এনসিপি নেতা সামান্তা শারমিন বলেছেন, রাজনৈতিক অনেক পুরোনো সমীকরণ আছে, অনেকগুলো পক্ষ আছে যারা আগামী নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকবে। এতে নতুন সমীকরণ দেখতে পাব এটাই আমরা মনে করছি। এটার প্রভাব নির্বাচনেও পড়বে। আগামী নির্বাচনে অনেকগুলো সারপ্রাইজ দেখতে পাব। নিজেরাও সারপ্রাইজড হতে পারি। আশা করি এনসিপি ভালো ফল করবে। তিনি বলেন, মনোনয়নের জায়গাটা নিয়ে আমরা এখনো চিন্তা করি নাই। পুরো সংগঠনের জায়গা থেকে চিন্তা করছি। এখন ৩০০ আসন রয়েছে। তবে এটা বাড়তে পারে বা কমতে পারে। শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য কমিশনের কী ধরনের সিদ্ধান্ত হয় সেটা দেখার বিষয়। সব আসনে প্রার্থী দেওয়া সব রাজনৈতিক দলের টার্গেট থাকে। আমাদেরও আছে। নির্বাচনের আগে নানা ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই এ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
এবি পার্টির নেতা আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থাকবে কি থাকবে না— সেই সিদ্ধান্ত ১৪শ শহিদ পরিবার নেবে। কোনো সুশীল উপদেষ্টা, কোনো শাশুড়ি কিংবা দিল্লীর কথায় সেই সিদ্ধান্ত হবে না। ফুয়াদ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিরা গণতদন্ত কমিশনে গিয়ে উন্মুক্ত শুনানিতে অংশ নিয়ে মতামত দেবে, সেই মতামতের ওপর ভিত্তি করে আওয়ামী লীগ প্রশ্ন, গণহত্যার প্রশ্ন, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের ভারতীয় গোলামদের ভবিষ্যৎ কি হবে সেটার সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বিচারের অগ্রগতি না দেখতে পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আরো বলেন, এমন অনেক উপদেষ্টা দেখেছি, ৭১-এর চেতনা বিক্রি আর ১৪ ডিসেম্বরের শহিদের কবর জিয়ারত করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন। কিন্তু রায়ের বাজারের জুলাইয়ের ১১৪ জন শহিদের করব জিয়ারত করার তাদের সময় নেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা চাইব ভারত পাকিস্তান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করে ফেলুক। দু’একটি দেশের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব এসেছে। আমরা চাই উত্তেজনা প্রশমিত হোক এবং শান্তি বজায় থাকুক। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা শান্তি চাই দক্ষিণ এশিয়ায়। আমরা জানি, বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত-মহাসম্পর্ক আছে। কিন্তু আমরা চাই না এখানে কোনো বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি হোক, যাতে এটা এ অঞ্চলের মানুষের কোনো বিপদের কারণ না হয়ে উঠতে পারে। উপদেষ্টা বলেন, দুই প্রতিবেশীর উত্তেজনায় প্রত্যক্ষ প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না, তবে এমন সংঘাতে বাণিজ্যগত প্রভাব পড়বে!
ভারতীয় সাপ্তাহিকী ‘দ্য উইক’ চলতি সংখ্যায় বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি কাভার স্টোরি করেছে। যার শিরোনাম ‘ডেসটিনি'স চাইল্ড’ বা নিয়তির সন্তান। এতে তারেক রহমান ও বিএনপি আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় সরকার পরিবর্তন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের আশা আরও জোরালো করে তুলেছে। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে চলে আসবেন, দলের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মুখপাত্র হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারকর্তৃক বিএনপি ভাঙার চেষ্টার বিপরীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং তারেক রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন, কারণ দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পানামা খাল এবং সুয়েজ খাল দিয়ে বিনামূল্যে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া উচিত। তিনি লিখেছেন, আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে অবিলম্বে এই পরিস্থিতির যত্ন নিতে এবং স্মরণ করতে বলেছি।’ এর আগে বলেছিলেন, পানামা খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি অর্থনৈতিক বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। প্রসঙ্গত, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্র খালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে কিন্তু ১৯৯৯ সালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পানিপথের নিয়ন্ত্রণ পানামাকে দেয়।
পাকিস্তানের রেলওয়েমন্ত্রী হানিফ আব্বাসী বলেছেন, ভারতকে ঘায়েল করতে তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম শাহীন ও গজনবীর মতো ক্ষেপণাস্ত্রসহ ১৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করে রেখেছে। তিনি বলেন, ১৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র কেবলমাত্র নমুনা হিসেবে রাখা হয়নি, আপনাদের কোনো ধারণাই হবে না যে পাকিস্তানের কোথায় কোথায় সেগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।’ আব্বাসী আরও বলেন, যদি ভারত ইন্দুস চুক্তি ভঙ্গ করে পাকিস্তানের নদীগুলোতে পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তবে পাকিস্তান ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুতি নেবে।
বাংলাদেশের ৫৪তম জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করি এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী। আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ ও ঢাকা উভয়ই অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের সমাজ-অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক, বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন খান!
বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেলপথে গ্রাহক বা যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হলে টেলিভিশনে স্ক্রলের মাধ্যমে তা দ্রুত জানাতে হবে এবং সেবা পুনরায় চালু হলে, সেটাও জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে, এই নির্দেশনা দিয়েছেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। শনিবার মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক বিঘ্নিত হয়। একই দিন খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুতের ব্ল্যাকআউট ঘটে। কিন্তু এই দুটি ঘটনায় সচিব কিংবা সংস্থার প্রধানেরা উপদেষ্টাকে জানাতে ব্যর্থ হন। উপদেষ্টা আরও বলেন, গ্রাহক ও যাত্রীসেবা আমাদের দয়া নয়, বরং দায়।
তারেক রহমান লেখেন, ‘জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তার অক্ষয়-অমলিন স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।’ তিনি লিখেন, ‘শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন উপমহাদেশের এক অনন্যসাধারণ প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। আরও লিখেছেন, ‘ঋণ সালিশী বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বাংলার শোষিত ও নির্যাতিত কৃষককুলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি বঙ্গীয় চাকুরী নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন, দোকান কর্মচারী আইন প্রণয়ন করেন, যা এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক-শ্রমিকের ভাগ্যোন্নয়নে যুগান্তকারী অবদান রেখেছে।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবনে একটি ‘ড্রোন’ পাওয়া গেছে। ডিএমপির ফরেনসিক টিম ড্রোনটি উদ্ধার করে তা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। এ ঘটনায় আইন উপদেষ্টার বাসার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে আইন উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনের মূল ভবনে ঘাসের ওপর একটি ড্রোন পড়ে থাকতে পাওয়া যায়। সেখানে কর্মরত মালি সালমা হক বাগান ঝাড়ু দেওয়ার সময় ড্রোনটি দেখতে পান বলে জানা গেছে।
হাসিনা অন্তবর্তী সরকারের বিচারের কথা বলায় আসিফ নজরুল বলেন, চাপ বোধ করার প্রশ্নই আসে না। উনি বারবার বলেন, আমি কিন্তু বাংলাদেশে চলে আসব ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাই আমরা চাচ্ছি। আপনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন করে রেখেছি। ওনার নেতাকর্মীরা হুমকির মুখে অথচ উনি অন্য একটি দেশের আতিথেয়তা গ্রহণ করে কবিতা আবৃত্তি করা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব না। বিপ্লবী সরকার না হয়ে অন্তবর্তী সরকার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর কী ধরনের সরকার গঠন হবে, সেটা নিয়ে সিরিয়াস আলোচনা-কথাবার্তা হয়নি। তখন আমরা শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরাব, সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান ছিল। সেখানে বিপ্লবের উপাদান ছিল; কিন্তু বিপ্লব ছিল না। শেখ হাসিনা যদি আরও বেশিদিন ক্ষমতায় থাকত, আরও গণহত্যা চালাত, তাহলে এটা বিপ্লবে রূপ নিতে পারত।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে যড়যন্ত্রের অভিযোগে শাহবাগ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছে আদালত। অন্যরা হলেন- ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নাওমী, মো. রফিকুল ইসলাম নয়ন, হাবিবুর রহমান হাবিব ও রবিউল ইসলাম রবি৷ ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঐ সময় আমির খসরুর একটি কথিত ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দাবি তুলে ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করে ডিবি!
গাজায় ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি জন্য উন্মুক্ত হলেও অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি নয় হামাস। যুদ্ধের অবসান, গাজার পুনর্গঠন, ইসরাইলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং গাজার সমস্ত জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে পাঁচ থেকে সাত বছরের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে হামাস। ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল এই সপ্তাহে নতুন প্রস্তাবের সাফল্যের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘হামাস যদি বাকি ৫৯ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয় এবং অস্ত্র সমর্পণ করে, তাহলে আগামীকালই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।'
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ফ্যাসিবাদী শাসক পালাতে বাধ্য হয়েছে। ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। এটা আমাদের দায়। তিনি বলেন, সংস্কার পুঞ্জীভূত সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা। শুধু সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন যথেষ্ট নয়, সে জন্য দরকার দরকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাঠামো তৈরি করা, গণতন্ত্রের চর্চা করা, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে একত্রিত থাকা। আরো বলেন, আমরা সামান্য হলেও অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি। সেটা ধরে রাখতে না পারলে, বিকশিত করতে না পারলে সমস্ত সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। জোনায়েদ সাকি বলেন, অংশীজনদের ঐকমত্যের বিষয়গুলোই জুলাই সনদ হিসেবে গৃহীত হবে। যেগুলো একমত হবে না, সেগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।
ঝিনাইদহে যাদিবপুর বিওপির ওপারে ভারতের মধুপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশে ফেরার পথে তাকে হত্যা করা হয়। সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে ১০ থেকে ১২ বাংলাদেশি ভারতে যান। তারা ফেরার পথে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওবাইদুল প্রাণ হারান।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।