চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে জাহেদুল ইসলাম (৩৫) ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত জাহেদুলকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাতে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত জাহেদুলের পথ আটকে দেয়। পরে তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার আশা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নির্ধারণে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পুরানগড় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ইরানের ওপর ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেওয়া পক্ষগুলোকে এর পূর্ণ দায় নিতে হবে। বিবৃতিটির কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় বলেছে, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, জর্ডানের ওই স্থাপনাগুলো লারাক দ্বীপে হামলা চালানো এবং ওই হামলায় সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিবৃতিতে ওই হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষের নিহত ও আহত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলাটি ছিল লারাক দ্বীপে হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া। একই ধরনের হামলা আবার হলে ইরান আরও কঠোরভাবে জবাব দেবে বলেও জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে কথিত মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং জর্ডানে পাল্টা হামলার দাবিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চলতি সপ্তাহে দেশটির আরেকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কোন ব্যাংককে লক্ষ্য করা হবে তা জানাননি। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে প্রতি সপ্তাহেই নতুন পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে। বেসেন্ট বলেন, প্রয়োজনে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হবে। গত সপ্তাহে ইরানের তেল বিক্রি, অস্ত্র সংগ্রহ ও সাইবার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে ওয়াশিংটন প্রায় ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইরান এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এতে কোনো ফল হবে না। স্থবির যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই রোববার সংঘাত আবার শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে হামলা চালানোর পর ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে সূত্রে বলা হয়েছে।
নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং গাজা যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। লেখাটির দাবি, ওয়াশিংটন ইরানের সরকারকে সরাতে, উপসাগরীয় মিত্রদের রক্ষা করতে কিংবা হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে; ফলে ১৯৯১ সালের পর গড়ে ওঠা নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কেন্দ্র ছিল ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং ইরান ও ইরাককে নিয়ন্ত্রণে রাখা। সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক স্বৈরশাসকদের সহায়তা দিয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, ব্যর্থ শান্তি উদ্যোগ এবং ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন সহিংসতা, দারিদ্র্য ও জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে বলেও এতে দাবি করা হয়েছে। লেখাটিতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনা বা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর মতো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সামরিক আগ্রাসনের বদলে কূটনীতি, সমন্বিত প্রতিরক্ষা, মানবাধিকার এবং মিত্রদের ওপর জবাবদিহির চাপকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিকল্প পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমেছে বলে সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্যে দেখা গেছে। অব্যাহত হামলার আশঙ্কায় শিপিং অপারেটররা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ব্যবহারে এখনো সতর্ক রয়েছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট প্রণালিটি অতিক্রম করে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ। এ সংখ্যা আগের ১০ দিনের দৈনিক গড় ১৫টি জাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকির মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলা ও চলমান উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি কমাতে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রকৃত চলাচলের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ হামলা এড়াতে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেগুলোর গতিবিধি প্রকাশ্য জাহাজ চলাচলের তথ্যে ধরা পড়ছে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে এবং জ্বালানির দাম ও বাজারের অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্নের মুখে চীনের তিন বৃহৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইন বড় আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের সম্মিলিত নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৮২০ কোটি ইউয়ান, যা প্রায় ১২০ কোটি ডলারের সমান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শীর্ষ এই তিন এয়ারলাইন টানা সপ্তম বছরের মতো বছরের প্রথমার্ধে লোকসান গুনল। গত মাসে প্রতিষ্ঠান তিনটি জানিয়েছিল, প্রথম ছয় মাসে তাদের সম্মিলিত লোকসান ৯০০ কোটি ইউয়ান পর্যন্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮২০ কোটি ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ছয় মাসে তিনটি এয়ারলাইনেই জ্বালানি ব্যয় ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ বেড়েছে, ফলে পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চায়না ইস্টার্ন বলেছে, দীর্ঘ সময় জেট ফুয়েলের উচ্চ দাম ও যুদ্ধজনিত আন্তর্জাতিক রুটের বিঘ্ন তাদের মুনাফার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তুলনামূলক কম জ্বালানি হেজিং করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে চীনা এয়ারলাইনগুলোর ব্যয়ের ওপর দ্রুত প্রভাব পড়ে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি লারাক দ্বীপে কথিত মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের প্রতিশোধ হবে ‘বিধ্বংসী’ এবং ‘আরো বেশি বেদনাদায়ক’। আজিজি একটি পোস্ট ফারসি ভাষায় এবং অন্যটি ইংরেজিতে প্রকাশ করেন। ফারসি পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো মাত্রার অপরাধই জবাবহীন থাকবে না। তিনি সম্ভাব্য জবাবকে বিধ্বংসী, আরো বেশি বেদনাদায়ক ও শিক্ষণীয় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, এই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার শৃঙ্খলকে পূর্ণতা দেবে। ওয়াশিংটনকে ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে অপেক্ষা করার কথাও বলেন আজিজি। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে জিও নিউজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালীর কাজীর দেউড়ির একটি শপিং মলের সামনে এক নারীর মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চক্রের কথিত হোতা শেখ ফরিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, রোববার বাকলিয়া থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দক্ষিণের ডিসি হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযানে এই চক্রের হোতা শেখ ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া ব্যাগটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। ঘটনাটি রাতের আঁধারে কাজীর দেউড়ি শপিং মলের সামনের এলাকায় ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সাইদা তানিয়া তুলি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রাত ৯টায় তার মোবাইল ও ব্যাগ ছিনতাই হয়। ছিনতাইয়ের সময় তার হাতে প্রচণ্ড ব্যথা পান বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফোনে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অ্যাপ লগইন করা থাকায় পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের লেনদেন না করতে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের মুক্তি এবং কারাগারে তাঁর যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইমরানকে নিজের শৈশবের নায়ক উল্লেখ করে তাঁর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। পাইলটের এই বক্তব্যের তারিখ বা স্থান উৎসে উল্লেখ করা হয়নি। পাইলট বলেন, সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খান সব সময়ই সত্যিকারের অনুপ্রেরণা। তাঁর সাহস, নেতৃত্ব ও অর্জন সীমান্ত পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রিকেটারকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উৎস অনুযায়ী, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররাও ইমরানের মুক্তি ও যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ক্রিকেটকে এত কিছু দেওয়া একজন বিশ্বমানের কিংবদন্তি সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা, মর্যাদা ও সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য। লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করা এই কিংবদন্তির পাশে ক্রিকেট বিশ্বের দাঁড়ানো উচিত বলেও তিনি মত দেন। সবশেষে পাইলট ইমরান খানের শক্তি, সুস্বাস্থ্য এবং তাঁর প্রাপ্য যথাযথ যত্ন কামনা করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাজারীবাগ আধুনিক পশু জবাইখানায় আনুষ্ঠানিকভাবে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে এক অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এর উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিটি করপোরেশনের চলমান উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই আধুনিক জবাইখানা। প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইভস্টক বিশেষজ্ঞ বা ভেটেরিনারি সার্জনের মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এরপর হাতের স্পর্শ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়, জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এখানে চিলিং ও কোল্ড স্টোরেজ সুবিধার পাশাপাশি রক্ত ও দূষিত পানি পরিশোধনে পরিবেশবান্ধব ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ কমাতে সহায়তা করবে। জবাইখানাটি প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে। সম্পত্তি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাব-কমিটি সাময়িকভাবে রাজস্ব আদায় করবে। প্রতিটি ছাগল ও ভেড়া জবাইয়ে ২৫ টাকা এবং গরু ও মহিষে ১০০ টাকা আদায় হবে। উদ্বোধনে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ‘উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে’। বিস্ফোরণের একটি ভিডিওসহ এক লাইনের পোস্টে তিনি এ দাবি করেন, তবে হামলার পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রয়টার্স ভিডিওটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হতো। তাই দ্বীপটিতে হামলা হলে দেশটির তেল বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসতে পারে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দ্বীপটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে বলে লিখলেও কথিত হামলার দায়ী পক্ষ বা এর কোনো প্রমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত দেননি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রেভল্যুশনারি গার্ডের দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এটিকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা ঠেকানোর সীমিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান বলে জানায়। জবাবে ইরান জর্ডানে দুটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডান বলেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারির থাকার দাবি উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ দাবি সামনে আসে। ২৯ আগস্ট আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম ‘সর্বজনীন ঐক্য উদ্যাপন’ নামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানে ৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন এবং ৩০ দেশের ১৮০ জন ধর্মীয় নেতা ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। মোহন ভাগবত ছিলেন প্রধান বক্তাদের একজন; আলোচনার মূল বিষয় ছিল মানবিক ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ। তবে আরএসএসের মতাদর্শ ও ভাগবতের উপস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ হয়। আরএসএস অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন বলে পরিচয় দেয়। মাইজভান্ডারি কোন পরিচয়ে সেখানে ছিলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন কি না, বক্তব্য দিয়েছেন বা ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইব্রাহিম মিয়া দাবি করেন, তিনি আরএসএস প্রধানের কোনো অনুষ্ঠানে যাননি, তবে দেশের বাইরে আছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এসপি মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছে।
নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার ঢাকায় রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসিতে গিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের কাছে পাঠানো শোকবার্তা নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের হাতে তুলে দেন। শোক বইয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজা হারাল্ড পঞ্চমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নরওয়ের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমানের বার্তায় বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী, সরকার, জনগণ ও রাজপরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানানো হয়। বার্তায় রাজার দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, নরওয়ের জনগণের প্রতি নিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সংকটে জনগণের পাশে থাকার বিষয়টি স্মরণ করা হয়। এতে তার নেতৃত্ব, বিনয়, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ঐক্য, সহনশীলতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অবদানের কথাও বলা হয়। রাজা হারাল্ড পঞ্চম ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান; তিনি ১৯৯১ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তিস্তা ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতির বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে, যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন-চাহিদা এবং ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা উদ্বেগ একসঙ্গে জড়িত। ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এই করিডোরের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার এবং এটিই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থলসংযোগ। নিবন্ধটির মতে, তিস্তাকে এখন শুধু পানিবণ্টন বিরোধ হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। তিস্তা অববাহিকায় নদীভাঙন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, পলি জমা, বন্যা ও পানিসংকট তীব্র হওয়ায় নদী পুনরুদ্ধার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। চীনা অর্থায়নের প্রতিটি অবকাঠামো প্রকল্পকে কৌশলগত ষড়যন্ত্র বলা ঠিক নয়, তবে সংবেদনশীল ভৌগোলিক অঞ্চলে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করাকে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর স্বাভাবিক কার্যপদ্ধতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উদ্বেগসহ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে প্রস্তাবিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে আছে। নিবন্ধটি যৌথ নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস, পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জলবায়ু সহনশীলতা, সীমান্তপার যোগাযোগ ও কৌশলগত স্বচ্ছতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম দাবি করেছেন, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে তৎপর। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেলিমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত থেকে চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টা যানজট ছিল। এতে অ্যাম্বুলেন্সে আটকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় অনেক প্রবাসী নির্ধারিত উড়োজাহাজ মিস করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সেলিম বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। তাঁর মতে, সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তি, সংবাদপত্র, টিভি স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালালে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ তুলে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।