এনবিআর বিভাজন ইস্যুতে আন্দোলনের কারণে সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে ২ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনগুলো রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান করে ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। কর্তৃপক্ষ এ আচরণকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল বলে উল্লেখ করে। এটি সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কারও বেতন কয়েক ধাপ ও কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ডাদেশ মার্জনার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের নির্দেশ দেন। ফলে মূল বেতনে অবনমিতকরণসূচক লঘুদণ্ড বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকে কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তেহরানের চেয়ে ওয়াশিংটনের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করছে। রোববার বার্তা সংস্থা মেহেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কাছে ইরানি জনগণ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও নৌবহর ব্যবহার করে ইরানকে নতজানু করার ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্য দেখিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। মোহেবির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার বড় অংশ সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ভেবেছিল নৌবহর ও বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি ইরানকে পিছু হটতে বাধ্য করবে, কিন্তু তারা যতবার এগিয়েছে ততবারই কয়েক ধাপ পিছু হটতে হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থনৈতিক ঋণ এবং চীনসহ অন্য দেশের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের এক ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কয়েক ডলারের ব্যয় ও ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি কাঁচামাল ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত চাপে পড়েছে এবং কিছু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে দেশটি সমস্যায় পড়ছে।
এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর সকালে প্রকাশিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান রোববার সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফলাফলে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। পুনর্নিরীক্ষণের ফল কীভাবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে উৎসে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সমস্যা মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে সমন্বয় জোরদার ও কার্যক্রমে গতি আনাই এ সংস্থার উদ্দেশ্য। ইরানের অর্থনীতি উপমন্ত্রী মুর্তজা জামানিয়ান বলেছেন, ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থায়ন ও অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত এবং সমাধানে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে টাস্ক ফোর্সটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্ব ও এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারের বাইরে থাকা বিষয়গুলো সরকারের অর্থনৈতিক কমিশন ও অর্থনৈতিক সদর দপ্তরের মতো বৃহত্তর নীতিনির্ধারণী কাঠামোর মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। একাধিক সরকারি সংস্থার পদক্ষেপ দরকার এমন সমস্যা যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে, সেটিও টাস্ক ফোর্সের লক্ষ্য। কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও বর্তমান যুদ্ধের চাপে ইরানের অর্থনীতি রয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালে হজ পালনে যাওয়া নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সরাসরি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, বাড়িভাড়া সাশ্রয় এবং সার্ভিস চার্জ কমে যাওয়ায় হজ প্যাকেজের অর্থ থেকে এই সাশ্রয় হয়েছে। প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় শেষে থাকা অর্থ স্বচ্ছ উপায়ে হাজিদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। হজ প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী ফেরতের অঙ্ক ভিন্ন হবে। প্যাকেজ-১-এ হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা পর্যন্ত ফেরত মিলবে। প্যাকেজ-২-এর বিভিন্ন হোটেল ও আবাসন ব্যবস্থায় ফেরতের অঙ্ক ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর হোটেল নান্দার ওয়ানে থাকা প্রত্যেক হাজি পাবেন ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা। মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজে আগের বছরের তুলনায় বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল এবং ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা এবং বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং এসব নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, মুখ্য সচিব, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত এবং কথিত সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে লালমনিরহাটের কৃষকরা রোববার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগরে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের গোডাউনের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে তারা কর্মসূচি পালন করেন। কৃষকদের অভিযোগ, সারের চরম মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় তারা সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এতে ফসলের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সার সিন্ডিকেট ভাঙা ও প্রতিদিন পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবিতে তারা সড়কে নামেন। অবরোধে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের ইতিবাচক আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলায় সারের বাস্তব কোনো সংকট নেই; হাতীবান্ধার একটি ইউনিয়নে সার বিতরণের খবরকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
কলম্বিয়ার কাতাতুম্বো অঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে গেরিলাদের ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবারের এ হামলার দায় ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএনের বিদ্রোহীদের ওপর দেওয়া হয়েছে। এর আগে কর্তৃপক্ষ অন্তত দুইজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। অঞ্চলটির এক সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, হামলায় বিস্ফোরক বোঝাই অন্তত ২০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার নির্দেশে কাতাতুম্বোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার সঙ্গে লড়াই করছে। প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা এক্সে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা বা সেনা হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইএলএনের ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ ও বৈধ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোর্হে মোরা শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনসুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা জোরদার, ইএলএন ইউনিটের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়া এবং দায়ীদের শনাক্তে সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সংঘাতের পর কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়ায় দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৫২ হাজার ইরানি ক্রমবর্ধমান চাপ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন, তারা দুই দেশের সংঘাতের মাঝখানে পড়ে গেছেন এবং শান্তিতে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করতে চান। ইরান ও কুয়েতের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ায় এক ইরানি ব্যবসায়ী ইরানে থাকা মেয়ের কাছে ফিরতে পারছেন না। যুদ্ধের সংবেদনশীল প্রভাব সম্প্রদায়ের দৃশ্যমান জীবনেও পড়েছে। কুয়েত সিটির একটি পারস্য রেস্তোরাঁ চলতি বছরের শুরুতে নাম থেকে ‘ইরানিয়ান কুইজিন’ শব্দটি বাদ দিয়েছে, যদিও ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে যুদ্ধের কারণে এখনো ব্যবসার ক্ষতি হয়নি। ইরানিরা মাছ ধরার নৌকা, সবজির বাজার ও বেকারিতে কাজ করেন; অনেকে কাপড় ও কার্পেট ব্যবসায় জড়িত এবং ঐতিহাসিক মুবারাকিয়া বাজারে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধের আগে ২০২৪ সালে কুয়েত-ইরান বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ কোটি ডলার। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন বিপ্লবী গার্ড যোগাযোগ বা নাশকতার অভিযোগে অভিযান ও গ্রেপ্তার চালাচ্ছে এবং গত মাসে একমাত্র ইরানি স্কুল বন্ধ করেছে। স্থানীয় কয়েকজন কুয়েতি বলছেন, ইরানিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ইতিহাস ও সমাজের অংশ।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর চালানো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর, আইএসপিআর। রোববারের বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, নিহতরা ভারত-সমর্থিত ফিতনা আল-খারিজি গোষ্ঠীর সদস্য। আইএসপিআর জানায়, এর আগে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নিরাপত্তা বাহিনী ১৫ জনকে হত্যা করে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও সাতজন নিহত হয়। কোহাট ও দেরা ইসমাইল খান জেলায় পৃথক দুটি যৌথ অভিযানে আরও চারজন নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে আফগান তালেবান সরকার ব্যর্থ হওয়ায় সীমান্তে বারবার হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আইএসপিআর। এ কারণে পাকিস্তান অভিযান আরও জোরদার করেছে বলে জানানো হয়। এলাকায় আরও সন্ত্রাসী রয়েছে কি না, তা শনাক্তে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে গেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌঁছান। তাঁর দুই দিনের সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। বিকেলে জেলা স্কুল মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহিন বলেন, সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের বেশির ভাগই শিশুদের। জেইতুনে এখন নিহতদের গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে এবং লাশ নিয়ে শোকযাত্রার আয়োজনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে ওই এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বারবার হামলার পর নিহতদের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জেইতুনের কয়েকটি আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়। সেই হামলা থেকে বেঁচে পরে ভবনগুলোতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনও পরের কয়েক মাসে হামলার শিকার হন। দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে এলাকায় এখন দাফনের প্রস্তুতি চলছে সেখানে প্রায় তিন বছর ধরে হামলা অব্যাহত ছিল। প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় বা গণদাফনের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’-এর আহ্বান নতুন করে তুলেছেন। ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত রাজনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজার সংকটের বাস্তব সমাধান এ ছাড়া নেই। কাটজের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে একসময় স্থগিত থাকা গাজাবাসী সরানোর পরিকল্পনা বাতিল হয়নি; এতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাটজ বলেন, অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ইসরাইল সমুদ্র, আকাশ বা অন্য যেকোনো পথে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তার মতে, সবচেয়ে বড় বাধা অন্য দেশগুলোর গাজাবাসী গ্রহণে অনাগ্রহ। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসরাইল একটি বিশেষ দপ্তর গঠন করেছিল, যার ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় দেশে গাজাবাসীদের নিরাপদ ও তত্ত্বাবধানে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনায় উচ্ছেদের বদলে ফিলিস্তিনিদের গাজায় থেকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল এবং কয়েকটি আরব দেশ তা স্বাগত জানিয়েছিল। তবে সেনা প্রত্যাহার ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ইসরাইল-হামাস বিরোধে পরিকল্পনাটি আটকে আছে। ডানপন্থি ইসরাইলি রাজনীতিকেরাও গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি তুলেছেন। কাটজের বক্তব্যে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আমলে সিরিয়ায় একটি অঘোষিত গোপন পরমাণু কর্মসূচি চলছিল বলে নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থার তদন্তে পূর্ব সিরিয়ার দেইর আজ-জোর এলাকায় একটি অঘোষিত পরমাণু চুল্লি নির্মাণের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে জ্বালানি তৈরি ও সংরক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও চলছিল। অন্য একটি অঘোষিত স্থাপনায় প্রায় ৭৩ টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ধাতু মিলেছে, যার প্রায় ৫৫ টন জ্বালানি রডের আকারে ছিল। আইএইএ বলেছে, দেইর আজ-জোরে পাওয়া অবকাঠামো, বিশেষ করে শীতলীকরণ কাঠামো, পরমাণু চুল্লির অবকাঠামোর সঙ্গে স্পষ্টভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০৭ সালে ইসরাইলি বিমান হামলায় স্থাপনাটি ধ্বংস হয়। পরে তৎকালীন সরকার এলাকাটি সমতল করে এবং আইএইএকে পূর্ণাঙ্গ জবাব দেয়নি। ২০২৪ সালে সংগৃহীত নমুনায় পরে ইউরেনিয়াম কণা পাওয়া যায়। তদন্তে চুল্লির সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত আরও কয়েকটি স্থাপনার তথ্যও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সিরীয় সরকার সন্দেহজনক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে। আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেছেন। দামেস্ক জানিয়েছে, পরমাণু উপকরণ সিরিয়ার হেফাজতে থাকলেও আইএইএ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে থাকবে এবং তারা শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে ইরানের অবকাঠামোয় সামরিক হামলার দৃশ্য দেখানো একটি ভুয়া ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ভিডিওকে নিছক মিম ও রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে দেখা হবে, নাকি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তিনি ‘একটি বার্তা পাঠাচ্ছেন’। তবে ওই বার্তার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে উৎসে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বরং এই বক্তব্যকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কনটেন্টগুলোর নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উৎসে উদ্ধৃত আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও বাস্তব হুমকির ইঙ্গিত দেয় কি না, নাকি মূলত প্রচারণার অংশ—তা অন্য দেশগুলোকে নিজেরাই বোঝার চেষ্টা করতে হচ্ছে। ইরানের অবকাঠামোয় হামলার ভুয়া ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর এআই কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।