোর দুর্বলতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের অভাব রাজস্ব আদায়ে বাধা সৃষ্টি করবে। ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। জামায়াত দাবি করে, তাদের প্রস্তাবিত জনমুখী বাজেট সরকার উপেক্ষা করেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন। এটি বর্তমান সরকারের এবং এই অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটটি নিয়ে অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ একে সংস্কারমুখী ও বাস্তবসম্মত বলেছেন, আবার কেউ একে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা-বিবর্জিত বলে সমালোচনা করেছেন। বাজেটে ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি, সরকারি ঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোজ্যতেল উৎপাদনে কর অব্যাহতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শুল্ক ছাড় এবং শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ও তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। তবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২৩ শতাংশ বাড়ানো এবং ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। সিপিডির দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটকে চিন্তাশীল বলে অভিহিত করলেও আর্থিক কাঠামো ও বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন। বিরোধী নেতারা বাজেটকে অবাস্তব ও অস্বচ্ছ বলেছেন, আর টিআইবি কালো টাকা বৈধকরণের সুযোগ না রাখায় সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, শত্রুর যেকোনো হুমকি, আগ্রাসন বা ভুল হিসাব-নিকাশের তাৎক্ষণিক, চূড়ান্ত ও বেদনাদায়ক জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, শত্রুরা ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করা, জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়া, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোট ইরানের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও অগ্রগতির পথে বাধা দিতে সামরিক, গোয়েন্দা, গণমাধ্যম, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল প্রয়োগ করেছিল, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত বলে জানায় আইআরজিসি। সংস্থাটি জোর দিয়ে জানায়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত।
ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপ দখল করবে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয় এই দ্বীপে, যা বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত। কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত। মাত্র আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থের খার্গ দ্বীপের চারপাশের গভীর জলরাশি বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে নোঙর করার সুযোগ দেয়। এখান থেকে মূলত এশীয় বাজারে, বিশেষ করে চীনে, অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। দ্বীপটির দৈনিক তেল বোঝাই সক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল হলেও, বর্তমানে জাতীয় রপ্তানি প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের মধ্যে সীমিত। খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হতে পারে এবং ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে তেলের দাম আরও বেড়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পবিত্র হজ পালন শেষে মোট ৫২ হাজার ৪৯১ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ২১ হাজার ৯২০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সে ১৮ হাজার ৮৮০ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সে ৮ হাজার ৩৮০ জন হাজি দেশে ফেরেন। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ৩ হাজার ৩১১ জন হাজি সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন। চলতি বছর হজ পালনকালে মোট ৪৯ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় একজন ছিলেন। এছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১০ জন হাজি, বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বছর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হাজি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে এবং শেষ ফ্লাইট ৩০ জুন নির্ধারিত।
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে ন্যাটো অভিযানে ব্যবহৃত বিমান ও নৌ সরঞ্জামের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দুই জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি চলতি মাসের শুরুতে একটি লিখিত নথির মাধ্যমে মিত্রদের জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে একে ইউরোপের প্রতি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো মিশনে বরাদ্দ করা এফ-১৬ ও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান প্রায় ১৫০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হবে, সামুদ্রিক টহল বিমান ২৬ থেকে ১৫-এ নামানো হবে এবং ইউরোপে বরাদ্দ করা আটটি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া একটি বিমানবাহী রণতরী, একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ও কৌশলগত বোমারু বিমানের পুনর্বণ্টনও পরিকল্পনায় রয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তন জোটের দূরপাল্লার হামলা ও আকাশপথে নজরদারির সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।
আইনজীবী শিশির মনির শুক্রবার জানান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, বরং এর প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তিনি ফেসবুকে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে দাবি করেন, বাতিল হওয়া লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059 প্যাথলজি সেন্টারের, আর হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বর HSM 4310058। শিশির মনির বলেন, সরকার হাসপাতাল ও প্যাথলজি ল্যাবের জন্য দুটি পৃথক লাইসেন্স দিয়েছে এবং প্রশ্ন তোলেন, এটি প্রশাসনিক অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত ভুল। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, আদেশে স্পষ্টভাবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তা পর্যালোচনা করা হবে। এর আগে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ২৭ মে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অসন্তোষজনক জবাবের কারণে ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তদন্তে অক্সিজেন স্বল্পতা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
হানজালা নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হ্যাক করেছে। তারা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের একটি পানি সংরক্ষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে। গ্রুপটি আরও বলেছে, তারা হ্যাক করা ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং এটিকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে। হানজালা এক বিবৃতিতে জানায়, তারা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর পানি সরবরাহ বন্ধ করতে পারত, কিন্তু নৈতিক কারণে তা করেনি। হ্যাকের প্রমাণ হিসেবে তারা পাঁচ গিগাবাইট ডেটা প্রকাশ করেছে। মিডল ইস্ট আই সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা হ্যাকের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, নতুন সরকারের বাজেট কিছুটা উচ্চাভিলাষী এবং এর বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, রাজস্ব আয়ের অবস্থা ভালো নয় এবং বাজেট বাস্তবায়নে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার বড় অংশই ব্যাংক খাত থেকে আসে। এতে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। তিনি আরও বলেন, আইএমএফের কোনো কর্মসূচি না থাকায় বিদেশি ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও কঠিন হতে পারে। মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতের চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় বাজেটে কোনো দৃশ্যমান রূপরেখা নেই, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়, যা ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং আমানত প্রত্যাহারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, সরকারকে এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সামাল দিতে হবে, নইলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক প্রায় তিন কোটি গ্রাহককে সেবা দেয় এবং পরোক্ষভাবে ১০ থেকে ১২ কোটি মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত, তাই এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অযৌক্তিক।
বান্দরবান পৌরসভা ও চার উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেওয়া কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার থেকে পাঁচ বছর আগে উদ্বোধন হলেও থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পানি শোধনাগার থেকে এখনো এক ফোঁটা পানিও পায়নি কেউ। ২০২২ সালে ৪৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পে বিভিন্ন স্থানে পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও অধিকাংশই এখন তালাবদ্ধ ও অচল অবস্থায় রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বারবার নকশা পরিবর্তন ও রিভাইস দেখিয়ে ব্যয় বেড়ে যায়। নাইক্ষ্যংছড়ি প্রকল্পে এখন প্রায় ৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কর্মকর্তারা ও ঠিকাদাররা যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। জেলার বড় উন্নয়ন কাজগুলোতে একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘুরে ফিরে আসছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যা, মালামাল চুরি ও অন্যান্য জটিলতাকে প্রকল্প বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করা যায়নি, ফলে কোটি টাকার স্থাপনাগুলো এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য প্রায় অসম্ভব। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাজেটটি এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে—দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, কম বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, রাজস্ব ঘাটতি ও দুর্বল ব্যাংকিং খাতের প্রেক্ষাপটে। সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেট মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিয়েছে। বাজেটের দৃষ্টিভঙ্গি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে আংশিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ উৎসাহ ও সামাজিক খাত উন্নয়নের ক্ষেত্রে। সংস্থাটি বলেছে, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের মানের ওপর, আকারের ওপর নয়। সিপিডি আরও জানিয়েছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এটি নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেখানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জানুয়ারির ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা সংঘাতের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এ বছর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। সারের দামও বাড়বে, ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। কৌশলগত এই প্রণালি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এই প্রভাবের প্রধান শিকার হবে এবং জানুয়ারি থেকে দুই-তৃতীয়াংশ দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে আটটি বড় কর পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা করা এবং কর্পোরেট কর অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা রয়েছে। কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে। বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়, মসলা ও শিশুখাদ্যে শুল্ক হ্রাস, স্বর্ণ ও অলংকারে কর কমানো এবং কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রযুক্তিপণ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ছাড় বহাল রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনে কর ছাড়ের প্রস্তাব এসেছে। আয়কর রিটার্ন সারা বছর জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হবে। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিলের ঘোষণাও দেন। এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ওয়েটজ আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় এটি একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তি হতে পারে। এতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো কিছু বিষয় দ্রুত কার্যকর করা হবে, আর পারমাণবিক প্রশ্নসহ জটিল বিষয়গুলো পরে সমাধান করা হবে। ওয়েটজ সতর্ক করে বলেন, শুরুটা ভালো হলেও দুই পক্ষ খুঁটিনাটি বিষয়ে আটকে যেতে পারে, যা প্রথম পর্যায়ের সাফল্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ইরানের তেল রপ্তানির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অপরিহার্য।
চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সব সুযোগ কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মিশর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণার প্রশংসা করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এই সুযোগটি ব্যবহার করে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। মিশর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে তার অক্লান্ত ও আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিশর সংলাপ ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।