২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ইতিহাসকে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনাকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলেও একই প্রবণতা নতুন রূপে ফিরে আসে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপনের চাপের মাধ্যমে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, ফলে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ক্ষমতার প্রতিধ্বনিতে পরিণত হয়। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও সত্য দমনের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান। মূলধারার গণমাধ্যম তখন জনগণের ক্ষোভ ও বৈষম্যের বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক সাংবাদিকতা সেন্সরশিপ ভেঙে সত্য প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও সে সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার চিত্র প্রকাশ করে। লেখক গণমাধ্যম সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, কালো আইন বাতিল এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মিক্সড মার্শাল আর্টস ইভেন্টে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রত্যেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন। টাইসেন প্রোপারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সহিংসতার ষড়যন্ত্রের অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক শুনানি আগামী ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে আশপাশের ভবনে আঘাত হানার এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। আতঙ্কে ছুটতে থাকা জনতাকে স্নাইপার দলের দিকে ঠেলে দেওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসের ফটকে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও ছিল। আদালতের নথিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নাম রয়েছে, যদিও সবাই ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন না। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, কয়েকটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করা হয়েছে।
তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা একসঙ্গে এগোচ্ছে। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন এবং রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের দুই দিনের ঢাকা সফরকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় এবং সমতা ভিত্তিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশ প্রধানত পাট, পোশাক, চামড়া ও সিরামিক রপ্তানি করে, আর তুরস্ক থেকে তুলা, পেট্রোলিয়াম, যন্ত্রাংশ ও ইস্পাত আমদানি করে। সফরে মুক্ত বাণিজ্য ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন ও রকেট সিস্টেম ক্রয় করছে। সাংস্কৃতিক দিক থেকে তুর্কি টিভি সিরিয়াল, পোশাক ও খাবার বাংলাদেশের তরুণ সমাজে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘ইউনুস এমরে’ কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশ–এর এক নিবন্ধে লেখক আবুল আসাদ দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ব্যাপক অনুপ্রবেশের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ঐতিহাসিক তথ্য, ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান ও জনগণনা বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, সংঘ পরিবার, বিজেপি ও বজরং দলের মতো সংগঠনগুলো এই অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ব্যবহার করছে ভারতের মুসলমান নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সরকারি রেকর্ডে সীমিত সংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করলেও রাজনৈতিক প্রচারণায় তা লাখো কোটিতে রূপ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনগণনা বিশ্লেষণ দেখায়, কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেনি; বরং অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির তারতম্য দেখা যায়। লেখকের মতে, এই অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পুরোনো কৌশলেরই ধারাবাহিকতা, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকায় এসব ষড়যন্ত্র কখনো সফল হয়নি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রায় ৫ হাজার জাতিগত বাঙালি মুসলমানকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশব্যাক করেছে। সংস্থাটি জানায়, পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু ক্ষমতায় আসার পর এসব ঘটনা ঘটেছে এবং অনেকের বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একাধিকবার বাংলাদেশ সীমান্তে পুশব্যাকের চেষ্টা চালিয়েছে। পঞ্চগড় সীমান্তে প্রায় ৭৫ ঘণ্টাব্যাপী অচলাবস্থার ঘটনায় কয়েকটি পরিবার সীমান্তের জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় আটকা পড়েছিল। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের জন্য একটি নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এইচআরডব্লিউ ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশকেই মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তারের পর পলাতক ৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্তে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব কর্মকর্তা পালিয়ে যান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাদের অবস্থান শনাক্তে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ অনেকে। সূত্র জানায়, অধিকাংশ পলাতক কর্মকর্তা ভারতে অবস্থান করছেন, কেউ ইউরোপে গেছেন, আবার কেউ দেশে আত্মগোপনে আছেন। তাদের বেতন ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২৬ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে সাবেক দুই আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও এ কে এম শহীদুল হক কারাগারে আছেন এবং সাত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিরিক্ত আইজিপি জানান, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের বিষয়টি সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।
সাড়ে তিন মাসের ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইসরাইলের কোনো ভূমিকা না থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই চুক্তির ফলে ইরান তার শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ একে ৭ অক্টোবরের পর নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। চুক্তিটি ইসরাইলের মধ্যপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি উভয় পক্ষের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট একে ব্যর্থ সরকারের পরিণতি বলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও চুক্তিটিকে ‘বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এখন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ, লেবানন সংকট ও ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারককে পিছু হটা নয়, বরং প্রতিরোধ ও বিজয়ের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা দেশটিতে কট্টরপন্থি অংশ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে বিভক্ত মত দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ চুক্তিটিকে সম্ভাব্য রূপান্তরকারী ও চূড়ান্ত বিজয়ের পথে পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে কিছু সংসদ সদস্য এই খসড়া চুক্তিকে মার্কিন প্রভাবের আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে তেহরান আলোচনায় বাধ্য হয়েছে। চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি, এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জনমত বিভক্ত—কেউ কেউ চুক্তিকে স্বস্তির সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সরকারের বিজয় বর্ণনায় আস্থা রাখছেন না। চুক্তির স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ইসরায়েলের লেবানন নীতির ওপর।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর একটি এসইউ-২৪এম ফ্রন্টলাইন বোমারু বিমান মঙ্গলবার খমেলনিৎস্কি অঞ্চলে অভিযান পরিচালনার সময় বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন বলে বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিমান বাহিনী টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি তদন্তাধীন রয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষ হলে বিমান বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সেনাবাহিনী রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ পেলে লেবাননে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য প্রস্তুত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি এগোলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা এবং উত্তর ইসরাইলের দিকে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, লেবাননে যুদ্ধের অবসান ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও ইসরাইলের সামরিক প্রস্তুতি লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা রাখছে।
সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার আজ শুরু হচ্ছে। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। মামলাটি ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়ায় টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিহত দুজন ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ লক্ষ্যে তিনি তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহকে নির্দেশ দেন এবং মিথ্যা মামলায় ভিকটিমদের আসামি করে এএসআই মাহবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। গ্রেপ্তার দুই পুলিশ কর্মকর্তা আজ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হবেন।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বিশেষ সহকারী ডগ ব্যান্ডো বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটনকে তেল আবিবের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি সহজ হবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও একটি বড় কারণ। ব্যান্ডো জানান, ট্রাম্প বৈরুতে হামলা বন্ধে মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে, অন্যদিকে ইরান দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যেখানে সংঘাতের কারণে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত চাপ না দিলে নেতানিয়াহু হামলা বন্ধের আহ্বান উপেক্ষা করতে পারেন। ব্যান্ডো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময়ের জন্য তা বন্ধ করতে প্রস্তুত হননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প যদি বাস্তবিক চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ হন, তবে এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হতে পারে এবং বিদ্যমান চুক্তি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া এবং নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করে কাজ সম্পন্ন করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনে তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হয়। ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন, তবে ঠিকাদার মসগুল হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংক্ষিপ্ত আলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঐতিহ্যবাহী গ্রুপ ছবি তোলার আগে দুই নেতা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে হাস্যরসাত্মক কথোপকথনে অংশ নেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি মোদিকে বলেন, আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে, এবং মজা করে যোগ করেন, ‘আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।’ মোদি ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিক্রিয়া জানান, আর মেলোনি হাসতে হাসতে মন্তব্যটি পুনরায় বলেন। ‘মেলোডি’ শব্দটি মোদি ও মেলোনির নামের সংমিশ্রণে তৈরি, যা ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কোপ২৮ সম্মেলনে মেলোনির একটি সেলফি পোস্টের পর ভাইরাল হয়। এরপর থেকে এই হ্যাশট্যাগ ঘিরে অসংখ্য মিম ও ভিডিও তৈরি হয় এবং তাদের প্রতিটি সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় আসে। সম্প্রতি রোম সফরে মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন, যা অনেকেই ভাইরাল ট্রেন্ডটির প্রতি তার রসিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছেন। ভিডিওতে দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়, যা দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল ইসরাইল, তবে ওয়াশিংটন সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে। চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা চুক্তিটি দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা অনুমোদন করা হয়নি, ফলে তারা এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মধ্যেই এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে নিশ্চিত নন। ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির কর্মকর্তারা বিশেষ করে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধের শর্ত নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যম আই২৪ চুক্তিটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, এই চুক্তি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং ইসরাইল তার নিজস্ব স্বার্থে কাজ করবে। এর আগে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরাইলি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছেন যে ইসরাইল এই সমঝোতা স্মারক মানতে বাধ্য নয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।