পৌনে তিনটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্রজনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশের শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত করেছেন এনসিপি নেতা আশরাফ মাহাদী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সমাবেশস্থল থাকা আন্দোলনকারীরা। পরে সমাবেশস্থলের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে সিটি করপোরেশনের স্প্রে ক্যানন দিয়ে পানি ছিটানো শুরু হয়। স্প্রে ক্যানন দিয়ে পানি ছিটানোর পর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকা আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়।
পাকিস্তানের পাঞ্জাবের কয়েকটি জেলায় শুক্রবার আরও ৬টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। মিলিটারি সূত্রে সামা টিভি জানিয়েছে, এ নিয়ে ভারতের ৭৭টি ড্রোন ধংস করেছে পাকিস্তান। যার মধ্যে রয়েছে ইসরাইল-নির্মিত ২৫টি ড্রোন। এতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, চারজন সেনাসহ সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বেশিরভাগ ড্রোন কৃষি জমিতে ফেলা হয়েছে বলে ক্ষতি একদমই হয়নি। পাকবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, সব ড্রোন রাডারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যখনই কোনও ড্রোন আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন এটি রাডারে দৃশ্যমান থাকে। পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনকি ছোট ড্রোনও ট্র্যাক করতে সক্ষম।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন গণ অধিকারের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও নির্বাচন করার কোনও সুযোগ নেই। গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের জন্য কয়েক দফা দাবি জানালেও অন্তর্বর্তী সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। প্রধান উপদেষ্টার গ্রিন সিগন্যাল নিয়েই সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ছেড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। কিন্তু এনসিপি যখন যায় তখন এই ধারা কাজ করে না। সরকারি দলের জন্য এক নিয়ম আর বাকীদের জন্য আরেক নিয়ম কেন?
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শহিদের রক্তে রঞ্জিত ‘জুলাই স্পিরিটের’ সঙ্গে যারাই প্রতারণা করবেন, তারাই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।’ এর আগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করার ঘোষণা দেয় ইসলামী ছাত্রশিবির।
সরকার একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘সম্প্রতি স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে।’ সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। জানানো হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া আব্দুল হামিদের দেশত্যাগের সাথে জড়িতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, 'আপনাদের সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই খুনের মামলার আসামী সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনে বাধা দেয়ার দায়িত্ব পুলিশ ও গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর, যা কোনভাবেই আমার আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের সুযোগ রাখার লক্ষ্যে আইসিটি আইনে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিধান আইন মন্ত্রণালয়ের খসড়ায় ছিল।আমি নিজে এটা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন করেছি। আমার উত্থাপিত খসড়ার আমিই বিরোধিতা করবো এটা কিভাবে সম্ভব?’ আরো বলেন, আমাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশ্নে কোন দ্বিমত নেই। তবে পদ্ধতি নিয়ে সবার নিজস্ব মত থাকতেই পারে।’ আরও লেখেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ চাইলে বা বিচারিক আদালত এ সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা রায় আসলে অবশ্যই আইনানুগভাবে দ্রুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে। আমরা সেই প্রত্যাশায় আছি। ইনশাল্লাহ।’
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়া উচিত কি না প্রশ্নে আব্দুল মঈন খান বলেছেন, এটা বিএনপির সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। এটি নির্বাচন কমিশন, সরকার ও যারা নিষিদ্ধ করতে চায় তাদের ঐকমত্যের বিষয়। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কারা নির্বাচন করবে বা কারা করবে না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরা সম্ভব। আমরা গণতন্ত্রের উত্তরণ চাই। নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে পারি। মঈন খান বলেন, লীগকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, তারা কি আদৌ নির্বাচনে আসবে? আওয়ামী লীগের একজনও কি গত ১৫ বছরে জনগণকে জিম্মি করার জন্য কোনো ক্ষমা চেয়েছে?
রমনার ডিসি মাসুদ আলম বলেন, 'বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পুলিশসহ অন্য বাহিনীগুলোর নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। দুপুরে যেহেতু সমাবেশ তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে যমুনার সামনের সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।' যমুনার আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ কর্মসূচি এখনো চলছে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ছাত্র-জনতার স্লোগানে উঠে এসেছে, ‘বাহ ইন্টেরিয়াম চমৎকার, খুনিদের পাহারাদার’; ‘লীগ ধর, জেলে ভর’; ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর’ ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’; ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’।
পঞ্চগড় থেকে এসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সারজিস আলম জানান, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলছে এবং চলবে। সারজিস লিখেছেন, ‘আছি যমুনার সামনে। বাদ জুমা যমুনা সংলগ্ন ফোয়ারার পাদদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।’ আরও জানান, ‘এতে অংশ নেবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলসমূহ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলো এবং সর্বশেষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার।’
পূর্ব রাফাহের আল-তান্নুর পাড়ায় ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ মসজিদের কাছে হামাস যোদ্ধারা সাত সৈন্যের একটি ইসরাইলি বাহিনীর উপর শক্তিশালী বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালায়। যাতে সবাই মারা গেছে। এর আগে একই পাড়ায় আল-ফিদাই জংশনের কাছে একটি বাড়ির ভিতরে ধ্বংস অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তারা ১২ জন সৈন্যের একটি ইসরাইলি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটকে দুটি অ্যান্টি-পার্সোনেল এবং অ্যান্টি-আর্মর শেল দিয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আর সেই হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন ইসরাইলি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের উত্তেজনা কমাতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা মূলত আমাদের কোনো বিষয় নয়। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা তাদের উত্তেজনা কমাতে কিছুটা উৎসাহিত করার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু আমরা এমন কোনো যুদ্ধে জড়াবো না, যা মূলত আমাদের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং যেখানে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ’ আরও বলেন, ‘এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো ভূমিকায় যাচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ’
প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যার ঘটনায় আলোচিত দুই নারী শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ওই শিক্ষার্থীর নাম ফারিয়া হক টিনা। গত ১৯ এপ্রিল বিকালে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের দুই ছাত্রীকে নিয়ে কথিত হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে প্রাইম এশিয়ার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পারভেজের বাগবিতণ্ডা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি পরে মীমাংসা করা হয়। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় পারভেজকে ৩০ থেকে ৪০ জন ঘিরে ধরে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে খুন করা হয়।
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া পথে হামলা হয়েছে। এসময় পুলিশের গাড়িবহরে ৩০-৪০ জনের একটি দল ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দুই কনেস্টেবলসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সাবেক মেয়র আইভীর কোনো ক্ষতি হয়নি। তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিনারুল হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করে শুনানী শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্ৰেফতারের পর সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা না দেখিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি নারায়ণগঞ্জে ২১ বছরের সেবায় কোনো দল কিংবা ব্যক্তিকে আঘাত করার মতো কিছু কখনও করিনি। যখনই নারায়ণগঞ্জে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তখনই আমি প্রতিবাদ করেছি, নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। অথচ আমাকে অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হলো। পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, সাবেক মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। রাতে তাকে গ্রেফতার করতে আসলে তিনি পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি হয়নি। পরে তিনি বলেছেন, ভোরে যাবেন। ভোরে আমাদের কাছে আসলে তার বাসার দরজার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করেছি। তিনি পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। আইভীকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সার্ক ফোয়ারার সামনে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে বাদ জুমা জনসমুদ্র হবে। আজকে তারা বুঝতে পারবেন কারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চায়।’ হাসনাত তার পোস্টে লিখেছেন, বাদ জুমা যমুনার সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।’ তিনি লেখেন, ‘এতে অংশ নেবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলসমূহ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলো এবং সর্বশেষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পরিবার।’ তিনি জানান, ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোন আশ্বাসে কাজ হবে না। লড়াই চলবে।’
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।