‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার এক বাণীতে, দেশের সমুদ্রসীমার একটি পরিপূর্ণ হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কাজ করার জন্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত ও সমৃদ্ধ করতে সমুদ্র তলদেশের নির্ভুল মানচিত্রায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই সমুদ্রনীতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমাদের সামরিক ও নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ সমুদ্রবন্দরের উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জুমার নামাজ শেষে ইসরাইল কর্তৃক ইরানে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে চারটি সংগঠন। বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা সংগঠনগুলো হলো- জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ, ইসলামি ঐক্য আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও ইসলামি ঐক্য ও মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণ পরিষদ। সমাবেশে ইরানের ওপর হামলাকে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রতি চরম অমানবিক আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে অনতিবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রভাবশালী শিয়া নেতা নাবিহ বেরি বলেন, আমি ২০০ ভাগ নিশ্চিত—লেবানন কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। দেশের এমন কোনো মনোভাব নেই এবং যুদ্ধে জড়ালে তার খেসারত অত্যন্ত চড়া হতে পারে।’ নাবিহ বেরি বলেন, ইরানের আমাদেরকে প্রয়োজন নেই, বরং ইসরাইলেরই অন্যদের সমর্থন প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, অনেকেই ধারণা করছিলেন, হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ লেবানন হয়তো ইরানের পাশে দাঁড়াবে। এরমধ্যে হিজবুল্লাহর মিত্র বেরির এই মন্তব্য তার সম্ভাবনা অনেকটাই নাকচ করে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান এই মুহূর্তে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়। পরমাণু ইস্যুতে জেনেভায় ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের আগে শুক্রবার এ কথা বলেন তিনি। জানা গেছে, আরাঘচি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসরাইল যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান আগের চেয়ে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা সবসময় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ অনুসরণ করেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন জায়নবাদীরা সন্ত্রাসী আগ্রাসন বন্ধ করবে এবং স্থায়ীভাবে তা বন্ধ রাখার গ্যারান্টি দেবে। আরও বলেন, যদি ইসরাইল তা না করে, তাহলে ইরান বাধ্য হবে এমন প্রতিক্রিয়া জানাতে যা আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে যাবে।
জামায়াত নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়। লন্ডন বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি রাষ্ট্রের প্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সমীচীন হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা সকল দলের সঙ্গে বসে জয়েন করতে পারতেন, এখানে আমাদের আপত্তি ছিল এবং আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে স্টেটমেন্ট দিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছি এবং দ্বিতীয় ধাপের যে আলোচনার কথা ছিল সেটা আমরা বয়কট করেছি। তাহের জানান, পরে প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষ রয়েছেন এবং সেটি প্রমাণ করবেন বলে জামায়াত আমিরকে আশ্বস্ত করেছেন। আরো জানান, এরপর ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে যোগ দেয় জামায়াত এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ইলেক্টোরাল ভোটে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) এর সর্বোচ্চ পরিষদের কাছে যুদ্ধকালীন ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। যদিও অফিশিয়ালি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাভিজানের একটি গোপন বাঙ্কারে সপরিবারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে খামেনিকে। তার সঙ্গে তার প্রভাবশালী ছেলে মোজতবা খামেনিও রয়েছেন।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমাদের অবশ্যই সরকারি স্থাপনা এবং জনগণের ওপর নিপীড়নের যন্ত্র এবং বিপ্লবী গার্ডদের ওপর আঘাত হানতে হবে। এদের ঘাঁটিই হলো ইরানি শাসনের ভিত্তি। এর আগে বৃহস্পতিবার কাৎজ প্রকাশ্যে বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা।' এ বক্তব্য ও বর্তমান ঘোষণা মিলে ইসরাইল যে এখন সরাসরি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিশানা করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ইসরাইল-ইরান সংঘাতে তেল আবিবকে সামরিক সহায়তা দিতে ১৪টি কার্গো বিমানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। ইসরাইলের সেনাবাহিনীর ‘অপারেশনাল প্রস্তুতি’কে সমর্থন করার জন্য এ চালান পাঠানো হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০০টিরও বেশি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলে পৌঁছেছে।
জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে ইসলামী আদর্শের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সারাদেশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অনুকূলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ অবাধ ও নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোট প্রয়োগ করতে পারলে ইসলামী আদর্শের শক্তিকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আগামী দিনে দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকার ভিন্ন একটি দেশের প্রেসক্রিপশনে ক্ষমতায় এসে দেশের আলেম-ওলামাদের ওপর জেল-জুলুম চালিয়েছে। আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশে ভোট বিপ্লব ঘটানোর জন্য নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইরানে কারাবন্দি চার নারী অধিকারকর্মী সম্প্রতি ইসরাইলের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন গোলরুখ ইব্রাহিমি ইরায়ী, ভারিশেহ মোরাদি, সাকিনেহ পারভানে ও রেহানেহ আনসারিনেজাদ। তারা বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টাকে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, গাজায় ইসরাইল ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে এবং তাদের লক্ষ্য একটি ‘দুর্বল ও বাধ্যতামূলক’ মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলা। তারা লেখেন, ‘এই দেশের একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে আমাদের মুক্তি সম্ভব হবে জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে এবং সামাজিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে। এজন্য আমরা বিদেশি শক্তির ওপর ভরসা করবো না। প্রসঙ্গত, তারা শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন, কুর্দি আন্দোলন এবং নারী আন্দোলনে সংযুক্ত থাকার কারণে সাজা ভোগ করছেন।
দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাতে সকলের অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অনিহা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনে আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি সংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া সম্ভব হয় নি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদিবাসীদের অধিকার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ঐকমত্য আছে। আরো বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমঝতায় যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সেনাবাহিনীকে নিতে হবে।
ইসরাইলের চালানো জবাবে তেল আবিবে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে সে সব ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে বহুতল ভবনে। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যু ভয়ে ঘর ছেড়েছেন ইসরাইলের ৮ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা। ইসরাইলি সম্পত্তি কর ক্ষতিপূরণ তহবিল ইয়েদিওথ আহরোনোথ এই তথ্যের সাথে আরো জানিয়েছে, ভবন বা যানবাহনের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রায় ৩০ হাজার অনুরোধ করা হয়েছে তাদের কাছে।
শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার একটি বিপর্যয়কর পরস্থিতি ডেকে আনবে। এর আগে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে যে, ফোর্ডোতে ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রচলিত বোমা ব্যবহার করলে এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হবে না। এটিকে ধ্বংস করার জন্য একটি বি-২ বোমারু বিমান থেকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রও নিক্ষেপ করতে হবে। তবে এও জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোর্ডোতে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছেন না।
ইরান ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করে অথবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হয় তাহলে হিজবুল্লাহও এতে জড়িয়ে পড়বে। একে রেললাইন হিসেবে দেখছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর একটি সূত্র মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত ১৪ জুন হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, ‘ইরান আত্মরক্ষা করতে জানে।'
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।