হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ ও ইসরাইলের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৪ অক্টোবর লেবাননে এক স্মরণসভায় তিনি বলেন, ইসরাইল সামরিক আগ্রাসন ও অবরোধের মাধ্যমে যা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তা এখন কূটনৈতিকভাবে হাসিল করতে চাইছে। কাসেমের মতে, এই পরিকল্পনা ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের অংশ, যা শুধু গাজা ও পশ্চিম তীর নয়, বরং জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার কিছু অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনা একসময় পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে, তাই সবারই এর বিরোধিতা করা উচিত। কাসেম আরও জানান, প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন।
গাজাবাসীদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে এবং ইসরাইলি অবরোধ ভাঙতে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র অভিযান “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” গড়ে ওঠে চিকিৎসক, আইনজীবী, শিল্পী, রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণে। এই অভিযানের নেপথ্যে ছিলেন দশজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব—‘স্টিয়ারিং কমিটি’র সদস্যরা—যারা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। গ্রিসের ঐতিহাসিক ক্লিওনিকি আলেক্সোপৌলো, তুর্কি-জার্মান কর্মী ইয়াসেমিন আকার, ব্রাজিলের পরিবেশবিদ থিয়াগো আভিলা, ইতালির মারিয়া এলেনা ডেলিয়া, ফিলিস্তিনি সংগঠক সাইফ আবুকেশেক, মালয়েশিয়ার মানবতাবাদী মুহাম্মদ নাদির আল-নুরি, আলজেরিয়ার মারুয়ান বেন গুয়েত্তায়া, তিউনিসিয়ার ওয়ায়েল নাওয়ার, হায়ফা মানসুরি ও নারী অধিকারকর্মী তোরকিয়া চাইবি—সবাই মিলে এই বৈশ্বিক সংহতির প্রতীক। তাদের প্রচেষ্টা প্রমাণ করেছে যে মানবতা ও প্রতিবাদের শক্তি সীমান্ত মানে না; গাজা আজও তাদের ত্যাগ ও সাহসের সাক্ষী।
অ্যাপল টিভিপ্লাসের দ্য রিলাকট্যান্ট ট্র্যাভেলার অনুষ্ঠানে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে যুবরাজ উইলিয়াম জানিয়েছেন, তিনি রাজা হলে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে চান। উইন্ডসর ক্যাসলে অভিনেতা ইউজিন লেভির সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রিন্স অব ওয়েলস বলেন, তিনি “ভালোর জন্য পরিবর্তন” আনতে চান, যাতে তাঁর সন্তানরা ভবিষ্যতে গর্ববোধ করে। কোন নিয়ম বদলাতে চান, তা স্পষ্ট না করলেও উইলিয়াম জানান, পরিবর্তন তাঁকে ভয় নয়, বরং উদ্দীপ্ত করে। ভাই হ্যারির সঙ্গে শৈশবের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুরোনো অনুপযুক্ত অভ্যাসগুলো আর রাখতে চান না। বিবিসির প্রতিবেদনে রাজপ্রাসাদের সূত্র জানায়, এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে খোলামেলা সাক্ষাৎকার। গত বছরকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় বলে উল্লেখ করে উইলিয়াম বলেন, রাজতন্ত্রকে প্রাসঙ্গিক রাখতে ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার—“আজকের যুগে এগুলো কি এখনও উপযুক্ত?”
রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলের শোস্তকা শহরে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনস্টেশনে অন্তত একজন নিহত ও ত্রিশাধিক আহত হয়েছেন। শনিবার সকালবেলায় হামলার পর ট্রেনে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দিয়েছেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা বলেন, রাশিয়া ‘ডাবল ট্যাপ’ কৌশল প্রয়োগ করেছে—প্রথম হামলার পর উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় আঘাত। হামলার পর শোস্তকা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গত দুই মাস ধরে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের রেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। সর্বশেষ হামলায় ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়েছে। এদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে কিরিশি তেল শোধনাগারে পাল্টা ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে, পূর্ব ইউক্রেনে রুশ হামলায় ফরাসি ফটোসাংবাদিক আনতোয়ান লালিকান নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ১৩৭ জনকে তুরস্কে পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, মরক্কো, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া এবং তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন। এর আগে ৪৪৩ অধিকারকর্মীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জোরপূর্বক আটক করা হয়েছিল। গাজা যাওয়া মানবিক ত্রাণ বহরকে ইসরায়েলি কমান্ডোরা আটক করেছে, যেখানে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশ ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লক্ষ্য হলো গাজার জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এই বহরে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান রয়েছে এবং প্রায় ৪৬টি দেশের ৫০০-এর বেশি অধিকারকর্মী, আইনজীবী, ডাক্তার, সাংবাদিক ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম বহর ৩১ আগস্ট বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে, পরে তিউনিসিয়া, সিসিলি এবং গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে আরও নৌযান যুক্ত হয়।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দ্বারা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সরাসরি বদলি কার্যক্রম চালুর দাবি জানাতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। আগামীকাল ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে এটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশ ইউনিটি অব টিচার্সের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনের মুখপাত্র এএইচ বাবলু জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে শূন্যপদ তথ্য সংগ্রহের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষকরা কঠোর কর্মসূচি নিতে চায় না, তবে সরকার যদি তাদের আলটিমেটাম মানে না, তাহলে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে থাকা শিক্ষক পেশার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে। স্বয়ংক্রিয় বদলির উদ্যোগ নিলেও সফটওয়্যার ও আদালতের জটিলতায় কার্যক্রম থমকে গেছে। এখন তারা পুনরায় বদলির দাবিতে আন্দোলনে নামতে যাচ্ছেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বুদ্ধের শিক্ষার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেছেন যে, এই শিক্ষাগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বে অস্থিতিশীলতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ অক্টোবর বৌদ্ধদের প্রধান উৎসব ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্ববাঙালি বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার জীবন মানবকল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছেন, অহিংসা, সাম্য এবং মৈত্রীর মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের হাজার বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং প্রাচীন বিহারের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি দেশের দীর্ঘস্থায়ী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সকল ধর্ম, জাতি ও বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত প্রচেষ্টায় ন্যায়নিষ্ঠ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি উৎসবের সাফল্য কামনা করেন।
হামাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার পরিকল্পনার প্রতি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যতের ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধ তুলে ধরেছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজাকে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত টেকনোক্র্যাট কমিটি দ্বারা পরিচালনা করার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে টনি ব্লেয়ারসহ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিরা যুক্ত থাকবেন এবং ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ লক্ষ্য করা হয়েছে। হামাস জোর দিয়ে বলেছে যে গাজা স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত, যা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত হবে এবং আরব ও ইসলামি সমর্থন পাবে। যুদ্ধবিরতি, ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার, বন্দি বিনিময় এবং মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে তারা সম্মতি জানালেও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে বা প্রশাসন থেকে নিজেদের সরানোর প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। হামাস বলেছে যে গাজার প্রশাসন জাতীয় ঐকমত্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে হতে হবে, তবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী বা তাদের সদস্যদের নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৫ সালের মানবপাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টিয়ার-২ এ স্থান দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশ এখনও মানবপাচার নির্মূলের ন্যূনতম মান পূর্ণ করতে পারেনি, তবে সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা স্বীকৃত। এটির মধ্যে রয়েছে ভুক্তভোগী সুরক্ষা বৃদ্ধি, ফ্রন্টলাইন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় রেফারাল মেকানিজমের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন। ২০২৫ সালে সরকার ১,৪৬২ জন পাচারের শিকার শনাক্ত করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা, আইনগত সহায়তা ও আশ্রয় প্রদান করেছে। বাংলাদেশ সিআইডি, পিবিআই ও সিটিটিসিসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় জোরদার করেছে এবং ইন্টারপোল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রস্থান-পূর্ব প্রশিক্ষণ, নারী গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষ কোর্স এবং প্রধান গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আইনশাসন, শ্রমিক সুরক্ষা এবং পাচারভুক্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ভারত বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায় না। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক পথসভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। স্থানীয় বিএনপি এই সমাবেশ আয়োজন করে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে। মুশফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে এবং দেশের বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব বজায় রাখা জরুরি, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা ভারতবিদ্বেষ বাড়ায়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি মো. ইলিয়াস, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, আবুল মনসুর মিশন ও খন্দকার বিল্লাল হোসেন। সমাবেশ শেষে জনসাধারণের মাঝে বিএনপির ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করা হয়।
পাকিস্তান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটিকে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক্সে লিখেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি হতে হবে, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে, জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। তিনি ইসরাইলকে হামলা বন্ধেরও আহ্বান জানান। দার স্পষ্ট করেছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রস্তাবিত খসড়ার সঙ্গে এক নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুরোধে পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার যুক্ত করা হয়েছে এবং ইসরাইলকে বাফার জোনে ধাপে ধাপে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ পুরোপুরি দূর হয়। পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া গাজার সংঘাতে শান্তি, মানবিক সহায়তা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার সুরক্ষার পক্ষে তাদের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে বৈঠক করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামীকাল (৫ অক্টোবর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য স্থগিত সভায় আলোচ্য বিষয়সমূহ চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে পূর্বে প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ মতামত ও পরামর্শ পুনরায় বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে পাওয়া মতামতও পুনঃপর্যালোচনা করা হয় যাতে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া। এছাড়া ঐকমত্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা মেনে জীবিত ও মৃত সকল ইসরাইলি জিম্মি মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে হামাস। মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, সকল বন্দির শর্তহীন মুক্তি এবং অবাধ মানবিক সহায়তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এসময় তিনি কাতার ও মিশরকে মধ্যস্থতার জন্য ধন্যবাদ জানান। হামাসের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ঘোষণা করেছে যে, তারা এখন ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে প্রস্তুত—যেখানে জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তি প্রাধান্য পাবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান ইসরাইলের নীতি অনুযায়ী হবে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অগ্রগতি গাজায় সংঘাত বন্ধে একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি করলেও স্থায়ী শান্তির পথে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
উমরাহ যাত্রা আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে সৌদি আরব ১০টি নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে নুসুক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করে আলাদা উমরাহ ভিসা নিতে হবে এবং ভিসার সময় অনুমোদিত হোটেল ও পরিবহন বুক করতে হবে। আত্মীয়ের বাসায় থাকলে হোস্টের সৌদি আইডি যুক্ত করতে হবে। পর্যটক ভিসায় উমরাহ আর সম্ভব নয়। বিমানবন্দরে হোটেল ও পরিবহন বুকিং যাচাই করা হবে এবং শুধুমাত্র নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্সি, বাস ও ট্রেন ব্যবহার করা যাবে। রাত ৯টার পর হারামাইন ট্রেন বন্ধ থাকবে, তাই দেরিতে পৌঁছালে আগে থেকে গাড়ি বুক করতে হবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও শেনজেন ভিসাধারীরা শর্তসাপেক্ষে ভিসা অন অ্যারাইভাল পাবেন। ভিসার সঙ্গে দেওয়া সফরসূচি পরিবর্তন করা যাবে না, আর অতিরিক্ত সময় থাকলে জরিমানা দিতে হবে। নিয়ম ভাঙলে হজযাত্রী ও এজেন্ট উভয়কেই বড় জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে, যা ৭৫০ রিয়াল থেকে শুরু। নতুন নীতিমালা উমরাহ যাত্রা সহজ ও অপব্যবহার রোধের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন সেবা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম, যিনি ৩ অক্টোবর পাবনা সফরে এ তথ্য দেন। তিনি জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে, যা বহুদিনের দাবি পূরণ করবে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন উভয় দিক বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢালার চর থেকে রাজবাড়ী হয়ে পদ্মা রেলসেতুর সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি নতুন রেলসেতু নির্মাণের সম্ভাবনা। পাশাপাশি সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কাজিরহাট ফেরিঘাট খাসচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং রেল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা একযোগে জানিয়েছেন, কার্যকর ও টেকসই রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। উদ্যোগটি আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন, যাত্রীদের ভোগান্তি হ্রাস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।