ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা করে জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা সহায়তা করা ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। শনিবার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, যারা ‘দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছে’ তাদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হবে। ইরানের আইনের ১৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিরোধিতায় জড়িত কোনো সংগঠনকে সহায়তা করলে, এমনকি সরাসরি অস্ত্র না ধরলেও, তাদের ‘মোহরেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। তেহরানের দক্ষিণে কাহরিজাক এলাকা থেকে পাঠানো ফুটেজে একাধিক মৃতদেহ দেখা গেছে বলে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে ডজনখানেক মৃতদেহ ছিল এবং কাছের একটি শিল্প শেডেও আরও মৃতদেহ পাওয়া গেছে। দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তারা অন্তত চল্লিশটির বেশি মৃতদেহ দেখেছেন।
৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া ‘জোরপূর্বক গুম সম্পর্কিত তদন্ত কমিশন’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, র্যাব, সিটিটিসি ও ডিজিএফআইসহ বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিক গুমের বিষয়ে অবগত ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আকবর হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর গুমের খবর জানিয়েছিলেন। একইভাবে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের গুম সম্পর্কে জানতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিএফআই ও সিটিআইবি কর্মকর্তারা ব্রিগেডিয়ার আজমির অননুমোদিত আটক অনুমোদন ও অব্যাহত রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাবেক র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়, জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব জানত যে ভুক্তভোগীরা তাদের হেফাজতে ছিলেন। সৈনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে আটক কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন, যা পরবর্তী সময়ে অজ্ঞতার দাবিকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে। প্রতিবেদনটি উপসংহারে জানায়, আটক সেলগুলো কর্মকর্তাদের অফিসের কাছাকাছি ও সিসিটিভির আওতায় থাকায় এসব কার্যক্রম সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনদের অজ্ঞতার দাবি অবাস্তব এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে টানা বিক্ষোভ চলছে, যা শুরু হয় ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে। ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের আশপাশে প্রথম বিক্ষোভ দেখা দেয় এবং পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরানি বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরান অভূতপূর্ব স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে ইরান বড় বিপদে রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করতে ইরানি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। অন্যদিকে ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগ কোনো সহনশীলতা দেখাবে না।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশ থেকে আটক ও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ৩ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে নয়টি সামরিক হেলিকপ্টার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। এই ঘটনাকে ‘ডেকাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে আকস্মিক সামরিক আঘাতের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ দ্রুত সমাধান নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার জন্ম দেয়। নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি হস্তক্ষেপ ও রেজিম চেঞ্জ প্রচেষ্টার মুখে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ বা সামরিকভাবে অপসারণ আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। প্রবন্ধে উপসংহারে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সংকটের সমাধান আসতে হবে সংলাপ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে। অন্যথায় এ ধরনের কৌশল দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
রাজধানী ঢাকার অন্তত পঞ্চাশটি এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই, ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব ঢাকনা চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রায় ৭৫ হাজার ম্যানহোলের মধ্যে ১০ শতাংশ সবসময় ঢাকনাবিহীন থাকে। শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়ই বছরে প্রায় চার কোটি টাকার ঢাকনা চুরি হয়, যা ভাঙারির দোকানে কম দামে বিক্রি করা হয়। ম্যানহোল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ঢাকনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন এবং পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিভিন্ন থানায় এ নিয়ে অর্ধ শতাধিক মামলা হলেও গ্রেপ্তার খুবই কম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরি হওয়া ঢাকনা পুনঃস্থাপন করা হলেও তা আবার চুরি হয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। চুরি রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিকল্প হিসেবে ফাইবারের তৈরি ঢাকনা বসানো শুরু করেছে ৬৬ ও ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে। বুয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এসব ঢাকনা লোহার মতোই শক্ত, খরচে কম এবং বিক্রি অযোগ্য হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আশা করছে এতে চুরির প্রবণতা কমবে ও জননিরাপত্তা বাড়বে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে ইতালি। নিজেদের দেশে একটি প্রাকৃতিক পিচও না থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের এই দলটি বৈশ্বিক মঞ্চে সেরাটা দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। যোগ্যতা অর্জন পর্বে সহজেই উত্তীর্ণ হয়ে তারা এখন র্যাংকিংয়ে ২৮তম অবস্থানে থেকেও বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চায়, ফুটবলপ্রধান দেশটির জন্য এটি এক নতুন অধ্যায়। ইতালির দলে রয়েছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া অলরাউন্ডার হ্যারি মানেন্তি ইতালির হয়ে খেলার গর্ব প্রকাশ করেছেন। যোগ্যতা পর্বে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জো বার্নস, তবে চুক্তি জটিলতায় তাকে সরিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়েইন ম্যাডসেনকে। দলে রয়েছেন এমিলিও গে, জাসপ্রিত সিং ও সৈয়দ নাকভির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। দলের কোচ জন ডেভিসন, যিনি একসময় দ্রুততম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির রেকর্ডধারী ছিলেন, বলেছেন যে ইতালির দলটি যেন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মতো বৈচিত্র্যময় হলেও জাতীয় দলের প্রতি তাদের ভালোবাসা গভীর।
২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশের পুলিশের অফিসিয়াল মাসিক প্রকাশনা ‘ডিটেকটিভ’ দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের সময়ে ক্ষমতাসীন মুজিব পরিবারের বন্দনা ও অতিভক্তির প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ বিশ্লেষণভিত্তিক পেশাদার প্রকাশনা হিসেবে শুরু হলেও এটি ধীরে ধীরে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রশস্তিমূলক লেখায় ভরে ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক কর্মকর্তা এই প্রকাশনায় অতিভক্তিমূলক লেখা প্রকাশ করে দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভের সুযোগ পেতেন। সমালোচকদের মতে, এই তোষণ সংস্কৃতি পুলিশের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক শপথকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ২০১৫ সালের পর থেকে ম্যাগাজিনে অপরাধ বিশ্লেষণ বা ফরেনসিক গবেষণার পরিবর্তে কবিতা ও প্রবন্ধে মুজিব পরিবারের প্রশস্তি স্থান পায়। যারা এতে অংশ নিতেন না, তারা পদোন্নতিতে বাধার মুখে পড়তেন, আর অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত উচ্চপদে উন্নীত হতেন। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেখা যায়, এই আনুগত্যভিত্তিক সংস্কৃতির সুফলভোগী অনেক কর্মকর্তা অবনমন, আইনি জটিলতা বা বিচার প্রক্রিয়ার মুখে পড়েছেন, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক তোষণ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা দেয়নি।
শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিভেদের কারণ না হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম কর্মসূচি। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অতীতের নির্যাতনের ঘটনাগুলো স্মরণ করেন। তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি এক লাখ নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভোকেশনাল শিক্ষার আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। ঢাকায় সম্ভাব্য পানি সংকট, সড়ক দুর্ঘটনা ও কৃষকদের প্রতিনিধিত্বহীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সব স্তরে নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং গণমাধ্যমের সমালোচনা যেন গঠনমূলক হয়। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ সম্পাদকরা উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শনিবার রাতে নির্জন সড়কে গুলিতে জামাল উদ্দিন (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে, কারণ স্থানটি জনবসতি থেকে দূরে এবং সেখানে কোনো সিসিটিভি ছিল না। রাত ৭টা ১০ মিনিটে হত্যাকাণ্ড ঘটে, কিন্তু পুলিশ খবর পায় ৭টা ৪১ মিনিটে। এর মধ্যেই নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলাতক সন্ত্রাসী নুরুল আজিম রনি রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে হত্যার খবর পোস্ট করেন, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে রনি কীভাবে এত দ্রুত খবর পেলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হয় ঘটনাস্থলে থাকা কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, নয়তো তিনি এমন একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যেখানে সহিংস ঘটনার তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রনির ফোনকল, মেসেঞ্জার ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। তার পোস্টে উল্লেখিত ‘৫ আগস্টের পর কর্মকাণ্ডের অভিযোগ’ সম্পর্কেও যাচাই চলছে। এলাকাবাসীর মতে, জামাল উদ্দিন অতীতে জামায়াত–শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় ছিলেন কি না তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। পুলিশ রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে’ আয়োজিত এই মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা চারমাথায় এসে শেষ হয়। পরে ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের পাশে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সম্মুখযোদ্ধা, যিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, কুচক্রী মহল তার এই আদর্শ বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তারা আরও দাবি করেন, হত্যাকারীরা একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিরাপদে রয়েছে। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হাদি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম ইন্নার বাড়িতে শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। রাত ৯টার দিকে তিনজন যুবক মোটরসাইকেলে এসে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার দিয়ার ধানগড়া মহল্লায় অবস্থিত তার বাড়িতে দুটি পেট্রোল বোমা ছোড়ে। এতে বাড়ির লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং পরে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্তে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
নেত্রকোণার চল্লিশা এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় দুই অটো রাইস মিল শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিজিকান্দা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে রাসেল ইসলাম (২৫) এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ছোট বাউল গ্রামের সন্তোষ রায়ের ছেলে আকাশ রায় (২৪)। তারা প্রায় এক বছর ধরে চল্লিশার জীবন কুমার সাহার মালিকানাধীন “তমাল তন্ময়” অটো রাইস মিলে কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসেল ও আকাশসহ কয়েকজন সহকর্মী রেললাইনের পাশে হাঁটতে গিয়ে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শ্রদ্ধানন্দ নাথ তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তাদের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শ্যামগঞ্জ জিআরপি ফাঁড়ির এসআই নূরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা মো. সুমন (৩৯) কে আটক করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোড়ামারা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পূর্বে চুরি হওয়া চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আটক সুমন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চরপাগলা ফরাজি বাড়ির মৃত আলী হোসেনের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টুটন ঘোষের ব্যবহৃত ১১০ সিসি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জেলা পুলিশের সহযোগিতায় সুমনকে আটক করা হয়। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) সুমনকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চুরি দমনে পুলিশের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ২৬ নম্বর নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আই-ব্লকে শুক্রবার মধ্যরাতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, নিহতের নাম নুর কামাল (২৫), তিনি একই ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে। পুলিশ জানায়, নুর কামাল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন এবং নিজের নামে একটি বাহিনী গঠন করে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তার সঙ্গে খালেক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ঘটে। এতে নুর কামাল গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জড়িতরা পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে শুরু করবেন। বিএনপি সূত্র জানায়, তিনি প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং পরে সুনামগঞ্জে জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম ঢাকার বাইরের সফর এবং ১৯ বছর পর তিনি সিলেট যাচ্ছেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বিএনপির প্রথা অনুযায়ী মাজার জিয়ারতের পর তারেক রহমান সরাসরি সুনামগঞ্জে যাবেন এবং বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াও প্রচারণার আগে ওলি-আওলিয়ার মাজার জিয়ারত করতেন, সেই ধারা অব্যাহত রাখছেন তারেক রহমান। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জানান, তারেক রহমান সুনামগঞ্জের বালুর মাঠে প্রধান জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এবং ফেরার পথে শান্তিগঞ্জ, ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট ও বিশ্বনাথের লামাকাজী পয়েন্টে পথসভায় অংশ নেবেন। ঢাকা ফেরার পথে হবিগঞ্জেও একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।